মহাকাশ থেকে পৃথিবীর মনোমুগ্ধকর ছবি পাঠালেন আর্টেমিস-২ নভোচারীরা
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: চাঁদের পথে যাত্রারত আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা মহাকাশ থেকে পৃথিবীর দারুণ কিছু হাই-রেজল্যুশন ছবি পাঠিয়েছেন। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, পৃথিবী ও চাঁদের মাঝামাঝি পথ অতিক্রম করে এখন লুনার ফ্লাইবাইয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে মহাকাশযান অরিওন।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নাসা সামাজিক মাধ্যমে জানায়, আমরা এখন পথের অর্ধেক পেরিয়ে এসেছি। সংস্থাটির অনলাইন ড্যাশবোর্ড অনুযায়ী, নভোচারীদের বহনকারী অরিওন মহাকাশযানটি বর্তমানে পৃথিবী থেকে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮০ মাইল বা ২ লাখ ১৯ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।
নাসা জানিয়েছে, মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান এই মনোমুগ্ধকর ছবিগুলো তুলেছেন। চাঁদের পথে যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘ট্রান্স-লুনার ইনজেকশন বার্ন’ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই ছবিগুলো ধারণ করা হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অরিওন পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে চাঁদের দিকে যাত্রা শুরু করে।
নাসা প্রকাশিত প্রথম ছবিটির নাম দিয়েছে ‘হ্যালো ওয়ার্ল্ড’। ছবিতে দেখা যায়, নীল জলরাশির আটলান্টিক মহাসাগর, সূর্যালোক আড়াল হয়ে যাওয়ায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের এক সরু উজ্জ্বল রেখা, এবং দুই মেরুতে সবুজাভ মেরুজ্যোতি (অরোরা)।
ছবিটিতে পৃথিবীকে কিছুটা উল্টো অবস্থানে দেখা যায়। এতে বাম দিকে পশ্চিম সাহারা মরুভূমি ও আইবেরীয় উপদ্বীপ, আর ডান দিকে দক্ষিণ আমেরিকার পূর্বাংশ দৃশ্যমান। ছবির নিচের ডান পাশে একটি উজ্জ্বল গ্রহও দেখা গেছে, যা নাসা শুক্র গ্রহ হিসেবে শনাক্ত করেছে।
মিশন স্পেশালিস্ট জেরেমি হ্যানসেন হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোলকে জানান, ইঞ্জিন বার্ন সম্পন্ন হওয়ার পর নভোচারীরা যেন জানালার সঙ্গে “লেগে ছিলেন” এবং একের পর এক ছবি তুলছিলেন।
তার ভাষায়,আমরা পৃথিবীর অন্ধকার দিকের একটি চমৎকার দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি, যা চাঁদের আলোয় আলোকিত।
পরে অভিযানের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান মিশন কন্ট্রোলে যোগাযোগ করে জানতে চান, মহাকাশযানের জানালা কীভাবে পরিষ্কার করা যায়। কারণ মহাকাশের দৃশ্য দেখার আগ্রহে নভোচারীরা এত বেশি সময় জানালার পাশে কাটিয়েছিলেন যে সেগুলো কিছুটা ময়লা হয়ে যায়।
শুরুতে পৃথিবীর ছবি তুলতে কিছুটা সমস্যায় পড়েন রিড ওয়াইজম্যান। তিনি জানান, এত দূর থেকে ছবি তুলতে গিয়ে সঠিক এক্সপোজার সেটিং নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ছিল।
তিনি মিশন কন্ট্রোলকে বলেন, এটা ঠিক যেন আপনি বাড়ির পেছনে গিয়ে চাঁদের ছবি তুলতে চেষ্টা করছেন। এখন ঠিক তেমনটাই মনে হচ্ছে।
নাসা প্রকাশিত অন্য ছবিগুলোর একটিতে পৃথিবীর দিন ও রাতের স্পষ্ট বিভাজনরেখা ধরা পড়েছে, যাকে বলা হয় ‘টার্মিনেটর’। আরেকটি ছবিতে দেখা গেছে, গভীর অন্ধকারে পৃথিবীর বুকে মানুষের জ্বালানো বৈদ্যুতিক আলোর ঝিলিক।
গত বুধবার (১ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে শক্তিশালী এসএলএস রকেটের মাধ্যমে মহাকাশে যাত্রা শুরু করে আর্টেমিস-২। অ্যাপোলো মিশন শেষ হওয়ার পর এই প্রথম কোনো মানববাহী মহাকাশযান চাঁদের অভিমুখে রওনা হলো।
নাসা জানিয়েছে, আর্টেমিস-২ বর্তমানে একটি লুপ আকৃতির পথ ধরে এগোচ্ছে, যা নভোচারীদের চাঁদের অপর প্রান্ত ঘুরিয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবে। ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম মানুষ পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়িয়ে এত দূর ভ্রমণ করছে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে ৬ এপ্রিল নভোচারীরা চাঁদের দূরবর্তী অংশ (ফার সাইড) অতিক্রম করবেন এবং ১০ এপ্রিল পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
নাসা ২০২৬ সালে তোলা এই নতুন ছবিগুলোর সঙ্গে ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭ মিশনের তোলা বিখ্যাত পৃথিবীর ছবির তুলনাও প্রকাশ করেছে। অ্যাপোলো-১৭ ছিল চাঁদের বুকে মানুষের শেষ পদযাত্রা।
নাসা তাদের বার্তায় লিখেছে, গত ৫৪ বছরে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। কিন্তু একটি জিনিস বদলায়নি মহাকাশ থেকে আমাদের ঘরকে এখনও অপূর্ব দেখায়।
Related News
ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের হঠাৎ সার্ভার ডাউন
Manual2 Ad Code প্রযুক্তি ডেস্ক: জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের হঠাৎ বিশ্ব জুড়ে সার্ভারRead More
আপনার ফোন হ্যাক হয়েছে কি না বুঝবেন যে ৫ লক্ষণে
Manual7 Ad Code প্রযুক্তি ডেস্ক: স্মার্টফোন এখন মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি শুধু যোগাযোগের মাধ্যমইRead More



Comments are Closed