Main Menu

সিলেটে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু

Manual8 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে হাম উপসর্গে মৃত্যু যেন থামছে না। সোমবার (১১ মে) বিকেল ৪টায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে।

বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই রোগীর চাপ বাড়ছে। জ্বর, সর্দি-কাশি, শরীরে র‍্যাশ ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ নিয়ে একের পর এক শিশু ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালগুলোতে।

সোমবার বিকেল পর্যন্ত সিলেটে হামের বিশেষায়িত শহীদ ডা. সামসুদ্দিন হাসপাতালে ১০০ শয্যার বিপরীতে ১২০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মিজানুর রহমান এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, এপর্যন্ত সামসুদ্দিন হাসপাতাল থেকে ৫২ জন রোগীকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

Manual4 Ad Code

হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি। যে কারণে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তারপরও রোগীদের সেবাদানে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমাদের আটজন চিকিৎসক ও নার্সরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

Manual2 Ad Code

এদিকে রোগীর অতিরিক্ত চাপে সিলেটের হাসপাতালে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঁচ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রকে বাড়িয়ে ২২ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে।

Manual3 Ad Code

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মাহবুবুর রহমান এতথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষায়িত শামসুদ্দিন হাসপাতালেও আরো একজন শিশু চিকিৎসক উপজেলা থেকে এনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় কোথাও এক শয্যায় একাধিক শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য মতে, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম আক্রান্ত সন্দেহে মোট ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ ছাড়া শেষ ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৫ জন শিশু।

সরেজমিনে শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হামের রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সোমবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে একসঙ্গে ১৪ জন শিশুকে একই অ্যাম্বুলেন্সে করে স্থানান্তর করা হয় এখানে। স্থানান্তরিত সব শিশুর শরীরেই হামের উপসর্গ ছিল বলে জানা গেছে।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে একসঙ্গে ১৪ জন শিশুকে একই অ্যাম্বুলেন্সে করে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে পাঠানো নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে লুবনা আক্তার নামে এক শিশুর মা বলেন, দুই দিন ধরে শিশুর জ্বরের পাশাপাশি শরীরে র‍্যাশ দেখা দেয়। পরে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে এসে রোগীর ভিড় দেখে কিছুটা দুশ্চিন্তায় পড়লেও সন্তানের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিতের চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।

শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটিকে বিশেষায়িত করে শুরু থেকেই হাম রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছে। রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তাই শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকেই গাদাগাদি করে রাখতে হচ্ছে।

চিকিৎসকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের টিকা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, শিশুদের সময়মতো টিকা না নেওয়া এবং দেরিতে হাসপাতালে আনার কারণেই এবার জটিলতা ও মৃত্যুহার বেড়েছে।

Manual3 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code