Main Menu

ধর্ষণ ও হত্যার আগে শিশু ফাহিমাকে দিয়ে সিগারেট আনায় জাকির

Manual4 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ধর্ষণ ও হত্যার আগে শিশু ফাহিমা আক্তারকে দিয়ে দোকান থেকে সিগারেট আনতে বলেন গ্রেপ্তার হওয়া জাকির হোসেন (৩০)। এজন্য ফাহিমাকে ২০ টাকা দেন তিনি। সিগারেট নিয়ে আসার পর তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়।

জাকিরকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে সিলেট মহানগর পুলিশ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমনটি জানান উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ঘটনার পর এলাকাবাসী যখন শিশুটিকে খুঁজছিল, তখন অভিযুক্ত জাকিরও তাদের সঙ্গে ছিল। এমনকি পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার সময়ও সে মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে।

তিনি বলেন, ফাহিমা ছিলো চঞ্ঝল প্রকৃতির শিশু। গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে ঘুরে বেড়াতো সে। এজন্য সবাই তাকে স্নেহ করতো। ৬ মে অভিযুক্ত জাকিরের ঘরে যায় ফাহিমা। দুজনের বাড়িই পাশপাশি। জাকির সম্পর্কে ফাহিমার চাচা।

Manual6 Ad Code

ডিসি সাইফুল বলেন, তখন ঘরে একা ছিলো জাকির। তার স্ত্রী ছিলো বাপের বাড়িতে। এসময় ফাহিমার হাতে ২০ টাকা দিয়ে তাকে দোকানে সিগারেট আনতে পাঠায় জাকির। সিগারেট আনার পর প্রথমে ফাহিমাকে ধর্ষণ করে নেশাগ্রস্থ জাকির। এসময় শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে গলাটিপে হত্যা করে।

জিজ্ঞাসাবাদে জাকির এসব তথ্য দিয়েছে জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সে (জাকির) অবশ্য বলেছে, ধর্ষণের চেষ্টা করেছে। তবে শিশুটির শরীরে ধর্ষণের আলামত আছে। ডাক্তারি পরীক্ষায় বাকিটা বুঝা যাবে।

এরআগে সোমবার (১১ মে) দিনগত রাত ১২টার দিকে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রাম থেকে জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে জালালাবাদ থানা পুলিশ।

ফাহিমাকে হত্যা ঘটনাটি একটি মর্মস্পর্শী, নিষ্ঠুর ও হৃদয়বিদারক হিসেবে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জবানবন্দিতে জাকির জানায়, হত্যার পরে দু’দিন জাকির তার ঘরের খাটের নিচে একটি ব্রিফ কেসে রাখে ফাহিমার মরদেহ। পরে গন্ধ বের হলে একটি খালের মধ্যে ফেলে আসে। এলাকাবাসীর চোখে পড়লে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

আসামী তার প্রাথমিক জবানবন্দিতে হত্যা ও ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, শুরুতে ভুক্তভোগীর মা বাদি হয়ে জিডি ও পরে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। পরে সাঁড়াশি অভিযানে মামলার আসামী জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে দায়ের করা হলেও ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হলে তাতে নতুন ধারা যুক্ত হবে বলে জানান তিনি।দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

Manual4 Ad Code

জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর তার শাস্তির দাবিতে মধ্যরাত পর্যন্ত থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা। পরে জাকিরের বাড়িঘর ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধরা।

এরপর জাকিরের স্বীকারোক্তিমূলক একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাকে ফাহিমাকে হত্যার বর্ণনা দিতে শোনা যায়।

Manual3 Ad Code

ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে জাকির বলেন, ‘সকাল ১০টা/সাড়ে ১০টার দিকে ফাহিমাকে দিয়ে দুটি সিগারেট আনাই। তখন আমার ঘর খালি ছিলো। আমি তখন নেশাগ্রস্ত ছিলাম। আমি ইয়াবা খাই। তখন আমার মধ্যে কেন যে অতো অমানুষ জাগিয়া উঠল, মেয়েটার প্রতি আমার খারাপ দৃষ্টি চলে যায়।’

জাকির আরও বলেন, ‘পরে মেয়েটাকে আমি রেপ (ধর্ষণ) করতে চাইছিলাম (চাই), কিন্তু তখন সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এতে আমি ভয় পেয়ে যাই। ভয় পেয়ে গলা টিপে মেরে ফেলি। পরে ঘরের সুটকেসের ভেতরে রাখি। দুদিন পর দেখি গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পরিবারের মানুষ জেনে যাবে এই চিন্তায় রাতে লাশ নদীতে ফেলে দেই।’

নিহত শিশু ফাহিমা সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। রাইসুল হক স্থানীয় বাজারে একটি দোকানে দিনমজুরের কাজ করেন।

গত শুক্রবার (৮ মে) বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার দুদিন আগে সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিলো।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সোমবার রাতে  গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব আলামত তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষার জন্য জব্দ করা হয়েছে।

উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত সরাসরি অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

 

 

Manual6 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code