Main Menu

৮ বছরেও শেষ হয়নি সুনামগঞ্জের শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতুর কাজ

Manual2 Ad Code

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: প্রাকৃতিক স¤পদ ও অপরূপ সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ হাওরবেষ্টিত ভাটির জনপদ তাহিরপুর। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে সুনামগঞ্জ জেলার অন্যতম পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত এই উপজেলা। তবে সম্ভাবনাময় এই জনপদের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা। একটি সেতুর অভাবে পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বাদাঘাট বাজার জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ বাজার। বাজারটি বাদাঘাট উত্তর ইউনিয়নে অবস্থিত। এখানে তাহিরপুর সদর, উত্তর শ্রীপুর, বড়দল উত্তর, বড়দল দক্ষিণসহ আশপাশের অন্তত পাঁচটি ইউনিয়নের কয়েক লক্ষ মানুষ প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাবেচা করতে আসেন।

Manual4 Ad Code

স্থানীয়দের দাবি, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এই বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনেক ক্ষেত্রে জেলা সদরের চেয়েও কম। এমনকি জেলা সদর ছাড়া অন্য অনেক উপজেলায় যে পণ্য পাওয়া যায় না, তাও এই বাজারে সহজেই পাওয়া যায়। এছাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নে রয়েছে বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী (বীরেন্দ্রনগর) – এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শুল্ক স্টেশন। এসব শুল্ক স্টেশন থেকে সরকার প্রতি বছর কয়েকশ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে পর্যটন ¯পট, শুল্ক স্টেশন ও বাদাঘাট বাজারকেন্দ্রিক এই সম্ভাবনাময় এলাকায় এখনও তেমন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, তাহিরপুরের পর্যটন এলাকা, বৃহৎ বালুমহাল ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু বাদাঘাট বাজার। কিন্তু যাদুকাটা নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে দেশি-বিদেশি পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে অনেকেই এ অঞ্চলে আসতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

Manual5 Ad Code

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পর্যটক, আমদানিকারক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের যাতায়াত সহজ করতে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে যাদুকাটা নদীর ওপর হযরত শাহ আরেফিন ও অদ্বৈত মৈত্রী সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রায় ৭৫০ মিটার দীর্ঘ এ সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৮৫ কোটি ৯৯ লাখ ৩০ হাজার ৬৭৮ টাকা। সেতুটি নির্মাণের কার্যাদেশ পায় দেশের অন্যতম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন। প্রকল্পটির মেয়াদকাল ধরা হয়েছিল আড়াই বছর। সে অনুযায়ী ২০২১ সালের জুন মাসের মধ্যেই সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পরও এখনও সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। আড়াই বছরের প্রকল্প এখন প্রায় ৮ বছরেও স¤পন্ন না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।

Manual8 Ad Code

সরেজমিনে দেখা যায়, যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর বিন্নাকুলী ও গরকাটি দুই তীরের অংশের কাজ অনেকটাই স¤পন্ন হয়েছে। তবে সেতুর মধ্যবর্তী অংশের কাজ এখনও অস¤পূর্ণ রয়ে গেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি আমাদের বহুদিনের স্বপ্নের সেতু। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও কাজ শেষ হচ্ছে না। আমরা জানতে চাই -এই স্বপ্নের সেতু বাস্তবায়নে আর কত বছর লাগবে?
তাহিরপুরবাসীর দাবি, দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ স¤পন্ন করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো হলে পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সীমান্ত বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code