Main Menu

তাহিরপুরে পিআইওর বিরুদ্ধে আড়াই লাখ টাকা ঘূষ নেয়ার অভিযোগ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পিআইও’র (উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) বিরুদ্ধে আড়াই লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট পিআইও’র বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ আনলেন দুই ইউপি চেয়ারম্যান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাপতিত্বে তাঁর অফিস কক্ষে অতি দরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের কর্মসূচির অগ্রগতি বিষয়ক সভায় পিআইও’র বিরুদ্ধে ঘূষ নেয়ার বিষয়ে মুখ খুললেন তাহিরপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও বড়দল দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান।
এদিকে দুই চেয়ারম্যাননের বিরুদ্ধে প্রকল্পের কাজ না করেই বিল নেয়ার অপচেষ্টার পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন পিআইও।
সভায় সদর ইউপি চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, পিআইও তার নিকট থেকে বাস্তবায়নকৃত ৪০ দিনের কর্মসূচির বিল দেয়ার নামে নগদ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেন।
বড়দল দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান সবুজ আলম লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘পিআইওকে ২ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে ৪০ দিনের কর্মসূচির বিল উত্তোলন করেছি।
চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন ও সবুজ আলম আরো বলেন, প্রকল্পের শতভাগ কাজ করার পরও পিআইওর দাবিকৃত ঘুষের টাকা পরিশোধ করার পরও অবশিষ্ট ৫০ ভাগ কাজের বিল পরিশোধ করছেন না তিনি। অবশিষ্ট বিল পরিশোধ করার শর্তে পিআইও আরো ঘুষ দাবি করে আসছেন। তার দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় বিল ছাড় করছেন না।
সভায় উপস্থিত উপজেলার আরো ৫ ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, পিআইও’র কাছে কোন প্রকল্পের বিল উক্তোলন করতে গেলেই তাকে ঘুষ না দিলে তিনি বিল ছাড় করেন না।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও শ্রীপুর উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন খান বলেন, পিআইও সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডকে বাধাগ্রস্থ করার জন্য বেপরোয়া ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে পিআইও (উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) জিএম ওয়ালিউল্লাহর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন চাঁপে পড়ে ৪০ দিনের কর্মসুচীর প্রথম ফেইজের কাজ কোন রকম সেরেছেন, দ্বিতীয় ফেইজের কোন কাজ না করায় বদলীকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার অন্য লোক দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করেছেন। এমনকি তিনি দেড় লাখ টাকার একটি গার্ড ওয়াল ও ১২ টন চালে একটি প্রকল্পের কাজই করেননি অথচ বিলের জন্য লাফালাফি করে বিল না পেয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন। ইউপি চেয়ারম্যান সবুজ আলমের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবুজ আলম ৪০ দিনের কর্মসুচীর প্রথম ফেইজের ১০ লাখ টাকার কাজে মাত্র ৩ থেকে ৪ জন শিশু শ্রমিক দিয়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে টাকাগুলো আত্বসাৎ করার চেষ্টা করেন এরপর দ্বিতীয় ফেইজের ১৫ লাখ টাকার অধিক প্রকল্পের কাজে কোন রকম কাজ না করেই বিল উঠিয়ে নিতে চাঁপ সৃষ্টি করে আসছিলেন, আমি বিল ছাড় না করায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন ঐ দুই চেয়ারম্যান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ খালেদুর রহমান বলেন,‘পিআইও’র বিরুদ্ধে চেয়ারম্যানদের দেয়া অভিযোগ গুরুতর। অচিরেই ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠাব, যাতে তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়।

Share





Related News

Comments are Closed