ত্বক ফরসাকারী ৮ ক্রিম ব্যবহার ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া আটটি ত্বক ফরসাকারী ক্রিমে অনুমোদিত মাত্রার তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ ক্ষতিকর মার্কারি পাওয়ায় সেগুলোর বিক্রি, বিতরণ, মজুত এবং ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, ওই আটটি ক্রিমের সাতটি পাকিস্তানের ক্রিম ও একটি চীনের। ক্রিমগুলো হলো পাকিস্তানের এসজে এন্টারপ্রাইজের চাঁদনি হোয়াইটেনিং ক্রিম; কিউসিআই কোম্পানির নিউ ফেস বিউটি ক্রিম; লোয়া ইন্টারন্যাশনালের নিভিয়া বিউটি ক্রিম ও নিভিয়া হোয়াইটেনিং ক্রিম; নুর এন্টারপ্রাইজের নুর হোয়াইটেনিং ক্রিম; ক্রিয়েটিভ কসমেটিকসের ডিউ বিউটি ক্রিম; গোরি কসমেটিকস প্রাইভেট লিমিটেডের গোরি বিউটি ক্রিম এবং চায়না জিএলডিজেবি (হারবিন) কসমেটিকসের ন্যাচারাল পার্ল স্ক্রিন ক্রিম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন মার্কারিযুক্ত স্কিন ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, স্থায়ী দাগ, অ্যালার্জি, কিডনির ক্ষতি, স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতা ও গর্ভবতীর ক্ষেত্রে অনাগত শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিএসটিআইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইদানীং লক্ষ করা যাচ্ছে যে দেশি বাজারে বিভিন্ন রং ফরসাকারী ক্রিম পাওয়া যাচ্ছে। এসব পণ্য বৈধভাবে আমদানি করা হচ্ছে না। লাগেজ বা বিভিন্ন চোরাইপথে দেশের বাজারে এসব পণ্য প্রবেশ করছে ও বিক্রি হচ্ছে। ফলে বিএসটিআই চোরাই পথে আসা এসব পণ্যের মান যাচাই করতে পারছে না।
বাজার থেকে সংগ্রহ করা এমন রং ফরসাকারী ক্রিম বিএসটিআই ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে বিএসটিআই। বিএসটিআই বলছে, পরীক্ষায় আটটি ব্র্যান্ডের ত্বক ফরসাকারী ক্রিমে অত্যন্ত বিপজ্জনক মাত্রার মার্কারি শনাক্ত হয়েছে। এসব পণ্যে মার্কারির উপস্থিতি বাংলাদেশ মান (বিডিএস ১৩৮২) অনুযায়ী নির্ধারিত সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা ১ পিপিএমের বহু গুণ বেশি পাওয়া গেছে।
বিএসটিআইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাজার থেকে সংগৃহীত নমুনা বিএসটিআই পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে পাকিস্তানের চাঁদনি হোয়াইটেনিং ক্রিমে ১২০ দশমিক ৩৯ পিপিএম; নিউ ফেস বিউটি ক্রিমে ৪৪ দশমিক ৭২ পিপিএম; নিভিয়া বিউটি ক্রিমে ও নিভিয়া হোয়াইটেনিং ক্রিমে যথাক্রমে ৫৯ দশমিক ৮২ পিপিএম ও ৭৯ দশমিক ৭০ পিপিএম; নুর হোয়াইটেনিং ক্রিমে ৮২ দশমিক ৭৬ পিপিএম; ডিউ বিউটি ক্রিমে ১২৩ দশমিক ৩৭ পিপিএম; গোরি বিউটি ক্রিমে ৫৬ দশমিক ৯৩ পিপিএম এবং চায়নার জিএলডিজেবি (হারবিন) কসমেটিকসের ন্যাচারাল পার্ল স্ক্রিন ক্রিমে ৬৭ দশমিক ৪৯ পিপিএম মার্কারির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জনস্বাস্থ্যের প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত প্রসাধনী উৎপাদন, আমদানি বা বাজারজাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, বাজারে অনিরাপদ প্রসাধনী ঠেকাতে বিএসটিআই নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষাগারে পরীক্ষা, বাজার তদারকি এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে।
Related News
দেশজুড়ে অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান, ২৫০টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ
Manual2 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: অবৈধ ও মানহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্লাড ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিকRead More
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ হবে শপিংমল-মার্কেট
Manual1 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেশের সবRead More



Comments are Closed