Main Menu

কক্সবাজার সৈকতে বিলুপ্তির পথে কাকড়া ও কচ্ছপ

অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সবাজার থেকে: এককালে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকরা সৈকতে নেমে চোখে পড়তো লাখ লাখ টকটকে লাল কাকড়া। মনে হতো কক্সবাজারে বেড়াতে আসা অতিথিদের লাল গালিচা সংবর্ধনা দিচ্ছে সৌন্দর্য্যের প্রতিক লাল কাঁকড়ার দল। স¤প্রতি অর্থলোভী ও পরিবেশ বিরোধী কিছু ব্যবসায়ীরা অর্থের বিনিময়ে সৈকতে ব্যবসার উদ্দেশ্যে ঘোড়া ও বীচ বাইকের বেপরোয়া গতিতে চলাচলের পাশাপাশি কাকড়া হত্যাসহ পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকান্ড শুরু করায় হারিয়ে যাচ্ছে অপূর্ব সুন্দর লাল কাকড়া।
কয়েক বছর আগেও সমুদ্র সৈকতে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা সমুদ্র সৈকতে নেমেই দেখতে পেতো লাল কাঁকড়ার ঝাঁক। সেই সব কাঁকড়া এখন আর দেখা যায় না। তাই পর্যটক ও প্রকৃতি প্রেমিদের মনে দেখা দিয়েছে হতাশা। আর এ ব্যাপারে পরিবেশ সংগঠনসহ সরকারের যেন কোনো মাথা ব্যথাই নেই বলে অভিযোগ করেন সচেতন মহল ও পর্যটকরা।
এদিকে কিছু অর্থলোভী ব্যবসায়ীরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সমুদ্র সৈকত জুড়ে বাণিজ্যিকভাবে বিচ বাইকের বেপরোয়া চলাচলের পাশাপাশি শব্দ দূষণ এবং অবৈধভাবে মাছের পোনা আহরণ ও কিটকট চেয়ার ও ছাতা বসানোর পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকান্ডে হারিয়ে যাচ্ছে পরিবেশের পরম বন্ধু লাল কাঁকড়া।
একই কারণে হুমকির মুখে পড়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বিলুপ্ত প্রায় কাছিম। তীরে ডিম পাড়তে এসে পরিবেশ বিধ্বংসী বিচ বাইক ও ঘোড়ার পায়ে পিষ্টসহ বিভিন্নভাবে মারা যাওয়া কিছু মৃত কাছিম সেখানে নজরে পড়ে প্রতিদিন। দেশের সৈকত রানী হিসাবে খ্যাত কক্সবাজার-টেকনাফের দীর্ঘ ১২০ কিলোমিটার বিস্তৃত সৈকতে সাগরের তলদেশের ঝাড়ুদার হিসাবে পরিচিত বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক কাছিম বালুচরে ডিম পাড়তে আসা কমিয়ে দিয়েছে। অনেকে বলছে, সমুদ্রে ওসব কাছিমের সংখ্যা কমে গেছে। এতে সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য্যের পাশাপাশি ক্ষতি হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশের। সৈকত তীরের সৌন্দর্য রক্ষার্থে থাকা এসব জীব বৈচিত্র বিলুপ্ত হওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে পর্যটন শিল্পে। ফলে কক্সবাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে দেশ-বিদেশের অনেক পর্যটক।
ঢাকা থেকে আসা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আরিফ হোসেন নামের এক পর্যটক জানান, তিনি খুব হতাশা নিয়ে ফিরছেন কক্সবাজার থেকে। কারণ তিনি জীব বৈচিত্র্যপূর্ণ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাল কাঁকড়া ও কাছিম দেখার আশা নিয়ে কক্সবাজারে এসেছেন। কিন্তু কোথাও তেমন একটা লাল কাঁকড়া কিংবা কাছিমের দেখা মেলেনি। তার মতে, সমুদ্র সৈকতের হিমছড়িস্থ সেনা ক্যাম্প, ইনানী ও ডায়াবেটিক পয়েন্টের অদুরে উত্তরের জনশূণ্য সমুদ্রে তীরে কিছু লাল কাঁকড়ার দেখা মিললেও তা সামান্য। এতে যেমন হতাশ হলেন তিনি, তেমনিভাবে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেক দেশি-বিদেশি পর্যটক।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ১২০ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকতের টেকনাফ, বাহারছড়া, জাহাজপুরা, শামলাপুর, ইনানী, হিমছড়ি, সেনাবাহিনী ক্যাম্প, মোঃ শফিরবিল, মাদারবনিয়া, মনখালী, ডায়াবেটিক পয়েন্ট এলাকাসহ বেশ কিছু এলাকায় এখনও পর্যন্ত কিছু লাল কাঁকড়ার বিচরণ রয়েছে। তবে তা সংখ্যায় খুবই কম।
স্থানীয়রা জানান, সমুদ্র সৈকতে লাল কাঁকড়া রক্ষা করতে যত্রতত্র বিচ বাইক ও ঘোড়া, কিটকট চেয়ার ও ছাতাসহ সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল এবং সমুদ্রে নেট দিয়ে মাছের পোনা ধরা বন্ধে আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি এসব প্রাণী যেমন লাল কাঁকড়া, কাছিমদের অবাদ বিচরণের জন্য চারণভূমি চিহ্নিত করে তাদেরকে চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। যেখানে তারা নির্বিঘেœ ঘোরাফেরার পাশাপাশি বংশবৃদ্ধি করার সুযোগ পাবে। এ ব্যাপারে দ্রুত সরকার ও পরিবেশবাদীদের পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী জানান তারা। তা না হলে অব্যবস্থাপনার কারণে খুব শীঘ্রই হারিয়ে যাবে সমুদ্র সৈকতের এক সময়ের নজরকাড়া লাল কাঁকড়া ও অন্যান্য সৌন্দর্য্যবর্ধক পরিবেশের উপকারী প্রাণীসমূহ। তাদের রক্ষা ও অতীতের ন্যায় সর্বত্র বিচরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনসহ পরিবেশ প্রেমীদের পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে জনসাধারণ ও যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল বন্ধ ও প্রাণীদের চারণভূমি সংরক্ষণের নিমিত্তে সাইনবোর্ডসহ বিভিন্ন ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালুর দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

Share





Related News

Comments are Closed