Main Menu

সুনামগঞ্জে বালুধসে শ্রমিক নিহত, মরদেহ গুমের অভিযোগ

Manual8 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জে জাদুকাটায় বালুধসে লিয়াকত আলী নামে এক শ্রমিক নিহতের পর মরদেহ গুমের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

Manual5 Ad Code

রোববার (২৯ মার্চ) ভোররাতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের সীমান্ত নদী জাদুকাটার পশ্চিমতীর (পাড়) কেটে খনিজ বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করতে গিয়ে বালুধসে ওই শ্রমিক নিহত হন।

নিহত শ্রমিক লিয়াকত জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাটের সিরাজপুর বাগগাঁও গ্রামের মৃত কুদ্দুছ মিয়ার ছেলে।

সহকারী পুলিশ সুপার (তাহিরপুর সার্কেল) প্রণয় রায় এ তথ্যটি নিশ্চিত করে বলেন, একই ঘটনায় জাদুকাটা নদী তীরের বালুধসে আরও দুই শ্রমিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রোববার দুপুরে নিহতের পরিবার, জাদুকাটা নদী তীরের স্থানীয় লোকজন ও থানা পুলিশ জানায়, সীমান্ত নদী জাদুকাটার পশ্চিম পাড়ে (বাঁশ বাগান) ইজারাবহির্ভূত নদী পাড়ে এ ঘটনা ঘটে।

Manual6 Ad Code

উপজেলার ঘাগটিয়ার চাঁনমিয়ার ছেলে মুসালমের নেতৃত্বে একই গ্রামের মাছুম, গড়কাটি ও লাউরগড়ের পাঁচ থেকে সাতজনের একটি প্রভাবশালী চক্র শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত অর্ধশতাধিক শ্রমিক নিয়োজিত করে রাতের আঁধারে নদীর পাড় কেটে খনিজ বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করতে থাকে।

উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের আমবাড়ি গ্রামের ইদ্রিছের ছেলে শ্রমিক সর্দার জাহাঙ্গীর একই গ্রামের ছাদেকের ছেলে শ্রমিক সর্দার নাদিমের মাধ্যমে ওই সব শ্রমিকদের দিয়ে ছোট ছোট স্টিলবডি ট্রলার লোড করে খনিজ বালু উত্তোলন করাতে থাকে।

এ সময় রোববার ভোররাতে আকস্মিক নদীপাড়ের বালুধসে পড়ে। এতে জাদুকাটা নদীর পশ্চিম পাড়েই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শ্রমিক লিয়াকত নিহত হন। আহত হন আরও দুই শ্রমিক।

Manual1 Ad Code

এদিকে তড়িঘড়ি করে থানা পুলিশকে অবহিত না করেই মুসালম চক্রের সমঝোতায় গোপনে মরদেহ ট্রলারে করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় শ্রমিক সর্দার জাহাঙ্গীর ও নাদিমচক্র।

বিষয়টি জাদুকাটা নদী তীরবর্তী মানুষজন টের পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। দুপুরের দিকে তাহিরপুর থানার এসআই পংকজ দাশ বিশ্বম্ভরপুরের সিরাজপুর বাগগাঁও গ্রামে গিয়ে নিহত শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন।

এ বিষয়ে মুসালম বলেন, আমি বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলাম। কী হয়েছে, কে নিহত হয়েছে- এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

Manual4 Ad Code

রোববার সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহ আলম তুলিপ বলেন, জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে দরিদ্র শ্রমিকদের অবৈধভাবে জাদুকাটা নদীর পাড় কাটতে রাতের আঁধারে নিয়োজিত করা, শ্রমিকের বালিধসে মৃত্যু ও পরবর্তী সময়ে গোপনে মরদেহ সরিয়ে ফেলা এটি আইনের দৃষ্টিতে হত্যাকাণ্ডের শামিল।

সঠিক আইন প্রয়োগ করা হলে নদীর পাড় কেটে খনিজ বালু চুরিসহ এ ধরনের মৃত্যু প্রতিরোধ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও জানান তিনি।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code