বৃষ্টির পানিতেই সংযোগ সড়ক বিলিন
মোঃ রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: টানা বৃষ্টির পানিতে জৈন্তাপুরে ধেঁবে গেছে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের নব নির্মিত ব্রীজের সংযোগ সড়ক, আর ব্রীজটি রয়েছে ঝুকির মধ্যে। এলাকাবাসী জানান পাহাড়ী ঢল নামলেই খুঁজে পাওয়া যাবে না ছাছিছড়া ব্রীজটির।
সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের অর্ন্তগত বাইরাখেল, হর্নি, ময়নাবস্তি, জালিয়াখলা, কালিঞ্জি এলাকার জনসাধারণ দীর্ঘ দিন ধরে ছাছিছড়া খালের উপর ব্রীজ নির্মানের দাবী জানালে ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বার কিংবা উপজেলা চেয়ারম্যানগন কেউই তাদের দাবীটি পুরন করেনি। অপরদিকে ২০১০ সনে সীমাহীন কস্ট লাঘবের জন্য বাইরাখেল যুব সংঘের তরুনরা ছাছিছড়া খালের উপর প্রায় ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করে একটি পাকা সাঁকো। এই পাকা সাকোটি নিয়ে একাধিকবার জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ২০১৫-১৬ অর্থ বৎসরের সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ১৭ লক্ষ ৯৩ হাজার ৬শত ৭৯ টাকা ব্যয়ে নিজপাট ইউনিয়নের বাইরাখেল ছাছিছড়া খালের উপর ২২ ফুট দৈর্ঘ্যরে ব্রীজ নির্মান করা হয়। কিন্তু আগাম বর্ষার ফলে নেমে আসা বৃষ্টির পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে ব্রীজের সংযোগ সড়কের দুই অংশ। পুরো বর্ষা কিংবা পাহাড়ী ঢল নামলে ব্রীজটি আর পাওয়া যাবে না বলে জানান বাইরাখেল গ্রামের বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ ছাছিছড়া খালের পুরো অংশ ৩০ হতে ৩৫ ফুট দৈর্ঘ্য। কিন্তু অপরিকল্পিত ভাবে খালের পুরো অংশ ব্যবহার না করে সংকোচিত অবস্থায় ২২ ফুট দৈর্ঘ্য ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। ফলে আগাম পাহাড়ী ঢলে ব্রীজের সংযোগ রাস্তা বিলীন হয়ে যায়। সেই সাথে ব্রীজের মাটিও সরে যায়।
এলাকার প্রবীন মুরব্বী আব্দুল হক, জৈন্তিয়া ডিগ্রি কলেজের হিসাব সহকারী মোঃ আবুল হারিছ, বদরুল ইসলাম জানান- সরকারের মোটা অংকের অর্থ গচ্ছা দিতে অপরিকল্পিত ভাবে এই ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়। তাদের ধারনা এই ব্রীজ নির্মাণে অফিস খরচ সহ সর্ব্বোচ্চ ৭ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে এবং বিল দেখানো হয়েছে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা। তাই ব্রীজ নির্মানের ৬ মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই অনাবৃষ্টিতে ধোঁয়ে নিয়ে গেছে ব্রীজের সংযোগ সড়ক। বাকী বর্ষা নামলে পুরো ব্রীজটি ভাসিয়ে নেবে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি বলেন- ব্রীজটি বুঝে নেওয়া হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে ফাইনাল বিল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এর বেশি কিছু তিনি বলতে রাজি হননি।
এবিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিরোধ চন্দ্র দাস জানান- বিষয়টি আমি জানি না, তবে খালের উপর নির্মিত ব্রীজটি যথা নিয়মেই হয়েছে। নতুন কাজ অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি হওয়ায় মাটি সরিয়ে নিয়ে যেতে পারে। মাটি ভরাট করার জন্য আমি ঠিকাদারকে বলবো।
Related News
সিলেটের তামাবিল হাইওয়ে পুলিশের চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে পর্যটকদের হয়রানি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সিলেট হাইওয়েRead More
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে : এমপি লুনা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, একটি শিক্ষিত ওRead More



Comments are Closed