সিলেটে রাগীব আলীর কবল থেকে তারাপুর বাগান উদ্ধার
বিশেষ প্রতিনিধি : দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটেছে। প্রায় তিন দশকের পর অবৈধ দখলমুক্ত হয়েছে দেবোত্তার সম্পত্তি সিলেটের তারাপুর চা বাগান। আদালতের আদেশে কথিত দানবীর রাগীব আলীর কব্জা থেকে তারপুর চাবাগানটি উদ্ধার করে সেবাইতের হাতে তুলে দেযা হযেছে।
রোববার (১৫ মে) সকাল ১১টায় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে অবৈদদখলদারা রাগীব আলীকে উচ্ছেদ করে বাগানটি সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে বুঝিয়ে দেয়া হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিলেট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মো. মাহমুদুর রহমান। এসময় মীর মো. মাহমুদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, উচ্চ আদালতের রায় অনুসারে সিলেটের জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তারাপুর চা বাগান রাগীব আলীর দখল থেকে ফিরিয়ে আনার অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তারাপুর চা বাগানস্থ মেডিক্যাল কলেজ, হোস্টেল ও আবাসিক স্থাপনা ছাড়া অন্যান্য ভূমি সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে বুঝিয়ে দেয়া হয়।
এদিকে অভিযানকালে নগরীর জালালাবাদ থানার ওসি আখতার হোসেন, বিমানবন্দর থানার ওসি গৌছুল হোসেনসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও উৎসুক জনতা উপস্থিত ছিলেন। হাজার কোটি টাকার এই দেবোত্তোর সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে রাগীব আলীর দখলে ছিল। স¤প্রতি উচ্চ আদালতের এক রায়ে বলা হয়, রাগীব আলী প্রতারণার মাধ্যমে তারাপুর চা বাগান দখল করেছেন। আদালত ছয় মাসের মধ্যে চা বাগানটি দখলমুক্ত করতে সিলেটের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ প্রদান করেন। একইসাথে চা বাগান ধ্বংস করে গড়ে ওঠা সকল স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনাও দেন আদালত।
শিল্পপতি রাগীব আলীর ছেলে আবদুল হাইয়ের দায়েরকৃত এক রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চার বিচারক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত ১৯ জানুয়ারি রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষনার পর থেকে উচ্ছেদ অভিযানের প্রতীক্ষায় ছিলেন সিলেটবাসী। রোববার অভিযানের মধ্যদিযে এ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে।
আদালতের রায়ে তারাপুর চা বাগানে গড়ে তোলা আবাসিক প্রকল্প, এ সম্পত্তির ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে অবৈধ, এ বাগানকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেয়াসহ ১৭টি নির্দেশ দেয়া হয়। রায়ে বাগানের সকল অবকাঠামো ছয় মাসের মধ্যে সরিয়ে সেখানে চা বাগান করার নির্দেশনাও দেয়া হয়।
আদালতের রায় অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে তারাপুর চা বাগানে গড়ে তোলা রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজসহ অন্যান্য আবাসিক স্থাপনা সরিয়ে নেয়া না হলে, অভিযানের মাধ্যমে বাগান দখলমুক্ত করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মাহবুবুর রহমান ।
উলেখ্য, ভমি মন্ত্রনালয়ের স্মারকে ৩ শতক ভুমি একটি পাঠগারে দেযার আদেশ দেয়া হয়েছিল। এই স্মারক জাল করে রাগীব আলী তারাপুর চা বাগান সম্পর্কিত আদেশ বানিয়ে বাগানটি দখলে নেন। জালিযাতির এ গটনায় ২০০৩ সালে সিরেট কোতোযালী থানায রাগীব আলীর বিরুদ্ধে দুটি প্রতারনার মামলা হয়্, পরে মামলা দুটি স্থগিত করে দেযা হয়। বর্তমানে মামলা দুটি ফের চালুরও নির্দেশ দেয়া হযেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
Related News
কোম্পানীগঞ্জে ৮৬ লাখ টাকার ভারতীয় ওষুধ-পণ্য জব্দ, আটক ২
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য ও বিভিন্নRead More
কানাইঘাটে চোরাইপণ্যবাহী পিকআপের ধাক্কায় কিশোরের মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সুনারতনপুঞ্জি গ্রামে পিকআপের চাকায় পিষ্টRead More



Comments are Closed