রাগীব আলীর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: গ্রেফতার এড়াতে সপরিবারে শিল্পপতি রাগীব আলী ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সংবাদে পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনা অনুসন্ধানে পুলিশের একটি দল শুক্রবার সকালে সিলেট থেকে জকিগঞ্জে যায়। সেখানে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে গিয়ে রাগীব আলীর পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় পুলিশ।
সিলেটের তারাপুর চা বাগানের দেবোত্তর সম্পত্তিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার ভূমি আত্মসাতের আলোচিত দুটি মামলায় গত বুধবার রাগীব আলীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এরপরই কোনো এক সময়ে রাগীব আলী সপরিবারে ভারত পালিয়ে যান বলে জানা যায়।
গত বুধবার (১০ আগস্ট) সকালে সিলেটের মহানগর চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান হিরু রাগীব আলী, তাঁর পুত্র, কন্যা, জামাতা সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আত্মগোপনে চলে যায় রাগীব আলী পরিবার। এরপর বৃহস্পতিবার দিনভর সিলেটে রাগীব আলী পরিবারের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন উঠলেও দায়িত্বশীলদের কেউ এ নিয়ে মন্তব্য করেননি। রাগীব আলীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, রাগীব আলী সপরিবারে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সংবাদে নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। শুক্রবার (১২ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (মিডিয়া) সুজ্ঞান চাকমার নেতৃত্বে একটি দল জকিগঞ্জে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে গিয়ে এর তদন্ত কাজ চালায়। তারা জকিগঞ্জের কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
এ প্রসঙ্গে সুজ্ঞান চাকমা সাংবাদিকদের বলেন, রাগীব আলী ভারতে পালিয়ে গেছেন, এর সত্যতা পাওয়া গেছে। এটা নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি আইনজীবীদের মাধ্যমে আগেভাগে টের পেয়ে বুধবারই পালিয়ে যান রাগীব আলী। তাঁর সঙ্গে ছেলে আবদুল হাই, আবদুল হাইয়ের স্ত্রী ও ছেলে এবং তার (রাগীব আলী) বাংলোর দুই শিশুও রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ৪২২ দশমিক ৯৬ একর জায়গায় গড়ে ওঠা তারাপুর চা-বাগান পুরোটাই দেবোত্তর সম্পত্তি। ১৯৯০ সালে ভুয়া সেবায়েত সাজিয়ে বাগানটির দখল নেন রাগীব আলী। গত ১৯ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে হাইকোর্টের আপিল বিভাগের এক বেঞ্চ তারাপুর চা-বাগান দখল করে গড়ে ওঠা সব স্থাপনা ছয় মাসের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। রায় বাস্তবায়ন করতে সিলেটের জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়। ১৫ মে চা বাগানের বিভিন্ন স্থাপনা ছাড়া ৩২৩ একর ভূমি সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে বুঝিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন।
Related News
সিলেটের তামাবিল হাইওয়ে পুলিশের চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে পর্যটকদের হয়রানি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সিলেট হাইওয়েRead More
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে : এমপি লুনা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, একটি শিক্ষিত ওRead More



Comments are Closed