Main Menu

বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই ডাইরিয়ার ওষুধ

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি: সরকার প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ দেশের সকল মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু এর উল্টোপথে রয়েছেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসকরা।
ওই উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্য সেবার জন্য ১৯৮৬ সালে সরকার উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের কাদিপুর নামক স্থানে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করে। বর্তমানে ওই কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উত্তীর্ণ করা হচ্ছে বলে কর্মরতরা জানান। যেখানে ডায়রিয়া রোগেরও ওষুধ পাওয়া যায় না! তার নাম হচ্ছে বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্স। আবার টাকা দিলে ওষুধ মেলে এমন অভিযোগও অনেক পুরাতন। এতে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর অনাস্থা রয়েছে ভুক্তভোগীদের। আর এই অনাস্থার জন্ম নেয়ায় রোগীদের নিয়ে অভিভাবকরা ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে সময় নষ্ট না করে সিলেটের হাসপাতালে চলে যান। তাই কর্মরতরা নিজেদের ইচ্ছে মতো ডিউটিতে যাওয়া আসা করতে পারেন। কর্মরতরা কৌশলে রোগীদের সঙ্গে অশুভ আচরণ, হাসপাতালে ওষুধ নেই বলে রোগীদের সঙ্গে টালবাহানা আর এক শিশুর ওষুধ তিন শিশুকে ব্যবহারের কথা বলায় জনমনে এমন অনাস্থার জন্ম নিয়েছে। হাসপতালে কর্মরতদের এমন দায়িত্ব অবহেলার কারণে দিন দিন রোগী শুন্য হয়ে পড়ছে হাসপাতাল।
হাসপাতালে গেলে দেখা যায় হাতেগুনা দু’একজন শ্বাসকষ্ট রোগী রয়েছেন। তাও এসকল রোগীরা একেবারে গরীব ও মৎস্যজীবি এলাকার। তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায় অনেক কষ্ট করে এবং নিরুপায় হয়ে তারা শিশুদের নিয়ে ভর্তি আছেন। টাকা থাকলে হয়তো বা তারাও অন্যদের মতো জেলা শহরের কোনো হাসপাতালে চলে যেতেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গত ১৫ই আগস্ট ভোর ৫টায় এক স্কুল ছাত্রীকে ডায়রিয়া রোগের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান তার অভিভাবক। ওই ছাত্রী ভর্তি হওয়ার পর কর্তব্যরতরা বলেন শরীরে পোষ করার ডায়রিয়ার স্যালাইন ও ইনজেকশন নেই। বাহির থেকে নিয়ে আসতে হবে। এসময় ওই অভিভাবক ক্ষুব্ধ ও নিরুপায় হয়ে একটি স্যালাইন ও একটি ইনজেকশন ফার্মেসী থেকে ক্রয় করে আনেন। আর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শুধু খাওয়ার স্যালাইন আর কয়েকটি পেট ব্যথার ট্যাবলেট দেয়া হয়।
ওই দিন সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় আড়াই মাসের কন্যা শিশু তানিয়া বেগম, ১১ মাসের মুজম্মিল আলী ও ৩ বছরের নাসিমা বেগম নামের তিন শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। তাদের মায়ের সঙ্গে আলাপ করলে জানা যায় এক শিশুর সিরাপ তিন শিশুকে ভাগ করে খাওয়ার জন্য বলেছেন ডাক্তার। তারা আরও জানান এর আগের দিন (১৪আগস্ট) তিনজন রোগীর কাছ থেকে নগদ ১শত ও ১৫০টাকা করে নিয়ে স্যালাইন পোষ করা হয়েছে। তার পাশাপাশি ওই দিন সকালে ৮০ বছরের বৃদ্ধা রেহেনা বেগম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। তিনি ভর্তির পর কর্তব্যরত ডাক্তার প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লিখে বাহির থেকে ক্রয় করে এনে খাওয়ার কথা বলেন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত আর কোনো ডাক্তার ওয়ার্ডে যাননি।
এব্যাপারে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার বিভাষ চন্দ্র মাণী সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, শরীরে পোষ করার ডায়রিয়ার স্যালাইন না থাকারতো কথা নয়। আচ্ছা বিষয়টি দেখছি বলে ফোন রেখে দেন।

Share





Related News

Comments are Closed