মধু মাসেও ফলের দেখা পাচ্ছেনা শাবির শিক্ষার্থীরা
শাবি প্রতিনিধি: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) ক্যাম্পাসটা আকাশী, অর্জুন, কদম, মেহগনি, কড়ই, রেইন ট্রি‘র মতো ফলনহীন বৃক্ষে ভরা। ফল তো হয়ই না সাথে গাছগুলোতে পাখিও বসতে দেখা যায় না। প্রতিষ্ঠার প্রায় ২৫ বছর পার করলেও মৌসুমী ফল গাছ রোপনের দিকটা রয়ে গেছে উপেক্ষিত। যেখানে দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন মৌসুমে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, কামরাঙ্গা, আমলকি, তাল, খেজুর, পেয়ারা, বেল, কলা, পেপে, নারকেল, আমড়াসহ নানা জাতের ফলের দেখা পেলেও এদিক থেকে বঞ্চিত শাবি শিক্ষার্থীরা। তবে ক্যাম্পাসে হাতে গোনা বেশ কিছু ফলের গাছ থাকলেও কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী ফল পরিপক্ক হওয়ার আগেই তা শেষ করে ফেলে।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সব মিলিয়ে পাঁচটি হল, পাঁচটি একাডেমিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনাগুলোকে ঘিরে রেখেছে ফলনহীন গাছগুলো। প্রতিবছরই বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়ে থাকলেও এতে ফলজ গাছ খুব বেশী থাকে না। যদিও হাতে গোনা যায় এমন কিছু কাঁঠাল, বকুল, আম, নারিকেল গাছ রয়েছে। যা এখনো ছোট। ফলনহীন গাছের আধিক্য এবং মৌসুমী ফল গাছের অপ্রতুলতার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ কর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন গ্রীন এক্সপ্লোর সোসাইটির সভাপতি অর্চিষ্মান দত্ত জানান, ক্যাম্পাসে মৌসুমী ফলের গাছ যে একেবারে নেই তা নয়। কিছু কিছু জায়গায় আছে। আর ক্যাম্পাসের পিছনে বিশাল এলাকাজুড়ে আকাশী গাছের প্লান্টেশন আছে। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রস্তাব ছিলো, পরিবেশ আর মানুষের জন্যে ক্ষতিকারক আকাশী গাছ সরিয়ে সেখানে ঔষধি, ফলজ ও বনজ গাছ রোপনের।
এদিকে গত বছর বিশ^বিদ্যালযের একাডেমিক ভবন ‘ডি’ এর পাশে নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবুল ফজল জাকারিয়া, সহকারী অধ্যাপক মনযুর-উল-হায়দার ও বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী হাসান আদিলের উদ্যোগে বেশ কিছু ফলজ বৃক্ষ রোপন করা হয়। গাছ গুলো দিন দিন বড়ও হচ্ছে।
মুনযুর-উল-হায়দার বলেন, ‘এখন ভরা দেশি ফলের মৌসুম। কিন্তু ক্যাম্পাসে আসলেই চিত্রটা ভিন্ন। কোনো প্রান্তেই খুঁজে বের করা যায় না কোনো ফল-ফলাদির গাছ। আমরা গত বছর নিজেরা উদ্যোগী হয়ে বেশ কিছু ফলজ বৃক্ষ রোপন করেছি। যদি বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনও উদ্যোগী হয় তাইলে আমরা ফলজ এবং বনজ গাছের সমন্বয়ে একটি সুন্দর ক্যাম্পাস পাব।
ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. বেলাল উদ্দিন জনান, ক্যম্পাসে ফলজ গাছ অনেক কম। ক্যাম্পাসে ফলের গাছ থাকলে অনেক পশু পাখি আসে। যেটা বৈশি^ক পরিেেবশের উপর পজিটিভ প্রভাব রাখে। ক্যাম্পাসে গাছ লাগানো ও পরিচর্যার দায়িত্ব এস্টেট শাখার। যারা কোন সময় আমাদের মতামত নেয়না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এস্টেট শাখার এক কর্মকর্তা জানান, প্রতি বছর বিভিন্ন স্থানে ৫ হাজারেরও অধিক গাছ রোপন করা হয়। যেখানে ফলজ গাছের সংখ্যা বনজ গাছের তুলনায় অনেক কম। এর মধ্যে অধিক সংখ্যক গাছ টিলায় লাগানো হয় ফলে সীমানা প্রাচীর না থাকা ও সীমিত জনবল নিয়ে গাছ রক্ষা করা অনেক সময় সম্ভব হয়ে উঠেনা।
Related News
কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচা নিয়ে টর্চ জ্বালিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৪০
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচার দেনাপাওনা নিয়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যেRead More
বিশ্বনাথে স্ত্রীর মামলায় স্বামী গ্রেফতার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় কছির আলী (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকেRead More



Comments are Closed