Main Menu

প্রতিবাদী এক বাউলের গল্প

কাইয়ুম উল্লাস: হাজার বছরের পৌরনিক লৌকিক বাংলা আমাদের ভাটি অঞ্চল। আউল-বাউল আর মরমী কবিদের চারণ ভূমি হিসেবে খ্যাত সুরমা, কুশিয়ারা, খোয়াই, ধলাই, ধপু, কালনী, মগরা মনু, মহাসিং এসব নদী। আবার এসব নদীর কিনারাই রয়েছেন হাসন, রাধারমন, শীতালংশাহ, দূরবীনশাহ, রকিবশাহ, আরকুমশাহ, শেখভানু সৈয়দ শাহানুর-জব্বারশাহ- আজিশাহ বিপ্লবী সাধক শাহ আব্দুল করিম সহ অসংখ্যক আধ্যাত্নিক গুরু সাধক। যাদের পদাবলি আজ বিশ্বজুড়ে নন্দিত।
আমরা আজ যাকে নিয়ে আলোকপাত করছি তিনি হলেন প্রতিবাদী এক বাউল। জন্ম নেত্রকোণা জেলাধীন খালিয়াজুরী উপজেলার কৃষ্ণপুরে। যোগাযোগ বিছিন্ন এক বিশাল জনপদ যা নাকি এককালে কালিদহ সাগর নামে পরিচিত ছিল। সাহিত্যের বানধরে ভাটি থেকে উজানের দিকে আসা অর্থাৎ সিলেটে। এখানে এসে কারো সাথে কবিতার ছলে, কারো সাথে ছড়ার ছলে, কারো সাথে সাংবাদিকতার ছলে পরিচয় ঘটে। বাবা মরহুম আব্দুর রশিদ মিয়া একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। মা মরহুমা আছিয়া খাতুন একজন সুগৃহিনী ছিলেন। সাহিত্যের সব শাখায় যার স্বরুপ উপস্থিতি তার নাম রওশন জলিল কোরেশী। গান লিখেন, গণসংগীত অর্থাৎ সমাজের অসহায় বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে প্রবল প্রতিবাদী এই বাউল কে বিষাক্ত ওয়ান ইলিভেনে কারাবরণ করতে হয়েছে। তিনি লিখেছেন-
‘গজার মারিল কে
জালাল বাবার
গজারগুলো মারিলে কে’\

মৌলবাদ জঙ্গীগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও তিনি লিখেছেন-
বোমা মারিল কে
বোমা মেরে তামা করল
সোনার বাংলা যে\

আবার তিনি লিখেছেন-
একতারাই সুরে আমি
বাউল সেজে ঘুরি আমি
ওমন পাগেলা
বাউল আমায়
কেনে বানাইলা\
এই গানটিতে তার বাউলা মনের সঠিক পরিচয় ফুটে উঠেছে।

ভাববাদী এই বাউল আবার লিখেছেন-
পরার বাড়ি পরার ঘর
ঘর বানাইয়া আপন তর
মইরা গেলে পইরা রবে
এই সমস্ত বাড়ি ঘর\

আসলে কবিরা কল্পনা বিলাসী। কল্পনায় আর কলম তুলির আচরে তুলে ধরেন সমাজের বাস্তবচিত্র-
লোকে বলে বাউল
আমি বলি না
বাউল হওয়া কি সহজ ব্যাপার
একবার ভেবে দেখ না\

সহায় হাস্য উজ্জ্বল প্রতিবাদী এই বাউল। দীর্ঘদিন যাবৎ সিলেটে এই বাউল ভাটির শিকড় নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদন করে আসছেন। ইতিমধ্যে অনেক মিডিয়ায় তাকে নিয়ে আলোকপাত হয়েছে। আমরা এই প্রতিবাদী বাউলের দীর্ঘায়ু কামনা করি। সুগম হউক তাঁর চলার পথ।

Share





Related News

Comments are Closed