Main Menu

অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞা আর নেই

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞা ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

সোমবার দুপুর পৌনে ১২টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তিনি ছিলেন অকৃতদার।

দীর্ঘদিন তাকে তার ভাইয়েরা কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন বলে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তার সম্পত্তি দখলের জন্য এটা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। দৃশ্যত এ কারণে দীর্ঘদিন তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী মনিরুজ্জামান মিঞা বিএনপি সমর্থক পেশাজীবীদের সংগঠন শত নাগরিক জাতীয় কমিটির সদস্য ও জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।

ভারতের মুর্শিদাবাদে ১৯৩৫ সালে জন্ম নেয়া অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞা মৃত্যুর আগে বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ীর (রোড নং ২/এ, বাড়ি নং ১৩) জামান ভিলার তৃতীয় তলায় নিভৃতে বসবাস করেছেন।

পাঁচ ভাই-এক বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তার বাবা মোদ্দাছের হোসেন ছিলেন স্কুল শিক্ষক, মা আনোয়ারা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। পরে তার পরিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় স্থায়ী হয়।

অধ্যাপক মনিরুজ্জামান কৃঞ্চ গোবিন্দ হাই স্কুল থেকে এসএসসি, রাজশাহী কলেজ থেকে বিএসসি পাস করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএসসি করেন। জগন্নাথ কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৬১ সালে উচ্চতর ডিগ্রীর জন্য প্যারিসে যান। ১৯৬৬ সালে প্যারিস থেকে ফিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে যোগদান করেন। ১৯৯০ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৯২ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন।

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০০১ প্রণয়ন কমিটিতে তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এটিকে মনিরুজ্জামান মিঞা শিক্ষানীতি বলা হয়। পরবর্তীতে তিনি ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ও সেনেগালের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি চিরকুমার। যৌবনে পরিবারের সদস্যরা চেষ্টা করলেও তিনি বিয়েতে রাজি হননি। পরে ১৯৯০ সালে বিয়েতে আগ্রহী হলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি।

মনিরুজ্জামান মিঞার ভাই এম আসাদুজ্জামান জানান, বনানীতে বাবার কবরের পাশে তাকে মঙ্গলবার দাফন করা হবে। আজ মরদেহ হিমাগারে থাকবে।

Share





Related News

Comments are Closed