লন্ডনী বরের সাথে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীর বিয়ে, অতঃপর…
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে স্কুলছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের ইলামেরগাঁও গ্রামের তরিক উল্লা মেয়ে সুলতানা বেগম (১৪) ও একই গ্রামের শরিফ আলীর ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ওসমান গণি (১৮) সঙ্গে বিয়ের দিন ধার্য ছিল। সুলতানা বেগম স্থানীয় শহীদ জিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী। এমন খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন শুক্রবার সকালেই বিয়ের সকল আয়োজন ভেঙে দেয়। শুক্রবার দুপুরে বরও কনের পক্ষের লোকজন থানায় এসে বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছেন বলে অঙ্গিকার নামা দিয়েছেন।
বিশ্বনাথ থানার ওসি অবাল্যবিবাহ আব্দুল হাই বাল্য বিবাহ বন্ধ করে দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ইলামেরগাঁও গ্রামের তরিক উল্লার স্কুলপড়ুয়া মেয়ে সুলতানা বেগমের সঙ্গে ও একই গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী শরিফ উল্লার ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ওসমান গণির সঙ্গে গত সপ্তাহে বিয়ের দিনধার্য করেন।
শুক্রবার উপজেলা সদরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। কনে ও বরপক্ষ বিয়ের সকল আয়োজনও সম্পন্ন করে। সংবাদটি বিভিন্ন ভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাশহুদুল কবীর ও থানার ওসি আবদুল হাইকে জানানো হয়। পরে তাদের নির্দেশে থানার এস অাই তোফাজ্জুল হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ শুক্রবার সকালে কনের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের সব আয়োজন বন্ধ করে দেন। পুলিশ বর, কনের পক্ষের লোকজনকে থানায় আসার কথা বলে আসে। পুলিশের কথামতো বর ও কনের পক্ষের লোকজন থানায় এসে বাল্যবিবাহ না দেয়ার অঙ্গিকার করেন। ফলে অবশেষে বাল্যবিবাহ অভিশাপ থেকে মুক্তি পেল স্কুলছাত্রী সুলতানা বেগম।
এদিকে, উপজেলায় যখন বাল্য বিবাহমুক্ত ঘোষনা করার প্রক্রিয়া চলছিল। এমন সময়ে বাল্যবিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করার সংবাদে হতভাগ এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার উপজেলার দুটি ইউনিয়নকে বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষনা করা হয়। এর আগে উপজেলার আরও চারটি ইউনিয়নকে বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষনা করা হয়েছিল। বাকি দুটি ইউনিয়নকে শিগগিরই বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষনা করা হবে। এর পরপরই উপজেলাকে বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষনা করার কথা রয়েছে বলে জানা যায়।
বাল্যবিবাহ বন্ধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাশহুদুল কবির বলেন, সংবাদ পেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্য বিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। আর কেউ এভাবে বাল্য বিবাহের আয়োজন করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।
থানার ওসি আবদুল হাই বলেন, বাল্য বিয়ে ভেঙে দেয়া হয়েছে। বর এবং কনের পক্ষের লোকজন থানায় এসে বাল্যবিবাহ না দেয়ার জন্য অঙ্গিকার নামা করেছেন। উপজেলায় কোনো অবস্থাতে বাল্য বিবাহ হতে দেয়া হবে না বলে তিনি জানান।
কনের পিতা তরিক উল্লা বলেন, বিয়ের সকল আয়োজন বন্ধ করা হয়েছে। বাল্য বিবাহ না দেয়ার জন্য থানায় অঙ্গিকার নামা করেছি।
Related News
সিলেটের তামাবিল হাইওয়ে পুলিশের চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে পর্যটকদের হয়রানি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সিলেট হাইওয়েRead More
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে : এমপি লুনা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, একটি শিক্ষিত ওRead More



Comments are Closed