Main Menu

কক্সবাজারে বৌদ্ধভিক্ষুকে কুপিয়ে জখম

অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সবাজার থেকে: কক্সবাজার শহরের উইমাহ্লাটারা ক্যাং এর বৌদ্ধ ভিক্ষুকে কুপিয়েছে মাদকাসক্ত দুর্বৃত্তরা। আশংকাজনক অবস্থায় আহত ভিক্ষুকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বৌদ্ধ স¤প্রদায় মহলে আতংক বিরাজ করছে।
পরিচালনা কমিটি ক্যাং’র জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ হামলা হয়েছে বলে দাবী করেন।
কিন্তু অপর একটি সূত্র জানায়, মাদকের টাকার জন্য এ হামলা।
তবে স¤প্রতি সময়ে সংঘটিত হামলার ঘটনার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেও এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেন অনেকে।
১৩ জুলাই বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কক্সবাজার শহরের বৌদ্ধ মন্দির এলাকার ঐতিহ্যবাহী ‘উই মাতারা বৌদ্ধ মন্দিরের বৌদ্ধভিক্ষু উপেনদিতা (৭৭) কে ক্যাং এর ভিতরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার সময় বৌদ্ধভিক্ষুর সেবায় নিয়োজিত থাকা ৯ বছরের ছেলে থুইসা মং বলেন, ভোরে ভান্তের কাপড় পরিহিত এক ব্যক্তি গেইট খোলার জন্য বললে আমি গেইট খুলে দিই। সে আমাকে ২০ টাকা দিয়ে নাস্তা নিয়ে আসার জন্য দোকানে পাঠায়। পরে এসে দেখি লোকটি নাই, ভিক্ষু উপেনদিতা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
ক্যাং এর নিচতলায় থাকা কলেজছাত্র অংছাইং মারমা বলেন, ভিক্ষু দোতলায় চিৎকার করলে আমি যেতে চাইলে অপরিচিত সন্ত্রাসীরা বাঁধা দেয়। তখন আমি বাইরে এসে ক্যাং পরিচালনা কমিটির নেতাদের খবর দিই। ততক্ষনে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
ক্যাং পরিচালনা কমিটির সভাপতি মংথাছিন বলেন, আমরা ঘটনার খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ক্যাং এ এসে দেখি ভিক্ষু রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যাং এর মেঝেতে পড়ে আছে। আমরা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি।
কক্সবাজার সদর হাসপতালে গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, বৌদ্ধভিক্ষুর মাথায় ৪টি গভীর কাটা দাগ, হাত পা ভাঙ্গা। তাকে দ্রুত অপারেশন থিয়োটারে নেয়া হয়।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভিক্ষুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক কাটা জখম রয়েছে। বর্তমানে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
ক্যাং এ থাকা এক ব্যক্তি উইমং প্র“(৩০) বলেন সে অসুস্থ থাকায় ঘুমিয়েছিলো। সে ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না।
কক্সবাজার জেলা আধিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মং থেনহ্লা জানান এ ঘটনায় আমরা আতংকিত। ঘটনার মূল ক্লু বের করে হামলাকারিদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।
এদিকে বর্তমান সময়ে দেশব্যাপী জঙ্গি হামলার যে ঘটনা অব্যাহত রয়েছে তার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেও কক্সবাজারের এ বৌদ্ধ ভিক্ষুকে কৌশলে তথাকথিত মাদকাসক্ত ভিক্ষুকে দিয়ে হামলা করা হয় বলে জানান স্থানীয় হিন্দু ও বৌদ্ধ স¤প্রদায়ের লোকজন।
তারা আরও জানান, হামলাকারী মংয়িন রাখাইন ভান্তের পোষাক পরিধান করলেও সে বর্তমান ভান্তে নেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। বৌদ্ধধর্মের আচার অনুষ্ঠানের সাথেও তার সম্পৃক্ততা নেই।
স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হিন্দু মহিলা জানান, অভিযুক্ত মংয়িন একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। সে বৌদ্ধ স¤প্রদায়ের বাইরে বোনের বাসায় থাকে। সে প্রায় সময় টাকা-পয়সা নেয়ার জন্য হুমকি দিতো। তাকে মাদকের টাকা দিতে না পারার কারণেই হয়তো এ হামলার ঘটনা ঘটে।
কক্সবাজার ইউমাহ্লাটারা ক্যাং পরিচালনা কমিটির সভাপতি মংথাছিন জানান, ক্যাং এর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরে স্থানীয় তথাকথিত ভিক্ষু পোষকধারী মংয়িন ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভিক্ষু উপেনদিতাকে হামলা করে। ক্যাং এর বৌদ্ধ ভিক্ষু উপেনদিতা দীর্ঘ ২০ বছর ধরে উক্ত ক্যাং-এ ভিক্ষু হিসেবে রয়েছে।
কক্সবাজার পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ঘটনার কারণ বের করা হচ্ছে। কমিটির নেতাদের মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত মংয়িন কে প্রেফতারে অভিযান চলছে।

Share





Related News

Comments are Closed