সিলেটকে আধুনিক ও পর্যটন নগরী হিসেবে গড়তে যাত্রা শুরু করছে সিউক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাকে পরিকল্পিত, সমন্বিত, টেকসই ও আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)।
আগামী ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে সিউকের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন সকাল ১১টায় নগরের বন্দরবাজার-সংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১২টায় নগরীর নাইওরপুলস্থ সিউকের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কায়েস লোদী এসব তথ্য জানান।
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০২৩-এর আওতায় গঠিত সিউকের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আধুনিক ও পর্যটনবান্ধব নগরী প্রতিষ্ঠা, সুষম ও পরিকল্পিত উন্নয়ন, ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকা নির্ধারণের প্রস্তাবে সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, গোলাপগঞ্জ ও বিশ্বনাথ উপজেলার ৪১টি ইউনিয়ন এবং সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকা অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত এলাকার আয়তন প্রায় ৯৫৫ বর্গকিলোমিটার।
সিউকের পরিকল্পিত কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ভূমির যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, ভবন নির্মাণ ও অনুমোদন-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা, নতুন আবাসন প্রকল্প গ্রহণ, নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আবাসন সমস্যা সমাধান, নাগরিক সুবিধা সৃষ্টি ও সংরক্ষণ এবং পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ।
এ ছাড়া পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নগর ব্যবস্থাপনা, উড়ালসেতু ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং নালা-খাল-নদীর উন্নয়নেও প্রকল্প গ্রহণের সুযোগ থাকবে।
কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক পর্যায়ে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন, দুটি জোনাল অফিসের স্থান নির্বাচন, বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে সবুজায়ন, গ্রিন বিল্ডিং সার্টিফিকেশন এবং নিম্নআয়ের মানুষের জন্য আবাসন ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি সিলেট-তামাবিল সড়ক ও বাদাঘাট এলাকার আবাসিক উন্নয়ন, বিভিন্ন সংযোগ সড়ক, বাইপাস ও ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
উদ্বোধনী কার্যক্রমের পর সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, পেশাজীবী সংগঠন এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। পাশাপাশি নগর উন্নয়ন বিষয়ে সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সিউকের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে সিলেটের অপরিকল্পিত নগরায়ণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরিবেশসম্মত উন্নয়ন, পর্যটন অবকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে নতুন গতি আসতে পারে।
সিলেটকে বাসযোগ্য, আধুনিক ও বিশ্বমানের পর্যটন নগরীতে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করে সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান।
২৫ আগস্ট সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। উদ্বোধক হিসেবে থাকবেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রবাসী ও বৈদেশিক কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। এছাড়া সিলেটের বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকেরা উপস্থিত থাকবেন।
Related News
জলাতঙ্ক নির্মূলে সিলেটে শুরু হলো কুকুরের টিকাদান কর্মসূচি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির আওতায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডে বেওয়ারিশ ও পোষাRead More
নিরাপত্তাহীনতায় উত্তর কালনীরচরবাসী, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের ওসমানীনগর ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার উত্তর কালনীরচর গ্রামের বাসিন্দারা হামলা, বাড়িঘরRead More



Comments are Closed