৪ দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা দেবে না যুক্তরাজ্য
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রথমবারের মতো চারটি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রদানে জরুরি স্থগিতাদেশ জারি করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। অভিযোগ উঠেছে, কিছু নাগরিক শিক্ষার্থীসহ বৈধ ভিসা ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে দেশটিতে প্রবেশের পর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করছেন।
গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) স্থানীয় সময় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেসব দেশের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে, সেগুলো হলো আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মিয়ানমার ও সুদান। পাশাপাশি আফগান নাগরিকদের জন্য ওয়ার্ক ভিসাও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব দেশের অনেক নাগরিক বৈধ অভিবাসন পথ, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবহার করে ব্রিটেনে প্রবেশের পর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করছেন। ফলে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে শাবানা মাহমুদ বলেন, যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের অবস্থান সবসময় মানবিক থাকবে। তবে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। যারা এই সুযোগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন, তাদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করা প্রায় এক লাখ মানুষের মধ্যে ৩৯ শতাংশই শিক্ষার্থী ভিসাসহ অন্যান্য বৈধ উপায়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।
হোম অফিস জানিয়েছে, ২০২১ সাল থেকে গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মিয়ানমার ও সুদানের নাগরিকদের শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তনের মাধ্যমে এই ভিসা সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে গত নভেম্বরে অ্যাঙ্গোলা, নামিবিয়া এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে সম্মত না হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন শাবানা মাহমুদ। পরে তিন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রত্যাবাসন ফ্লাইটের মাধ্যমে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়া শুরু হয়।
এদিকে আগামী বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক আশ্রয় ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করার একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, এখন থেকে প্রত্যেক শরণার্থীকে জানানো হবে যে তাদের আশ্রয়ের মর্যাদা অস্থায়ী হবে এবং এর মেয়াদ থাকবে ৩০ মাস।
যেসব দেশের পরিস্থিতিকে যুক্তরাজ্য সরকার নিরাপদ বলে বিবেচনা করবে, সেসব দেশের আবেদনকারীদের নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।
গত সপ্তাহে গর্ডন ও ডেন্টন উপনির্বাচনে লেবার পার্টি তৃতীয় হওয়ার পর দলটির কয়েকজন এমপি, লর্ড সভার সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলো সরকারকে আরও প্রগতিশীল নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে এর মধ্যেই অভিবাসন নীতিতে কঠোরতার এই পদক্ষেপ সামনে এলো।
Related News
সৌদির দাম্মাম বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পর এবার দাম্মাম বিমানবন্দরের কার্যক্রমও বন্ধRead More
সৌদির বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা, ২ বাংলাদেশিসহ নিহত ১২
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ভয়াবহ এক হামলাRead More



Comments are Closed