Main Menu

সুনামগঞ্জে হাওরে নিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ, ভিডিও দেখে দুই ‘ধর্ষক’ চিহ্নিত

Manual8 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ১৩ বছরের এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ঘটনাটি প্রথমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চললেও পরে ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর একজনকে গ্রেপ্তার করেছে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ।

Manual2 Ad Code

গত ২ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে বীরগাঁও ইউনিয়নে ঘটনাটি ঘটে।

গ্রেপ্তারকৃত স্বপন আহমদ (১৯) নির্যাতিতা কিশোরীর প্রতিবেশী। ধর্ষণকাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় শান্তিগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনাটি প্রথম দু’একদিন চাপা থাকলেও পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এর পর পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। একজন গ্রেপ্তার হলেও ধর্ষনের সাথে জড়িত অভিযুক্ত বাকী আসামীরা রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। স্বপন আহমদ ছাড়াও অভিযুক্ত আরেকজন হচ্ছেন একই গ্রামের আশকর আলীর ছেলে মোজাহিদ আহমদ (১৯)।

Manual6 Ad Code

এছাড়া ফয়জুন নূরের ছেলে জামিল আহমদ (১৮)-এর বিরুদ্ধে নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ না থাকলেও অন্য অভিযুক্তের পরিবারের অভিযোগ, জামিল আহমদ ঘটনায় জড়িত।

স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার কিশোরীর মা মানসিক প্রতিবন্ধী এবং বাবা বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন আত্মীয় ও গ্রামবাসী জানান, গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে নিজের বসত ঘর থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পার্শ্ববর্তী হাওরে ধান ক্ষেতের পাশে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের সময় ভিডিও ধারণ করে ধর্ষণকারীরা।

ওই ভিডিওতে, দু’জন ছেলে কিশোরীকে নিয়ে ধস্তাধস্তি করতে দেখা যায়।

Manual5 Ad Code

এই ঘটনার পর রাত ১২টার দিকে মেয়েটি বাড়িতে এসে কাঁদতে থাকে। প্রথমে মা, বোন বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে সে বলে যে স্বপন ও মোজাহিদ মিলে তাকে ধর্ষণ করেছে।

এর চার দিন পর গত সোমবার রাতে ধরমপুরে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে স্বপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে তারা। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে থানা পুলিশ। স্বপন বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে।

মঙ্গলবার দিনে কিশোরীর আত্মীয়স্বজন অভিযোগ তুলেন, স্বপনকে গ্রেপ্তার করার পর রাতেই স্বপনের ভাই, বাবা ও অন্যান্য আত্মীয়রা মিলে নির্যাতিতা কিশোরীর ঘরে হামলা করেন। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অন্যত্র আশ্রয় নেন অসহায় বাক্ প্রতিবন্ধী ও নির্যাতিতার পরিবার। এসময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে টিনে ও বৈদ্যুতিক মিটারে আঘাত করে ভাঙচুর করেন তারা।

স্বপন আহমদের বাবা হাজি কালামন বলেন, আমার ছেলে নির্দোষ। সে এসবের সাথে জড়িত নয়। তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। ফয়জুন নূরের ছেলে জামিল ঘটনার সাথে জড়িত আছে। মূলত: যে মেয়ের কথা বলা হয়েছে সে ভালো না। তার পরিবারের নানা নেতিবাচক ঘটনার খবর আমরা অতীতে পেয়েছি।

মোজাহিদ আহমদের মা বলেছেন, আমার ছেলে নির্দোষ। এটি একটি চক্রান্ত। এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

জামিল আহমদের ভাই রুমন মিয়া বলেন, যে মেয়েকে নিয়ে কথা উঠেছে সে আমার রক্তের সম্পর্কে ফুফু হয়। তার সাথে কোনো খারাপ কাজের কথা আমার ভাই ভাবতেও পারে না। এটি মিথ্যা। নিজেদের বাঁচাতে অভিযুক্তদের পরিবার আমার ভাইকে জড়াচ্ছে।

Manual7 Ad Code

নির্যাতিত মেয়ের চাচা বলেন, আমি এই ঘটনায় জড়িত প্রকৃত দোষীদের শাস্তি চাই। যে রাতে ঘটনা সে রাতে আমরা মেয়েকে জিজ্ঞেস করেছি সে স্বপন ও মোজাহিদের কথাই বলেছে। একটি ভিডিও আছে সেখানেও এই দু’জনকে দেখা যাচ্ছে মেয়েকে নিয়ে ধস্তাধস্তি করতে।

শান্তিগঞ্জ থানার ওসি অলী উল্লাহ বলেন, এই ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। বাকী কাজ তদন্তাধীন। ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপে দু’জনের চেহারা সনাক্ত করা গেছে। এখানে আর কেউ জড়িত কি না তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। আমরা বাকী আসামিদের ধরতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code