Main Menu

সিলেটে রমজানের আগে লাগামহীন দ্রব্যমূল্য, মানা হচ্ছেনা সিসিকের মূল্য তালিকা

Manual5 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রোজা শুরুর প্রাক্কালে সিলেট মহানগরীতে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতির চিত্র দেখা গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে মাছ, মাংস, ফলমূলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

Manual2 Ad Code

বুধবার নগরীর আম্বরখানা, বন্দরবাজার, মদিনা মার্কেট, সুবিদবাজার ও কাজিরবাজার এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, বিশেষ করে মাংস ও মাছের দোকানগুলোতে আগের তুলনায় বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। রমজানের শুরুতে মাংসের চাহিদা বেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ব্রয়লার ও সোনালী মুরগির বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

ব্রয়লার মুরগির দাম এক সপ্তাহে কেজিপ্রতি ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি যে মুরগি ১৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, তা এখন স্থানভেদে ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। প্রায় সব ধরনের মাছেই কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

ফলমূলের বাজারেও ঊর্ধ্বগতির প্রভাব পড়েছে। ইফতারে বহুল ব্যবহৃত কলার দাম হালিপ্রতি আকারভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। পাশাপাশি আপেল ও কমলার দামও আগের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

লেবু ও শসার দামেও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। কয়েকদিন আগেও যে লেবু ৩০ থেকে ৪০ টাকায় হালি বিক্রি হয়েছিল, তা এখন আকারভেদে ৯০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে তার প্রভাব পড়েছে।

Manual5 Ad Code

নগরীর তালতলা এলাকার বাসিন্দা আবদুল কাদির বলেন, রমজান এলেই বাজারে চাপ বাড়ে, তবে এবার আগেভাগেই দাম বেড়ে গেছে। নির্ধারিত দামের সঙ্গে বাজারের দামের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটি বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

Manual1 Ad Code

অন্যদিকে বন্দরবাজারের এক মাংস বিক্রেতা জানান, সরবরাহ স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম এবং চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এ কারণেই বাজারে দাম সমন্বয় হচ্ছে। পাইকারি পর্যায়ে বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

Manual8 Ad Code

উল্লেখ্য, গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নগরভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার রমজানে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির আহ্বান জানান। সভায় গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকা, মহিষের মাংস ৬৫০ টাকা, খাসির মাংস ১১০০ টাকা, ছাগল ও ভেড়ার মাংস ১০০০ টাকা, সোনালী মুরগি ৩১০ টাকা এবং পোল্ট্রি মুরগি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। বাজারে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ভেজাল প্রতিরোধ এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল।

তবে বাজার ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বিক্রেতারা এই তালিকার পরিবর্তে সিসিককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মূল্য তালিকা না টানিয়ে বিক্রি করছেন প্রকাশ্যেই। নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে বেশি দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। তারা বলছেন, নিয়মিত বাজার তদারকি না থাকায় কেউ নির্ধারিত মূল্য মানছেন না। নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে গরুর মাংস ৮০০ থেকে ৯০০টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একই বাজারে ভিন্ন দোকানে ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে গরু ও খাসির মাংস।

ক্রেতারা বলছেন, রমজানকে সামনে রেখে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য রক্ষা এবং নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হলে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে। বর্তমানে বাজারের অস্থিরতা রোজাদারদের জন্য বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, আমাদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা হচ্ছে। সিসিকের নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে মাংস বিক্রি করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code