Main Menu

বাজেটের ২৫ ভাগ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের দাবি

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন-২০১৬ বাতিল এবং জাতীয় বাজেটের ২৫ ভাগ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের দাবিতে ২ জুন বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্র্রন্ট সিলেট নগর শাখা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠন সিলেট নগর শাখার সভাপতি রেজাউর রহমান রানা, সাধারণ সম্পাদক রুবাইয়াৎ আহমেদ, সহসভাপতি সঞ্জয় কান্ত দাস,দপ্তর সম্পাদক রুবেল মিয়া প্রমুখ। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর তানভীর আল নাসীফ।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়,“ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জীবনের নিরাপত্তাহীনতাসহ গণতান্ত্রিক অধিকারহীনতায় জনগণকে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। এরকম পরিস্থিতিতে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এর আলোকে প্রণীত হচ্ছে শিক্ষা আইন-২০১৬।শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট এমন ছাত্র- শিক্ষক- বুদ্ধিজীবী- রাজনৈতিক কর্মী- অভিভাবক তো নয়ই এমনকি দেশের ছাত্র সমাজের প্রতিনিধি গণতান্ত্রিক ধারার ছাত্র সংগঠনগুলোর মতামত না নিয়েই চূড়ান্ত অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রণীত হয়েছে প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন-২০১৬। ইতোমধ্যে শিক্ষানীতি-২০১০ বাস্তবায়নের ফলে শিক্ষার সর্বস্তরে বাণিজ্যিকীকরণ-বেসরকারিকরণ-সাম্প্রদায়িকীকরণ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন ঘটেছে। ফলে সেই নীতি বাস্তবায়নের জন্য যে আইন প্রণীত হয়েছে তা কতটুকু শিক্ষার অধিকার রক্ষা করবে তা সহজেই অনুমেয়। শিক্ষা আইনের কিছু ধারা সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তব অবস্থা এটাই যে তা কার্যকর হবে না। যেমন, শিক্ষা আইনে বলা হয়েছে ‘আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক ’ শিক্ষাদানের কথা। বাংলাদেশে এখনও প্রায় ২২ হাজার গ্রামে কোনো সরকারি স্কুল নেই। শিক্ষার আওতায় আসতে পারে না প্রায় ১০ ভাগ শিশু। প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হওয়া অর্ধেক শিশু পঞ্চম শ্রেণীতেই ঝরে যাচ্ছে। শিক্ষা আইনে বলা হয়েছে ‘সকল শিশুর জন্য বৈষম্যহীন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করিবে…” বাস্তবে দেশে প্রাথমিক স্তরেই প্রায় ১৩ ধরনের স্কুল আছে। এর মধ্যে এমন স্কুলও আছে যেখানে প্রথম শ্রেণীর ভর্তি ফি ১০ লাখ ৩ হাজার টাকা। বাৎসারিক টিউশন ফি ছাড়া অন্যান্য ফি লাগে ১৭ লাখ ২১ হাজার টাকা (বারিধারায় অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল)। স্কুল স্তরে গাইড-বই নিষিদ্ধ করার কথা বললেও সহায়ক পুস্তিকার নামে গাইড বইয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কোচিং বাণিজ্য বন্ধের কথা বলা হয়েছে কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আনুষঙ্গিক আয়োজন নেই। ফলে এ কথাও শেষ পর্যন্ত বাগাড়ম্বরে পরিণত হবে। আমাদের সংগঠনসহ অন্যান্য বাম সংগঠনগুলো শুরু থেকেই ইউনেস্কো কর্তৃক প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের ২৫% শিক্ষা খাতে বরাদ্দের দাবি করে এসেছে। কিন্তু আজও সে দাবির প্রতিফলন আমরা দেখতে পাইনি। বরং স্বাধীনতার পর ক্রমাগত এই গুরুত্বপূর্ণ খাতে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ কমেছে।তাই শিক্ষাখাতে বিরাজমান সংকট সমাধানে বাজেটে জাতীয় বাজেটের ২৫ ভাগ বরাদ্দে আপনার ভূমিকা প্রত্যাশা করছি।”

Share





Related News

Comments are Closed