কবি নজরুলের ১১৭তম জয়ন্তী আজ
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ, ২৫ মে। বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৭তম জয়ন্তী। ১৮৯৯ সালের এই দিনে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। নজরুল ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সংগীতজ্ঞ, সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ ও দার্শনিক। বাংলা সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
১৯১৭ সালে তিনি সৈনিক হিসেবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাধারণ সৈনিক করপোরাল থেকে কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদারের পদে উন্নীত হয়েছিলেন। ১৯২১ সালে ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটির মধ্য দিয়ে সারা ভারতের সাহিত্যসমাজে সাড়া ফেলে দেন নজরুল ইসলাম। এ বছরের ১২ আগস্ট নজরুল ধূমকেতু পত্রিকা প্রকাশ করেন। নজরুল ১৯২৮ সালে গ্রামোফোন কোম্পানির সঙ্গে, ১৯২৯ সালে বেতার ও মঞ্চের সঙ্গে এবং ১৯৩৪ সালে চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৪২ সালের জুলাই থেকে ১৯৭৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৪টি বছর নজরুল নির্বাক জীবনকাল পার করেন।
১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে কবিকে দেওয়া হয় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে। ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
কর্মসূচি
কবির ১১৭তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। এ বছর জন্মবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠান হবে চট্টগ্রামে। আজ বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের এম এ আজিজ আউটার স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি থাকবেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইনস্টিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ও জাতীয় কবির পৌত্রী খিলখিল কাজী। ‘সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতা রোধে নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা’ বিষয়ে স্মারক বক্তব্য দেবেন আবুল মোমেন।
সকাল সাড়ে ছয়টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠানসমূহ।
বাংলা একাডেমির সহযোগিতায় নজরুল ইনস্টিটিটিউট স্মরণিকা ও পোস্টার মুদ্রণ করবে। নজরুল ইনস্টিটিউট কবির ছবি, পোস্টার ও বই প্রদর্শনীর এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর বই প্রদর্শনী, পাঠ প্রতিযোগিতা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যথযোগ্য মর্যাদায় কবির জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন করবে।
জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠান ও অন্যান্য অনুষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি চ্যানেলসমূহ সম্প্রচার করবে।
Related News
ঢাকাসহ ৩৭ জেলায় তীব্র বজ্রপাতের শঙ্কা, হতে পারে ভারী বৃষ্টি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: শনিবার রাত থেকে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তীব্র বজ্রপাতসহ বৃষ্টি হতে পারে বলেRead More
বিদ্যুৎ নিয়ে সব জেলা পরিষদকে সরকারের নির্দেশনা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রতিটি জেলা পরিষদের নিজস্ব স্থাপনায় আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে ছাদভিত্তিকRead More



Comments are Closed