Main Menu

ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় জিম্মি, ৪২ দিন ধরে নিখোঁজ নবীগঞ্জের যুবক

Manual7 Ad Code

প্রবাস ডেস্ক: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের এক যুবককে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় আটকে রেখে ২৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পরও ছেড়ে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে। বর্তমানে আরও ২৫ লাখ টাকা দাবির পাশাপাশি নির্যাতনের পর গত ৪২ দিন ধরে ওই যুবক নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেছে পরিবার।

নিখোঁজ যুবকের নাম রায়হান চৌধুরী (৩০)। তিনি নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের বেতাপুর গ্রামের বাসিন্দা।

Manual5 Ad Code

মামলা সূত্রে জানা যায়, রায়হানের বাবা আবু তাহের চৌধুরী গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নবীগঞ্জ থানায় মানবপাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে রায়হানের এক সহপাঠীর মাধ্যমে ইতালি প্রবাসী শামীম ও তার সহযোগী রাকিব ফ্রি ভিসায় ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখান। তাদের কথায় বিশ্বাস করে রায়হানের পরিবার পাসপোর্ট হস্তান্তর করে।

পরবর্তীতে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের কথামতো গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রথমে ১০ লাখ টাকা এবং পরে আরও ২ লাখ টাকা দেওয়া হয়। পরে রায়হানকে ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরব পাঠিয়ে সেখান থেকে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়।

Manual7 Ad Code

অভিযোগ রয়েছে, লিবিয়ায় নেওয়ার পর তাকে ইতালি না পাঠিয়ে জিম্মি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে পরিবারের কাছে ফোন করে আরও ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

রায়হানের পরিবার জানায়, ভিডিও কলে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে তার একটি আঙুল কেটে ফেলার ভয়াবহ দৃশ্যও দেখানো হয়। টাকা না দিলে হাতের কবজি কেটে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ছেলেকে ফেরত আনার আশায় জমি ও স্বর্ণ বিক্রি করে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোট ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। কিন্তু এত টাকা দেওয়ার পরও রায়হানকে দেশে বা ইতালি কোথাও পাঠানো হয়নি।

এরপর আবারও ২৫ লাখ টাকা দাবি করা হলে বাধ্য হয়ে পরিবার থানায় মামলা করে। তবে মামলার পর থেকেই রায়হান নিখোঁজ বলে দাবি পরিবারের।

রায়হানের বাবা আবু তাহের চৌধুরী বলেন, ‘মামলা করে এখন আরও বিপদে পড়েছি। ৪২ দিন ধরে ছেলের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। আমাকে মামলা তুলে নিতে এবং প্রধান আসামিকে জামিনে বের করে আনার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।’

Manual8 Ad Code

তিনি আরও জানান, মামলার প্রধান আসামি গোপনে জামিন নেওয়ার চেষ্টা করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোনায়েম মিয়া বলেন, ‘মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সিআইডির কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন সিআইডি বিষয়টি তদন্ত করবে।’

Manual1 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code