Main Menu

‘ছাত্রদলের লাগাম টানুন, না হলে পেটুয়া বাহিনী হিসেবে ঘোষণা দিন’: সারজিস আলম

Manual3 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বিএনপি যদি অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি করতে না চায়, তাহলে ছাত্রদলের লাগাম টানতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রদল ধীরে ধীরে সন্ত্রাসী কায়দায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং একটি সন্ত্রাসী সংগঠনে পরিণত হওয়ার পথে এগোচ্ছে। এ বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে সিলেটের গোলাপগঞ্জে জুলাই আন্দোলনের শহীদ সাতটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সারজিস আলম।

Manual5 Ad Code

তিনি বলেন, ‘‘যদি ছাত্রদলের লাগাম টানতে না পারেন, তাহলে ঘোষণা দিন যে আপনারা ছাত্র সংগঠনকে পেটুয়া বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করবেন।’’

Manual8 Ad Code

এ সময় তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একটি বক্তব্য স্মরণ করে বলেন, ‘‘ছাত্রদলের ছাত্রদের চাই, কোনো টোকাই সন্ত্রাসীকে চাই না। সারজিসের ভাষায়, এই কথাটি মনে রাখলে বিএনপিরও মঙ্গল হবে, দেশেরও মঙ্গল হবে।’’

প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, ‘‘প্রতিবাদের ভাষা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। কার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হবে, সেটি জনগণই নির্ধারণ করবে। কারও দ্বিমত থাকলে তিনি নিজের অবস্থান থেকে তা প্রকাশ করতে পারেন।’’

এ সময় সিলেটের প্রশাসনের ভূমিকারও সমালোচনা করেন সারজিস আলম। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসন নিরপেক্ষ না থেকে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। তার দাবি, প্রশাসন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘‘সম্প্রতি একটি মামলা করতে এনসিপির আহ্বায়ক ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ দলের নেতাকর্মীরা একটি পুলিশ ফাঁড়িতে গেলে সেখানে তাদের বাধা দেওয়া হয়।’’ তার অভিযোগ, পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মামলা করতে গেলেও পুলিশ তাদের সহযোগিতা না করে বাধা দেয়। একই সময়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উসকানিমূলক স্লোগান দিলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

Manual1 Ad Code

প্রশাসনের উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, ‘‘আপনারা পেশাদারিত্ব বিক্রি করে দেবেন না। যদি রাজনীতি করতে চান, তাহলে পুলিশের পোশাক খুলে সরাসরি রাজনীতিতে আসুন।’’

এর আগে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে জুলাই আন্দোলনের সাত শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। এছাড়া দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

Manual8 Ad Code

অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই আন্দোলনের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে শহিদ পরিবারের সদস্যরা আন্দোলনের স্মৃতিচারণ, বর্তমান পরিস্থিতি, বিভিন্ন সমস্যা এবং রাষ্ট্রের কাছে তাদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। এনসিপির নেতারা তাদের বক্তব্য শোনেন এবং পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

সামান্তা শারমিন বলেন, ‘‘জুলাই আন্দোলনের শহীদরা দেশের জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন। তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো রাজনৈতিক দায়িত্বের পাশাপাশি নৈতিক দায়িত্বও। তিনি বলেন, ‘‘শহিদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’’

এদিকে অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, গোলাপগঞ্জ থেকে রওনা দেওয়ার পর একদল দুর্বৃত্ত বহরকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পাঁচমাইল এলাকায় আরেকদফা তাদের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয় অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে হামলায় কেউ আহত হয়নি।

এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছবেদ আলী বলেন, ‘‘হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’’

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code