Main Menu

ভয়াবহ দুর্ঘটনার বর্ণনা দিলো স্কলার্সহোমের ছাত্রী স্নেহা

নিউজ ডেস্ক: ‘বাবা-মায়ের সঙ্গে সিএনজি অটোরিকশায় করে ৭ জুন মঙ্গলবার স্কুলে যাচ্ছিলাম। এমন সময় বিপরীত দিক থেকে আসছিল বেপরোয়া গতির একটি প্রাইভেট কার। কারটিকে এভাবে আসতে দেখে দুর্ঘটনার বিষয়টি আঁচ করে প্রথমে মা আমাকে জড়িয়ে ধরেন। মুহূর্তেই বাবাও আমাকে জড়িয়ে ধরেন। মা-বাবা দুজনে আমাকে বাঁচানোর জন্য জড়িয়ে ধরায় আমি নিচে পড়ে যাই।’
এভাবেই বুধবার সকালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের ৪র্থ তলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিছানায় শুয়ে স্বজনদের কাছে মঙ্গলবারের ভয়াবহ দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে চিকিৎসাধীন আরুণিমা স্নেহা রায় (১২)। দুপুরে এই তথ্য জানান স্নেহার বড় মামা পার্থ প্রতীম দাস।
পার্থ প্রতীম দাস জানান, স্নেহা এখনও জানেনা তার মা-বাবা বেঁচে নেই। সকালেও স্নেহা তার মা-বাবার খোঁজ করেছে। তখন তাকে বলা হয়, মা-বাবা হাসপাতালের নিচের তলার একটি ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। সবাইকে তার কাছে দেখতে পেয়ে স্নেহা বার বার নিজের মা-বাবার কথা জিজ্ঞেস করলে তাকে বলা হয়, পালাক্রমে আমরা তাদের ওয়ার্ডেও ডিউটি দিচ্ছি।
হাসপাতালে স্নেহার আত্মীয় ডা. ময়ুখ চৌধুরী জানান, ‘স্নেহার এক্সরে রিপোর্টে বড় কোন ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া না গেলেও তার শরীরের কিছু অংশ থেতলে গেছে। সিটিস্কেন রিপোর্টে মস্তিস্কে রক্তক্ষরণের ছাপ পাওয়া যায়নি। তবে ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টা পর্যবেক্ষণ করার পর স্নেহার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।’
এদিকে, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত স্কলার্সহোম স্কুল এন্ড কলেজের প্রশাসনিক কর্মকর্তা অরজিত রায় ও তার স্ত্রী দক্ষিণ সুরমার মহালক্ষ্মী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুমিতা দাসের শেষ কৃত্যানুষ্ঠান মঙ্গলবার রাতে নগরীর চালিবন্দরস্থ মহাশ্মশানঘাটে সম্পন্ন হয়েছে। শেষকৃতের পূর্বে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ তাদের মরদেহে ফুলদিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকালে নগরীর টিলাগড়ের মদনীবাগ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন স্নেহার বাবা স্কলার্স হোম শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা অরজিৎ রায় (৫০) ও মা দক্ষিণ সুরমার মহালক্ষ্মী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুমিতা দাস (৪৫)। এ দুর্ঘটনায় তাঁদের একমাত্র সন্তান অরুনিমা রায় স্নেহা (১২) গুরুতর আহত হয়। স্নেহা স্কলার্সহোমের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।

Share





Related News

Comments are Closed