গভীর রাতে শাবিপ্রবিতে অবরোধ প্রত্যাহার, আজ গোলচত্ত্বরে সমাবেশের ঘোষণা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: উপাচার্যকে সিলেট না ছাড়ার শর্তে অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন শাকসু নির্বাচনের দাবিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে তারা প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দেন এবং মঙ্গলবার সকালে ক্যাম্পাসের গোলচত্ত্বরে সমাবেশের ঘোষণা দেন।
এ ব্যাপারে শাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী পলাশ বখতিয়ার বলেন, ভিসি প্রোভিসি ট্রেজারাররা অবরুদ্ধ ছিলেন, তাদের পক্ষ থেকে যেন সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয় সেই প্রেক্ষিতে আমরা তাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছিলাম, আপনারা জানেন শাকসু নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২০ একরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই এমনকি আমাদের প্রশাসনের হাতেও পুরোটা নেই এটি কিন্তু হাইকোর্টে চলে গিয়েছে। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন তারা যতকিছু করা সম্ভব তারা রিটটি খারিজ করার চেষ্টা করবেন।
তিনি আরও বলেন, আমার নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেছি ভিসি স্যার ক্যাম্পাস ছেড়ে যাবেন না তিনি এটিও আশ্বস্ত করেছেন যদি উনাকে ঢাকা যাওয়ার দরকার হয় তিনি শুধু ঢাকা যাবেন শাকসু বাস্তবায়নের জন্য। আপনারা জানেন চেম্বার কোর্ট বিকেল ৩ টায় খুলে এবং তারা সকাল থেকেই চেষ্টা করবেন।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিন্ডিকেটের সাথে বৈঠক করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে বৈঠক শেষে শাকসু নির্বাচনের জন্য আইনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী। তবে নির্বাচন না হওয়ার আগ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরাও।
এছাড়া টানা দুই ঘন্টাব্যাপী শিক্ষার্থীদের সাথে চলে সিন্ডিকেটের বৈঠক। বৈঠকে গাফিলতির কারণে নির্বাচন স্থগিতাদেশ এসেছে বলে প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, যেহেতু তিন শিক্ষার্থীর রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট শাকসু নির্বাচন স্থগিত করেছেন এবং আমরাও এই রায়ের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে আবেদন করেছি সেক্ষেত্রে আমরা আইনী লড়াই চালিয়ে যাব।
তিনি আরও বলেন, যদি চেম্বার আদালত আমাদের কাল (মঙ্গলবার) রায় দেয় নির্বাচনের তাহলে আমরা পরশুই নির্বাচনের আয়োজন করতে পারব।
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন না হলে ৯ হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়বে বলে দাবি করছে জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংকের (ইউটিএল) সাস্ট চ্যাপ্টার।
সোমবার সন্ধ্যায় (১৯ জানুয়ারি) এই আশঙ্কার কথা জানান ইউটিএল সাস্ট চ্যাপ্টারের সদস্য সচিব অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘শাকসু নির্বাচন যদি বন্ধ হয়ে যায়, লম্বা সময়ের জন্য আমাদের ৯ হাজার শিক্ষার্থী সেশনজটে পড়বে। তাদের শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়ে যাবে। আমরা শিক্ষক হিসেবে কোন অবস্থাতেই একদিনের জন্যও ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ হোক এটা চাই না।’ এজন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে শাকসু নির্বাচন সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, চেম্বার জজ আদালত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আবেদন গ্রহণ করেছেন। কিন্তু শুনানী আজকে (সোমবার) হচ্ছে না বলেই আমরা জেনেছি। যার পরবর্তী সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেট নিবে। দ্রুতই জরুরী সিন্ডিকেট সভা শুনেছি ডাকা হবে। আমরা যারা শিক্ষক আমরা আসলে আশা করছি চেম্বার জজ আদালত দ্রুতই রায় প্রদান করবে।
সংগঠনটির সাস্ট চ্যাপ্টারের আহবায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘যেহেতু আদালত স্থগিত ঘোষণা করেছেন এবং আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেহেতু আবেদন করেছেন, সেটির রায় আশা করি দ্রুতই দিবে চেম্বার জজ। এখন আমি বলতে পারতেছি না মঙ্গলবার নির্বাচন হবে কি না। এটি সম্পূর্ন নির্ভর করছে চেম্বার জজের রায়ের উপর। শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী বিশেষ করে সিলেটবাসী এবং সাস্টের মঙ্গলের জন্য আদালত শাকসুর পক্ষে রেজাল্ট দিবে।’
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন যথাসময়ে আয়োজনের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। এর অংশ হিসেবে সোমবার প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। এতে ১৩ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে নিজ নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি), উপ-উপাচার্য (প্রোভিসি), কোষাধ্যক্ষ ও রেজিস্ট্রারসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
এর আগে শাকসু নির্বাচন আয়োজনে হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের প্রতিবাদে রোববার (২০ জানুয়ারি) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা ২টা থেকে বিকেলে সাড়ে ৫ টার দিকে টানা তিন ঘন্টা সড়ক অবরোধের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর ও প্রশাসনের ভবনের সামনে গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
শিবির সমর্থিত দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী দেলোয়োর হাসান শিশির জানান, হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে আমাদের ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিত হওয়ার প্রতিবাদে আমরা সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করেছিলাম তবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে আমরা সড়ক থেকে সরে এসে এবার ক্যাম্পাসের ভিতরে প্রশাসনিক ভবন ও গোল চত্বরে অবস্থান নিয়েছি। আমাদের দাবি একটাই মঙ্গলবার শাকসু চাই, দাবি না মানা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
এদিকে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিতের জন্য হাইকোর্টে রিট করা শিক্ষার্থী ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে হাইকোর্ট চার সপ্তাহের জন্য নির্বাচন স্থগিত ঘোষণার পরই এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাথীরা।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সালেহ মো. নাসিম বলেন, যার রিটের প্রেক্ষিতে আমাদের বহুল প্রতীক্ষিত শাকসু নির্বাচন স্থগিত হয়েছে তাকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছি। সে নিজে একজন স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী হয়ে একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে গিয়ে আমাদের ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শাকসু নির্বাচন স্থগিত করেছে আমরা তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করছি।
Related News
সিলেট নগরীতে ৯৫টি ‘ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র’, মোট কেন্দ্র ২৯৪টি
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সিলেট মহানগর পুলিশের ছয়টি থানা এলাকায়Read More
সিলেট-৩: স্বতন্ত্র প্রার্থী মইনুল বাকরের ২১ দফা ইশতেহার ঘোষণা
Manual2 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: জনতার ও দেশ গড়ার শপথ নিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনেRead More



Comments are Closed