Main Menu

তাহিরপুরে প্রাথমিকে ৬১ প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য

হাবিব সরোয়ার আজাদ: সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল ও সীমান্তঘেষা তাহিরপুর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একাধিক প্রধান শিক্ষক এবং সহকারি শিক্ষকের পদ বছরের পর বছর ধরে শুন্য থাকায় ঐ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর দৈনন্দিন পাঠগ্রহন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মঞ্জুরীকৃত পদের চেয়ে কর্মরত শিক্ষকের পদ যেমন শুন্য রয়েছে তেমনি কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও ঐ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনের তুলনায় মঞ্জুরীকৃত শিক্ষকের পদ সংখ্যাই কম। এর ফলে শিক্ষা অফিসে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কার্যক্রম করতে গিয়ে শিক্ষকদের নানা হয়রানীর সাথে ঘুষ, দুর্নীতির শিকার হতে হচ্ছে। শিক্ষক স্বল্পতার কারনে পাঠদান কার্যক্রম চালাতে গিয়ে শিক্ষকদের এমনিতেই হিমশিম থেতে হচ্ছে উল্টো শিক্ষা অফিসে চলে নানা হয়রানী ও ঘুষ দুর্নীতি। এ অবস্থায় অনেকটা ভেঙ্গে পড়েছে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও সরেজমিনে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ৭ ইউনিয়নে ১৩৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ১৩৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মঞ্জুরীকৃত প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে ১৩১টি। দু’টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদই সৃজন করা হয়নি। মঞ্জুরীকৃত প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে ৭০ জন প্রধান শিক্ষক কর্মরত থাকলেও ৬১ জন প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য পড়ে আছে কয়েক বছর ধরে।
অপরদিকে ১৩৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মঞ্জুরীকৃত সহকারি শিক্ষকের পদ রয়েছে ৫৮৪ জন। এর মধ্যে ৬৮ সহকারি শিক্ষকের পদ শুন্য পড়ে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে। অভিযোগ রয়েছে তদবীর আর ডেপুটেশন বাণিজ্যের বদৌলতে বেশ কয়েকজন সহকারি শিক্ষক নিজের সুবিধামত জেলা সদর সহ অন্যান্য কিছু প্রতিষ্ঠানে ডেপুটেশন নিয়ে চলে গেছেন।
উপজেলার বাদাঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা রয়েছে ৮০২ জন। শিক্ষক রয়েছেন ৯ জন। অতিরিক্ত আরো একজন প্যারা শিক্ষক নেয়া হয়েছে। এই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি টানা কয়েক বছর ধরে জিপিএ-৫ ও বৃক্তিপ্রাপ্তির সংখ্যার দিক দিয়ে উপজেলার শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্থান অর্জন করে আসছে। তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় কমপক্ষে আরো ৬জন সহকারি শিক্ষকের পদ সৃজন করলে শিক্ষার মান বৃদ্ধির পাশাপাশী শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রমে আরো গতি আসতো। বর্তমানে শিক্ষক স্ল্পতার কারনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ১২টি শাখায় পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
এদিকে উপজেলার মাড়ালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে মাত্র একজন সহকারি শিক্ষক দিয়ে। সহকারি শিক্ষক অজয় কুমার সরকার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশী পাঠদান কার্যক্রমও একাই চালিয়ে যাচ্ছেন।
মধুয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদলী হয়ে চলে গেছেন জেলা সদরের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আয়েশা বেগম ও সহকারি শিক্ষক তানজিনা আক্তারও চলে গেছেন মাতৃত্ব জনিত ছুটিতে এখন দু’শিক্ষক দিয়েই চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম।
উপজেলার পুরান লাউড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ এমন ৬১টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে বছরের পর বছর ধরে। এ অবস্থায় উপজেলায় সব ক’টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২২ হাজার ৮শ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রতিদিন কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলার সোহালা ও ঘাগটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম উন্নীত হলেও অবকাঠামোগমগত সমস্যা রয়েছে ঐ দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, শিক্ষক স্বল্পতার কারনে দাপ্তরিক কাজে উপজেলা শিক্ষা অফিসে গিয়ে ফিকসেশন, টাইমস্কেল, ফাইল রেডি, শিক্ষা অফিসারের সিল দেয়া, সত্যায়িত করন ও বদলীর অর্ডার ডিপিও অফিসে প্রেরণ এবং নানা দাপ্তরিক কাজে অফিসের নিন্মমান সহকারি আজহার উদ্দিনকে ১শ থেকে সর্ব্বোচ্চ হাজার টাকা উৎকোচ না দিলে ১০ মিনিটের কাজে ৩ থেকে ৪দিন দাপ্তরিক কাজ আটকে রেখে শিক্ষকদের ৪ থেকে ৫শ টাকা যাতায়াত খরচ করিয়ে বার বার শিক্ষা অফিসে যেতে বাধ্য করেন। হাতে টাকা না পেলে ঐ নিন্মমান সহকারি কোন শিক্ষকের মুখের দিকেই থাকান না। তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আজাহার উদ্দিন বলেন, আমি জোর করে কারো নিকট থেকে টাকা নেই না, যে যা খুশী হয়ে দেয় তাই নেই।
উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক গোলাম সারোয়ার লিটন বলেন, খুব দ্রত সময়ের মধ্যে শিক্ষকের শুন্য পদ গুলো পুরণ করা দরকার। অন্যথায় হাওরাঞ্চল ও সীমান্তঘেষা এ উপজেলায় শিক্ষার মান নিন্মমুখী হওয়ার পাশাপাশী ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) গোলাম রাব্বী জাহান জানান, শিক্ষক নিয়োগকালে অন্য বিভাগ-জেলা থেকে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হলেও পরবর্তীতে শিক্ষকরা নিজের সুবিধামত নিজ নিজ জেলায় বদলি হয়ে নিজের সুবিধামত স্থানে চলে যান। এর ফলেই শিক্ষকদের পদশুন্য হচ্ছে।

Share





Related News

Comments are Closed