Main Menu

ধানের শীষ নির্বাচিত হলে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হবে : তারেক রহমান

Manual4 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ নির্বাচিত হলে স্বৈরাচার মুক্ত দেশে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর সিলেটের আলীয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় এ কথা বলেন তিনি।

বক্তব্যের শুরুতেই বিএনপি প্রধান তারেক রহমান ইলিয়াস আলী, ছাত্রদল নেতা জুনেদ আহমদ ও ইফতেখার আহমেদ দিনারকে স্মরণ করেছেন। তিনি বলেন- এরাসহ অসংখ্য নেতাকর্মী ও জনসাধারণের জীবন এবং রক্তের বিনিময়ে আমরা এখানে সমবেত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। আমরা গত ১৫ বছরের কালো সময়কে বদলে দিতে চাই।

জনসভায় মঞ্চে উঠেই সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় উপস্থিত জনতাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সালাম জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আফনারা ভালা আছইননি’।

তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৬ বছরে উন্নয়নের নাম করে দেশের জনগণের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা পালিয়ে গিয়েছে, যারা বাক-স্বাধীনতা, ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়েছিল, তারাই ইলিয়াস আলীর মতো শত হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। গুম খুনের মামলা দিয়ে জর্জরিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার সময়, খালেদা জিয়ার সময় যেভাবে দেশ এগিয়ে গিয়েছিল—কলকারখানা তৈরি হয়েছিল, কর্মসংস্থান হয়েছিল, মানুষ বিদেশে কাজের সুযোগ পেয়েছিল—সেই ধারায় আমরা আবার দেশ গড়তে চাই। তাই আমাদের অঙ্গীকার, করবো কাজ, গড়বো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো সক্রিয়। দেশে-বিদেশে বসে যারা ষড়যন্ত্র করছেন, তাদের থেকে সচেতন থাকতে হবে। দেশের মানুষ আগেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছে। আগামীতেও জনগণ ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।

লাখ লাখ মানুষের এই জমায়েতের জন্য হাজারো মানুষ ২০২৪ সালে জীবন দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একাত্তরের স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে ২০২৪ সালের গণতন্ত্রকামীরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, টেক ব্যাক বাংলাদেশের অর্ধেক পূরণ করেছি, স্বৈরাচার মুক্ত করেছি। গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু হবে ধানের শীষকে বিজয়ী করার মধ্য দিয়ে।

Manual4 Ad Code

তিনি বলেন, নারীদের বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিল বিএনপি। আমরা ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মা-বোনদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে চাই।

তারেক রহমান বলেন, যেমন দিল্লি নয়, তেমনি পিন্ডি নয়—নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। আমরা বিশ্বাস করি, দেশের মানুষই রাজনৈতিক সকল ক্ষমতার উৎস। তাই আমরা দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে বিশ্বাস করি। বিএনপি শুধু ভোট ও কথা বলার অধিকার নয়—দেশের নারী সমাজ, মা-বোন, যুব সমাজ, কৃষকসহ প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চায়।

মহাসড়কের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেছেন, সিলেট থেকে ঢাকায় যেতে বা ঢাকা থেকে সিলেটে আসতে যত সময় লাগে তা লন্ডনে যেতেও লাগে না।

তিনি বলেন, ‘২০০৫ সালে আমি এসেছিলাম, যখন সুনামগঞ্জে বন্যা হয়েছিল। তখন আমার আসতে সাড়ে চার ঘণ্টার মতো সময় লেগেছিল। কিন্তু আজ প্রায় ১০ ঘণ্টার মতো সময় লাগে। সিলেটের এই পুণ্যভূমির বহু মানুষ আছেন যারা লন্ডনে যাতায়াত করেন—লন্ডন যেতেও এত সময় লাগে না। এই হলো উন্নয়নের ফিরিস্তি।’

Manual4 Ad Code

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন- আপনারা দেখেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কীভাবে ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটেছে। পলাতক স্বৈরশাসক যেভাবে ভোট ডাকাতি করেছিলো, এখনও একটি দল সেভাবে ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্র করছে, এদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সজাগ-সতর্ক থাকতে হবে।

