হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের নজরদারিতে সিসি ক্যামেরা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের নজরদারিতে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৩টার দিকে সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমের নির্দেশনায় শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে দান বাক্সের উপরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মাজারের দানের ডেগ সিলগালা করে নতুন দানবাক্স বসায় জেলা প্রশাসন। ওইদিনই ডেগ ও দানবাক্স পাহারার জন্য আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়।
মাজারের আয়-ব্যয়ে কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
যদিও জেলা প্রশাসনের এসব উদ্যোগকে বাড়াবাড়ি ও জোরজবরদস্তি আখ্যায়িত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাজারসংশ্লিস্টরা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাজারের দানবাক্স ও সিলগালা করা ডেগ নজরদারি করতে একাধিক সিসি কামেরা বসানো হয়েছে। নতুন স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে দান বাক্সের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, এই উদ্যোগের ফলে মাজারে আগত দর্শনার্থী ও ভক্তদের দান কার্যক্রমে আস্থা, দান বাক্সে অর্থ জমা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও পর্যবেক্ষণের আওতায় আসবে এবং মাজার কেন্দ্রীক স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এরআগে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল চারটার দিকে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ডেগ সিলগালা করা হয়। এসময় নতুন দানবাক্স স্থাপনের পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্যও নিয়োজিত করা হয়।
এদিকে মাজারের ঐতিহাসিক তিনটি ডেগ সিলগালার পর রাতে একদল ভক্ত দরগাহ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা ‘লালে লাল-বাবা শাহজালাল’ স্লোগান দেন ও প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দানবাক্স স্থাপনের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অনুসারী বলেন, প্রায় সাতশ বছর ধরে যে প্রক্রিয়ায় মাজার পরিচালিত হয়ে আসছে, সে ঐতিহ্যকে বিনষ্ট করতেই এই কাজ করা হচ্ছে।
পরদিন শুক্রবার (১৯ জুন) জুমার নামাজের আগে শাহপরান (রহ.) মাজার পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এসময় তিনি শাহপরান (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাজার এলাকায় মদ ও গাঁজার আসর বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি মাজারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এরই অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দানের নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী রাখার জন্য থাকা ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগ সিলগালা করা হয়।
নতুন দানবাক্স বসানোর পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, মাজারের দান সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ভক্তদের দেওয়া সব দান প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে থাকা এই দান বাক্সগুলোতে জমা হবে। আগে যেমনটা হাতে হাতে দানের টাকা নেওয়া হতো, এখন আর এমনটা করা যাবে না।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাজারে দানের টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নেওয়ার একটা অনিয়মতান্ত্রিক পরম্পরা চালু হয়েছে। হজরত শাহজালাল (রহ.) অবিবাহিত ছিলেন, তাঁর কোনো উত্তরাধিকার ছিলেন না। এখানে দানের যে টাকা আসে, সেটা পাবলিক সম্পত্তি। স্থানীয় প্রশাসন দানের টাকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির আওতায় আনতেই উদ্যোগী হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, দানের কোনো টাকা সরকার নেবে না। যাবতীয় অনিয়ম দূর করে সব টাকাই মাজার এবং মাজারের মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়নে ব্যয় হবে। এ ছাড়া মাজার, মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নে একটা মহাপরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে আহ্বায়ক করে খাদেম, মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিনিধিসহ ১০ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করে দেওয়া হয়েছে।
Related News
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে সিলেট মহানগর বিএনপির কর্মসূচি
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ২ দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণাRead More
সিলেটে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে যুবককে অপহরণের চেষ্টা
Manual6 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে যুবককে অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় প্রাইভেটকার ভাঙচুর ও গাড়িচালককেRead More



Comments are Closed