দুবাইয়ে সব দেশের নাগরিকদের জন্য ৫ বছরের মাল্টিপল ভিসা, যা যা লাগবে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। কেননা দেশটিতে এখন থেকে কোনো স্পনসর বা স্থানীয় আমন্ত্রণকারীর প্রয়োজন ছাড়াই দুবাইসহ যেকোনো শহরে একাধিকবার প্রবেশের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি বিশেষ ‘মাল্টিপল এন্ট্রি’ পর্যটন ভিসা চালু করা হয়েছে।
দুবাইয়ের জেনারেল ডিরেক্টরেট ফর আইডেন্টিটি অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স (জিডিআরএফএ) বিদেশি পর্যটকদের জন্য এই দীর্ঘমেয়াদি ভিসা চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।
আরব আমিরাতের ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
দুবাইয়ের সরকারি সংস্থার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই বিশেষ ভিসার মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে যতবার ইচ্ছা আরব আমিরাতে প্রবেশ এবং দেশটি ত্যাগ করতে পারবেন ভ্রমণকারীরা। প্রতিবার ভ্রমণের সময় দর্শনার্থীরা সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত দেশটিতে অবস্থান করতে পারবেন, যা পরবর্তীতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনের মাধ্যমে আরও ৯০ দিন বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে কোনোভাবেই এক ক্যালেন্ডার বছরে দেশটিতে অবস্থানের মোট সময় ১৮০ দিনের বেশি হতে পারবে না। সাধারণ পর্যটক ভিসার চেয়ে বেশি সুবিধা ও শর্তে শিথিলতা থাকায় এই ভিসা নিয়মিত ভ্রমণকারী, ব্যবসায়ী এবং প্রবাসীদের পারিবারিক দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সব দেশের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত এই ভিসার আবেদন করতে হলে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। বিশ্বের যেকোনো দেশের আবেদনকারীকে কমপক্ষে ছয় মাসের মেয়াদসহ একটি বৈধ পাসপোর্ট, সাম্প্রতিক তোলা রঙিন ছবি, ইউএইতে বৈধ স্বাস্থ্য বীমার প্রমাণপত্র, আসা-যাওয়ার নিশ্চিত বিমান টিকিট এবং বিগত ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিতে হবে। এ ছাড়া আবেদনের ঠিক আগের ছয় মাসজুড়ে ব্যাংকে কমপক্ষে ৪ হাজার মার্কিন ডলার বা অন্য কোনো মুদ্রায় এর সমপরিমাণ অর্থ (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা) ব্যালেন্স হিসেবে দেখাতে হবে।
আগ্রহী ভ্রমণকারীরা আরব আমিরাতের সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং স্মার্ট অ্যাপের মাধ্যমে যেকোনো সময় এই আবেদন জমা দিতে পারবেন। এ ছাড়া সরাসরি ‘কাস্টমার হ্যাপিনেস সেন্টার’ কিংবা ‘আমের সার্ভিস সেন্টারের’ মাধ্যমেও এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। আবেদনকারীকে এই ভিসার জন্য আবেদন প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট সেবা নির্বাচন, ডিজিটাল ফরম পূরণ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে।
দুবাই প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ফি, সার্ভিস চার্জ এবং ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানতসহ এই ভিসার আবেদনের মোট প্রাথমিক খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৭১৩ দিরহাম। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার টাকার কিছু বেশি। তবে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও অতিরিক্ত নথিপত্রের প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে এই খরচ কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। অনুমোদিত মেয়াদের চেয়ে দেশটিতে যাতে অতিরিক্ত সময় অবস্থান করা না হয়, সে বিষয়ে ভিসাধারীকে সতর্ক থাকতে হবে। জরিমানা এড়াতে ভ্রমণকারীরা ‘ট্রাভেল মুভমেন্ট রিপোর্টের’ মাধ্যমে তাঁদের প্রবেশ ও প্রস্থানের রেকর্ড নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
Related News
মালয়েশিয়ায় ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসী আটক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মালয়েশিয়ায় চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৫৭Read More
জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ, নতুন গাড়ি কেনা বন্ধ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান সরকার নতুন করে একগুচ্ছ কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে।Read More



Comments are Closed