Main Menu

কোম্পানীগঞ্জে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে নৌ-ধর্মঘট

কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) সংবাদদাতা: কোম্পানীগঞ্জে নৌপথে চলাচলকারী নৌযান থেকে চাঁদা আদায় ও যাত্রী হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাস-দেড়েক ধরে একটি চক্র এ অপকর্মটি করে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর প্রতিবাদে রোববার ভোর থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছে কোম্পানীগঞ্জের নৌ শ্রমিকরা। তাছাড়া শ্রমিকদের পক্ষ থেকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে, ধর্মঘটের কারণে সিলেট, ছাতকসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রী সাধারণ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতি বর্ষা মৌসুমে কোম্পানীগঞ্জের থানাবাজার, টুকেরবাজার, বুধবারীবাজার ও দয়ারবাজার নৌঘাট থেকে নৌযান দিয়ে সিলেট ও ছাতকসহ উপজেলার বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রী পরিবহন করা হয়। চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে এসব ঘাট থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌযান ও স্পীড বোট দিয়ে যাত্রী পারাপার শুরু হয়। সড়কপথ খারাপ হওয়ায় এ বছর নৌ পথই হয়ে উঠে এ অঞ্চলের যোগাযোগের ভরসা। সড়কপথের দুর্ভোগের কথা ভেবে সিলেটসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যেতে লোকজন ইঞ্জিনচালিত নৌযান ও স্পীড বোটের ওপর ভরসা করতে থাকেন। এ সুযোগে সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের উমাইরগাঁও ও দুকড়ি গ্রামের একটি চাঁদাবাজ চক্র নৌযান আটকে চাঁদা আদায়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে। কোম্পানীগঞ্জ এবং বাদাঘাট ছেড়ে উমাইরগাঁও-দুকড়ি ঘাট অতিক্রমকালে ১০০ টাকা করে চাঁদা গুণতে হয় নৌযান শ্রমিকদের। অন্যথায় ঘাটে নৌকা আটকে রেখে যাত্রী হয়রানিসহ নৌ-শ্রমিকদের মারধর পর্যন্ত করা হয়। বিষয়টি শ্রমিকদের পক্ষ থেকে সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যানকে অবগত করা হয়েছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম অব্যাহত থাকায় রোববার সকাল থেকে ধর্মঘট পালন শুরু করে কোম্পানীগঞ্জের নৌ শ্রমিকরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী-সাধারণ।
ধর্মঘটের কথা জানেন না- এমন অনেক যাত্রী সকাল থেকে বিভিন্ন ঘাটে গিয়ে নৌযান না পেয়ে পড়েন দুর্ভোগে।
সিলেট থেকে কোম্পানীগঞ্জগামী যাত্রী রফিক জানান, সকাল ৮টার দিকে তার নৌকায় রওয়ানা হওয়ার কথা। সাড়ে সাতটার দিকে বাদাঘাটে এসে নৌকা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান সিলেট শহরে। পরে ৯টার দিকে আম্বরখানা থেকে সিএনজি অটোরিক্সাযোগে রওয়ানা করেন। কোম্পানীগঞ্জে যখন পৌছেন, তখন ঘড়িতে বেলা পৌনে ১টা। তিনি জানান, ‘সড়কের অবস্থা বেহাল জেনেই নৌকায় আসতে চেয়েছিলাম। ধর্মঘটের কারণে পৌনে চার ঘন্টা সময় ব্যয় করে গন্তব্যে পৌছলাম।’

Share





Related News

Comments are Closed