Main Menu

সিলেটে শিশু ফাহিমাকে পাশবিক নির্যাতন করে হত্যাকারী গ্রেফতার

Manual6 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে পাশবিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত ফাহিমার চাচা পাষণ্ড জাকির হোসেন (৩০)কে গ্রেফতার করেছে এসএমপির জালালাবাদ থানা পুলিশ।

Manual8 Ad Code

সোমবার (১১ মে) দিনগত রাত ১২টার দিকে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রাম থেকে জাকিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতার হওয়া জাকির সোনাতলা গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে এবং নিহত ফাহিমার প্রতিবেশি ও তার বাবার চাচাতো ভাই। সম্পর্কে ফাহিমার চাচা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘাতক জাকির হোসেন বিবাহিত এবং তার নিজেরও তিনটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

জাকিরকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার শাস্তির দাবিতে রাতে জালালাবাদ থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। মধ্যরাতে জাকিরের বাড়িতে হামলা চালান বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে শিশু ফাহিমাকে পাশবিক নির্যাতন করে জাকির। এরপর ফাহিমাকে হত্যা করে স্ত্রীর ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে ব্যাগে রাখে জাকির। পরে সেই ওড়নাসহ বাদাঘাট এলাকার ডোবায় ফেলে দেন জাকির। ওই ডোবা থেকে শুক্রবার (৮ মে) ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

Manual4 Ad Code

নিহত শিশু ফাহিমা সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। রাইসুল হক স্থানীয় বাজারে একটি দোকানে দিনমজুরের কাজ করেন।

Manual2 Ad Code

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ফাহিমাকে হত্যার পর তাকে ওড়না পেচিয়ে বালতির মধ্যে রাখে। তার জিহ্বা ও চোখ দুটো বেরিয়ে এসেছিল। অপরাধী জাকির ইয়াবাখোর। ধর্ষণের পর শিশুটিকে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করে। তখন এলাকাবাসী শিশুটির খোঁজে চারিদিকে খোঁজ খবর রাখছিল, নয়তো সে কেটে নদীতে ভাসিয়ে দিতো।

Manual1 Ad Code

সিলেটের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারের পর জাকিরকে থানা হাজতে রাখা হয়েছে।

এদিকে, সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ফাহিমার হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, ফাহিমার খুনী ইয়াবাখোর জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ থানায় আনা ঠিক হয়নি। তাকে অন্তত ১০ মিনিটের জন্য জনতার হাতে তুলে দেওয়া উচিত ছিল। রাতে হত্যাকারী জাকিরের বাড়িতে ভাঙচুর করে বিক্ষোব্ধ জনতা। এসময় জনতাকে সামাল দিতে গিয়ে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

গ্রেফতারের পর জাকির পুলিশকে জানায়, ফাহিমাকে দিয়ে সে বাড়ির পার্শ্ববর্তী দোকান থেকে প্রথমে সিগারেট আনায়। পরে সে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। জ্ঞান হারানোর পর গলাটিপে হত্যার করে ফাহিমার লাশ স্ত্রীর ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে একটি ব্যাগে রাখে। একদিন পর রাতের আঁধারে লাশ বাদাঘাট এলাকার ডোবায় ফেলে দেয় জাকির। সেই ডোবা থেকে শুক্রবার ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আজ দুপুরে শিশু ফাহিমা আক্তারকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার জাকির হোসেনকে আদালতে তোলা হয়েছে। বিজ্ঞ বিচারকের নির্দেশ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ৬ মে বুধবার নিখোঁজ হয় চার বছরের শিশু ফাহিমা। পরে শুক্রবার (৮ মে) বাড়ির পাশে ডোবা থেকে তার মরদেহ ‍উদ্ধার করা হয়।

এদিকে শিশু ফাহিমা আক্তার হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলাটি বিনা ফিতে লড়তে চান সিলেট মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক ও আগামী সিসিক নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আফজাল।

তিনি মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন ভার্চুয়াল মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন।

অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আফজালের এই মহৎ ঘোষণাকে অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন।

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code