Main Menu

লন্ডন থেকে লরিতে ফ্রান্সে পাচার, ২৩ বাংলাদেশি উদ্ধার

Manual2 Ad Code

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: লন্ডন থেকে লরিতে করে ফ্রান্সে পাচারের চেষ্টাকালে ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেছে ব্রিটিশ ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ)। ডোভার বন্দরে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে এই উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়। একই সঙ্গে পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসকেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক উন্মোচিত হয়েছে।

Manual5 Ad Code

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির সংবাদে বলা হয়েছে , ডোভার সীমান্তের ফেরি বন্দরের কাছে এনসিএর একটি বিশেষ অভিযানে মানবপাচার চক্রের কৌশল ফাঁস হয়। এ সময় একটি লরি তল্লাশি করে ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। আশ্চর্যের বিষয়, তাদের মধ্যে ২২ জনই যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে বসবাস করছিলেন, তবে ফ্রান্সের কঠোর প্রবেশ বিধিনিষেধ এড়াতে তারা এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নেন। অভিযানে পাচারকারী চক্রের মূল হোতা হিসেবে নিউ ক্রসের ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার কাছ থেকে ৩০ হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ করা হয়।

এনসিএর কর্মকর্তারা বলেছেন, এই চক্রটি দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে অভিবাসী পাচারে জড়িত ছিল এবং বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছিল।

Manual5 Ad Code

তদন্তে আরও জানা গেছে, মানব পাচার চক্রটির শিকড় টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মহলের ভেতরে গভীরভাবে বিস্তৃত। চক্রের একাধিক সদস্য কাগজে-কলমে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করলেও বাস্তবে তারা স্ত্রী ও নিকট আত্মীয়দের নামে একাধিক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।

Manual2 Ad Code

এই ব্যবসাগুলোর আড়ালে মানব পাচারের অর্থ লন্ডারিং করে তারা গত ১৫ বছরে বিপুল সম্পদের মালিক হন। একসময় সাধারণ দোকানদার হিসেবে পরিচিত এসব ব্যক্তি এখন তদন্তকারীদের কাছে ‘ছদ্মবেশী কোটিপতি’ হিসেবে পরিচিত।

এই পাচার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল লন্ডনের একদল প্রাইভেট ট্যাক্সি চালক। সম্প্রতি অভিযানে ৪৩ থেকে ৫৫ বছর বয়সী তিনজন ট্যাক্সি চালককে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের কাজ ছিল লন্ডনের বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিবাসীদের সংগ্রহ করে কেন্টের হুইটস্টেবল এলাকার একটি গোপন স্থানে পৌঁছে দেওয়া। সেখান থেকে অভিবাসীদের লরিতে তুলে ডোভারে নেওয়া হতো। প্রাইভেট ট্যাক্সি ব্যবহারের মাধ্যমে চক্রটি দীর্ঘদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলতে সক্ষম হয়।

এনসিএ বর্তমানে প্রায় ১০০টি গুরুতর অভিবাসন সংক্রান্ত অপরাধের তদন্ত চালাচ্ছে। তবে টাওয়ার হ্যামলেটসকেন্দ্রিক এই মানব পাচার চক্রটি সংস্থাটির জন্য সবচেয়ে বড় ও জটিল চ্যালেঞ্জগুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে।

Manual6 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code