Main Menu

কলহের জেরে হত্যা, পরে স্বামীর লাশ ৬ টুকরো করলেন স্ত্রী

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ‘জীবনে একটা পিঁপড়াও মারিনি’ -পুলিশের সামনে কাঁদতে কাঁদতে এমন কথাই বলছিলেন আসমা আক্তার। অথচ তার স্বীকারোক্তিতেই উঠে এসেছে এক বিভীষিকাময় হত্যাকাণ্ডের চিত্র। স্বামীকে হত্যার পর লাশ ৬ টুকরো করে হাড়-মাংস আলাদা করে তিনদিন ড্রামে ভরে রাখেন তিনি। পরে সেই মাংস ফ্রিজে রাখতে গিয়ে ধরা পড়েন স্থানীয়দের সন্দেহে।

শুক্রবার (১৫ মে) রাতে শরীয়তপুর সদর উপজেলার একটি ভাড়া বাসা থেকে আসমাকে আটক করে পুলিশ। তার জবানবন্দি শুনে হতবাক তদন্ত কর্মকর্তারাও।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত জিয়া সরদার মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। প্রবাসে থাকাকালে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় আসমার সঙ্গে। পরে আট বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। দুজনেরই এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে।

দাম্পত্য জীবনের শুরুটা স্বাভাবিক হলেও সম্প্রতি তাদের মধ্যে কলহ বাড়তে থাকে। অভিযোগ, প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো, এমনকি আসমার দাবি, স্বামী তাকে মারধরও করতেন।

গত ১২ মে রাতে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ঘরের ভেতরেই ঘটে যায় ভয়ংকর ঘটনা। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মাথায় রড দিয়ে আঘাত করলে জিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে আসমা ছুরি দিয়ে লাশ টুকরো টুকরো করেন। শুধু টুকরো করাই নয়, হাড়-মাংস আলাদা করে আলাদা পাত্রে ভরে রাখেন।

ঘটনার পর তিনদিন ধরে ঘরের ভেতর ড্রামে লাশের অংশ লুকিয়ে রাখেন তিনি। শুক্রবার সন্ধ্যায় অটোরিকশা ভাড়া করে একে একে লাশের বিভিন্ন অংশ শহরের কয়েকটি স্থানে ফেলে দেন। কিছু অংশ পদ্মা নদীর তীরে, কিছু অংশ পৌর এলাকার বৃক্ষতলা সংলগ্ন স্থানে ফেলে আসেন।

কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। বাকি মাংসের অংশ পুরনো বাসার এক ভাড়াটিয়ার ফ্রিজে রাখতে গেলে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ড্রাম খুলে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পায়।

স্থানীয় বাসিন্দা রানু বেগম বলেন, আসমা আপা একটা ব্যাগ নিয়ে এসে ফ্রিজে রাখতে চাইছিলেন। কিন্তু এত দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল যে আমরা ভয় পেয়ে যাই। পরে পুলিশে খবর দেই।

আটকের পর আসমা পুলিশের কাছে বলেন, আমি বুঝতে পারিনি আঘাতটা এত জোরে লাগবে। পরে ভয় পেয়ে লাশ কেটে ফেলি। কিভাবে এমন করলাম, বুঝতে পারছি না।

পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম জানান, আসমার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান থেকে লাশের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। একটি পুকুর থেকে মাথাসহ হাড় উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়, এমন ভয়ংকর ঘটনা সিনেমাতেও দেখা যায় না।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পেছনে পারিবারিক কলহ ছাড়াও অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের মরদেহের অংশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed