রাগীব আলীকে তারাপুরে অবাঞ্চিত ঘোষণা
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: আলোচিত শিল্পপতি রাগিব আলীকে তার দখল সাম্রাজ্য তারাপুর এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।
ভূমি আত্মসাতের আলোচিত দুই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি রাগীব আলী ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর ক্ষোভে-বিক্ষোভে ফুঁসছে তারাপুর এলাকাবাসী। প্রতারণার মাধ্যমে দখলকৃতজমি তাদের কাছে বিক্রি করে তাদের বিপদে ফেলে পালিয়ে যাওয়ায় রাগীব আলীকে তারাপুর এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে তারাপুরবাসী।
রাগীব আলীর অবৈধ স্থাপনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের নোটিশ যাওয়ার পর রবিবার (১৪ আগস্ট) সকালে ‘আমরা সিলেটবাসী’ নামক একটি সংগঠনের ব্যানারে নগরীর পাঠানটুলা পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। ওই অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা রাগীব আলীর জালিয়াতির কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন উল্লেখ করে ক্ষতিপূরণের দাবি জানান, একই সঙ্গে তারা কথিত এ দানবীরকে তারাপুরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে করেরপাড়া এলাকার বাসিন্দা সিতিল দে বলেন, “রাগীব আলী আমাদেরকে পথে বসিয়ে পালিয়ে গেছে। সে একজন প্রতারক, তাকে আমরা আজ থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি।” এসময় তারা ক্ষতিপূরণের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।
আবদুর রাজ্জাক খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সামসুদ্দিন খান, জালাল আহমদ, ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলার জগদিশ চন্দ্র দাশ, বর্তমান কাউন্সিলার ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছ, রেবেকা বেগম রুনু, শ্রমিক লীগ নেতা এম. শাহারিয়ার কবীর সেলিম, যুবলীগ নেতা সেলিম আহমদ সেলিম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, সিলেটের তারাপুর চা বাগানের দেবোত্তর সম্পত্তিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার ভূমি আত্মসাতের আলোচিত দুটি মামলায় বুধবার (১০ আগস্ট) রাগীব আলীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এরপরই কোনো এক সময়ে রাগীব আলী সপরিবারে ভারত পালিয়ে যান। রাগীব আলীর ভারতে যাওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করতে গিয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (মিডিয়া) সুজ্ঞান চাকমা গত শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, রাগীব আলী ভারতে পালিয়ে গেছেন, এর সত্যতা পাওয়া গেছে।
প্রসঙ্গত, ৪২২ দশমিক ৯৬ একর জায়গায় গড়ে ওঠা তারাপুর চা-বাগান পুরোটাই দেবোত্তর সম্পত্তি। ১৯৯০ সালে ভুয়া সেবায়েত সাজিয়ে বাগানটির দখল নেন রাগীব আলী। গত ১৯ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে হাইকোর্টের আপিল বিভাগের এক বেঞ্চ তারাপুর চা-বাগান দখল করে গড়ে ওঠা সব স্থাপনা ছয় মাসের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। রায় বাস্তবায়ন করতে সিলেটের জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়। ১৫ মে চা বাগানের বিভিন্ন স্থাপনা ছাড়া ৩২৩ একর ভূমি সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে বুঝিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন।
Related News
দক্ষিণ সুরমায় ছুরিকাঘাতে বৃদ্ধকে হত্যা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ছুরিকাঘাতে নূর ইসলাম (৫৫) নামে এক বৃদ্ধকে হত্যা করাRead More
ব্যবসায়ীদের অস্তিত্ব রক্ষায় সিলেটে বাণিজ্য মেলা বন্ধের দাবি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট, তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট (লোডশেডিং) ও ব্যবসায়িক মন্দার মধ্যে সিলেটেRead More



Comments are Closed