Main Menu

সুনামগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী মাটির দালান বিলুপ্তির পথে

ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা: সুনামগঞ্জের ছাতক-দোয়ারা উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী আরাম দায়ক মাটি তৈরী দালান আধুনিকতার ছোয়ায় এখন বিলুপ্তির পথে। শীত-গরম উভয় মৌসুমে মাটির ঘর আরাম দায়ক। তাই আরামের জন্য বিভিন্ন এলাকার গ্রামের দরিদ্র মানুষের পাশাপাশি বিত্তবানও মাটির দালান তৈরি করে এক সময় বসবাস করতেন। বর্তমানে দরিদ্র কিছু মানুষের বাড়িতে মাটির দালান দেখা যায়।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, আধুনিকতার ছোয়ায় মাটির দালানে বসবাসরত মানুষের জীবন যাত্রায় পরিবর্তন ঘটেনি। পরিবার-পরিজনকে নিয়ে বসবাস করে আসছে নিজেদের হাতে গড়া মাটির দালানে। ছাতকের নোয়ারাই ইউনিয়ন, পৌরসভার পাহাড়ী জনপদ ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী হকনগর, জুমগাঁও পাহাড়ী জনপদ ঘুরে অভাবি খেটে খাওয়া মানুষের বসবাসের এ চিত্র দেখা গেছে। নোয়ারাই ইউপির জোড়াপানি, কুপিয়া, কৈয়াদল, মহিষমারা, রাজগাঁও, জয়নগর, কুরিয়া, বাঁশটিলা, শাহ আরেফিননগর, মারুয়াটিলা, বড়গল্লা, রংপুর, গোদাবাড়ী, মানিকপুর, কচুদাইড়, ছাতক পৌরসভার নোয়ারাই, নোয়ারাই-ইসলামপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বাঁশতলা, জুমগাঁও গ্রামের প্রায় ২ শতাধিক পরিবারের মানুষ মাটির দালানে বসবাস করছে।

মাটির দালানে বসবাসরত লোকজন জানান, পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাসের জন্যে নিজেরাই তৈরি করেছেন মাটির দালান। এসব দালানে নিজেদের সাধ্যমতো টিন ও ছনের (খড়ের) চাল তৈরি করে তারা যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছেন। রড, সিমেন্টের তৈরি দালানের চেয়ে মাটির তৈরি দালানের স্থায়িত্ব অনেক বেশী। একটি মাটির তৈরি দালানের স্থায়িত্ব প্রায় একশো’ বছর। এটি তৈরি করতে প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস সময় লাগে ও তৈরিতে কোন ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয়না। মাটির দালানে বসবাস করে তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ ও আত্মতুষ্টির পান।

জানা যায়, টিলা ও জমি থেকে সংগৃহিত এটেঁল মাটি ভেঙ্গে গুড়ো করে পানির সংমিশ্রনে আঁটালো জাতের কাঁদা তৈরি করে দেয়াল নির্মানের উপযোগী করে তোলা হয়। এক ফুট থেকে দুই ফুট পরিমানে দেয়ালের পুরোত্ব¡ দিয়ে একহাত পরিমানে উঁচু গাঁথুনী করার পর ৩/৪দিন শুকানো হয়। দেয়াল শুকানোর পর আবারও নির্মান কাজ শুরু করা হয়। এভাবেই একটি দালান তৈরি করতে ৩ থেকে ৪ মাস সময় ব্যয় হয়। অনেক দালানের দেয়ালের ভেতরে বাঁশের খুটা ব্যবহার করে থাকে। কাঠ ও বাঁশের তৈরি দরজা, জানালায় ঘরের সৌন্দর্য অনেকটা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। মাটির নিচ থেকে গাঁথুনী দিয়ে দেয়াল নির্মানের ফলে ছিঁচকে চোর ও সিঁদেল চোরের আশংকা নেই। বৃষ্টির প্রকোপ থেকে রক্ষা করা গেলে দালানের স্থায়ীত্ব হয় প্রায় একশো’ বছর। যা আমাদের সংস্কৃতিতে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে সর্ব মহলে যূগ যূগ থেকে সমাদৃত হয়ে আসছে।

দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার গ্রামের সোলায়মান জানান, এক যুগ আগে এলাকায় অনেক মাটির দালান দেখা যেত। কিন্তু কালের আবর্তে অট্টালিকার কাছে হার মেনেছে আরাম দায়ক মাটির দালান।

Share





Related News

Comments are Closed