Main Menu

উত্তর বিশ্বনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি

বিশ্বনাথ (সিলেট) সংবাদদাতা: বিশ্বনাথ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী উত্তর বিশ্বনাথ দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে চলছে ছিনিমিনি খেলা। বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে কোমলমতি শিশুদের জীবন ধ্বংস করা হচ্ছে। এখানে অনিয়ম-দুর্নীতি এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়ন, লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিত বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তাতে বাধা দেয়া হয়। অর্থের বিনিময়ে সকল অনিয়ম-দুর্নীতি ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ১০ম শ্রেনীর প্রাক-নির্বাচনী ও অষ্টম শ্রেণীর অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষায় ইংরেজি ১ম পত্রের প্রশ্ন ফাঁস করে দেয়া হয়। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক প্রভাংশু শেখর তালুকদারের নিকট প্রশ্নপত্র জমা ছিল বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়। তিনি যেসব শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ান বা যাদের অভিবাবকদের সাথে সু-সম্পর্ক রয়েছে তাদেরকে গাইড বইয়ের প্রশ্নপত্র ফটোকপি করে দিয়ে দেন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে গেলে অভিবাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত এ বিদ্যালয়ে প্রায়ই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে। কিন্তু এসব গুজব বলে উড়িয়ে দেয়া হয়। গত ২০ আগস্ট শনিবার বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের এক বৈঠকে প্রশ্নপত্রে ফাঁসের ঘটনাটি প্রমাণিত হয়। অন্যান্য শিক্ষকগণ প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষককে এজন্যে দায়ী করেন। প্রভাংশু শেখর তালুকদার সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক হলেও তিনি কৌশলে ইংরেজি বই পড়ান। উক্ত শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না ক্লাসও করান না। কোন শিক্ষক টু শব্দ করলে তাঁর হাতে লাঞ্চিত ও অপমানিত হতে হয়।

প্রায় ২ বছর পূর্বে প্রভাংশু শেখর তালুকদার বিদ্যালয়ের মসজিদকে ‘গুদামঘর’ বোরকা পড়া ও ধর্ম নিয়ে কটুক্তি ও তাঁর অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন এবং মিছিল সমাবেশ করে এলাকাবাসীর তোপের মুখে এখন তিনি কামালবাজারে বসবাস করছেন। উক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোললে শিক্ষকদের চাপের মুখে বিয়ে করতে বাধ্য হন। প্রধান শিক্ষক দরবেশ আলীর দুর্বলতার কারণে ঐ শিক্ষকের দাপট চরমে পৌঁছেছে। প্রধান শিক্ষক দরবেশ আলী দায়িত্ব-কর্তব্যে চরম অবহেলা রয়েছে। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক পাঠ্যসূচী সময়মত শেষ হয় না। ফলে প্রতি বছর বিদ্যালয়ের ফলাফলে গুনগত মান বাড়ছে না। প্রায় বছরখানেক পূর্বে প্রধান শিক্ষককে শারিরীক অযোগ্য মনে করে তার আত্মীয়স্বজনরা তাকে অব্যাহতি দিয়ে বাড়িতে নেয়ার চেষ্টা করলে জনৈক সদস্য অর্থের বিনিময়ে তাকে রেখে দেন।

সরেজমিনে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য শিক্ষার্থী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, বিদ্যালয়ের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী থাকলেও সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক লেখাপড়া বা নিয়মিত ক্লাস না করায় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবন ধবংস করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, কলেজ পড়–য়া একজন শিক্ষার্থী কান্নাজড়িত কন্ঠে জানায় কলেজ জীবনে গিয়ে বুঝতে পেরেছি জিপিএ-৫ এর মূল্য কতটুকু। আমাদের সঠিকভাবে তৈরি না করায় শিক্ষাজীবন বলতে এখন অচল।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিচালনা কমিটির সভাপতি তাজ উদ্দিন খাঁন জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি ছাত্র, অভিবাবক ও শিক্ষকদের নিকট থেকে জানতে পেরেছি। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য কমর উদ্দিন খাঁন ফটিকের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে উলে­খ করেন।

Share





Related News

Comments are Closed