তারেক রহমান একটি দলকে ইঙ্গিত করে বলেন- এই আসমান-জমিন-বেহেশত-দোজখ সবকিছুর মালিক আল্লাহ তা’লা। কিন্তু একটি দল ভোটের বিনিময়ে আল্লাহর মালিকানাধীন বেহেশত মানুষকে দিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এটি অনেক বড় প্রতারণা। নির্বাচনের আগেই যারা এত বড় প্রতারণা করছে, ভোটে বিজয়ী হলে তারা কীরকম প্রতারণা দেশের মানুষের সঙ্গে করবে, সহজেই বুঝে নেন।

তিনি বলেন- একটি দল বলে, সবকে দেখা হয়ে গেছে; এখন আমাদের ভোট দিন। কিন্তু ওই দলকে তো একাত্তর সালে মানুষ দেখে ফেলেছেন। আমরা যেমন দিল্লির আনুগত্য চাই না, তেমনি চাই না পিন্ডির।

ফ্যামিলিসহ বিভিন্ন কার্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জিয়াপুত্র জনসভায় বলেন- প্রতিটি পরিবাকে সুখি-সমৃদ্ধ করার বিস্তর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিএনপি। এছাড়া সিলেটের নদ-নদীসহ বিভন্ন জায়গায় আমরা খাল খনন করবো। কিন্তু এসব বাস্তাবায়ন করতে গেলে আপনাদের সবাইকে ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করতে হবে।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদি, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ আসনের দলীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর যৌথ পরিচালনায় জসনভায় কেন্দ্রীয় ও সিলেট বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

সিলেট সফরে তারেক রহমানের সাথে স্ত্রী জুবাইদা রহমান ছাড়াও রয়েছেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, তারেক রহমানের একান্ত সচিব আব্দুস সাত্তার, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা একেএম শামসুল আলম, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন এবং মহাসচিবের ব্যক্তিগত সহযোগী ইউনূস আলী।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে তারেক রহমানকে বহনকারী গাড়িবহর আলিয়া মাদরাসা মাঠে পৌঁছে। দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে তিনি সভামঞ্চে ওঠেন। পরে দুপুর ১টার দিকে জনসভায় বক্তব্য শুরু করেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

Manual1 Ad Code

এর আগে সকাল থেকেই বিএনপির নির্বাচনী জনসভাকে ঘিরে আলিয়া মাদরাসা মাঠ ও আশপাশের সড়ক এলাকায় লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। সিলেট নগরীসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে দলে দলে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে জড়ো হন। শীত উপেক্ষা করে বুধবার রাত থেকেই অনেক নেতাকর্মী মাঠে অবস্থান নেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এ সমাবেশ থেকে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার মোট ১১টি আসনে দল ও জোট মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে।

জনসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের নেতা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করে আমরা একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। এ কাজে আমরা আপনাদের সহযোগীতা চাই।

তিনি বলেন, আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে একটি বিশেষ দলের ব্যাপারে। যারা আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেন। যারা স্বাধীনতার বিরোধী ছিল। তারা আমাদের নামে কুৎসা রটাচ্ছে। এমনকি আমাদের নেতা তারেক রহমান সম্পর্কেও কুৎসা রটাচ্ছে। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

Manual8 Ad Code

জানা যায়, নির্বাচনের প্রচার শুরু করার জন্য বুধবার রাত ৮টার দিকে ঢাকা থেকে একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরে নামেন তিনি। ৯টা ১৮ মিনিটে হজরত শাহজালাল (রহ) এর মাজার ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর কবর জিয়ারত করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে হজরত শাহপরান (র.) এর মাজার জিয়ারত শেষে শ্বশুর বাড়ি রওনা দেন।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে শ্বশুর বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বিরাহিমপুর গ্রামে পৌঁছান। সাবেক মন্ত্রী অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান তার শ্বশুর। শ্বশুরবাড়িতে বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান স্থানীয় মুরুব্বি ও এলাকাবাসীর দোয়া কামনা করেন।

সিলেটের জনসভা শেষ করে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকায় ফিরবেন। ফেরার সময় তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এবং হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় আয়োজিত পৃথক দুটি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। পথে কিশোরগঞ্জের ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে আয়োজিত সভায় বক্তব্য দেবেন।

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code