Main Menu

সিলেট বিভাগে ১৮ দিনে ২৩ জনের অপমৃত্যু

Manual5 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট বিভাগের কোথাও না কোথায় প্রায় প্রতিদিনই মিলছে লাশ। হয়তো খুন, না হয় আত্মহত্যা, নয়তো দুর্ঘটনা। গত ১৭ দিনে এইভাবে মোট ২৩ জনের অপমৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত এসব ঘটনায় সিলেটজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

চলতি মাসের প্রথম দিনে (১ নভেম্বর) ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীরে বাস–প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে খাদিমপুর এলাকার হারুন মিয়া ও তার মেয়ে আনিছা বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যান। একই পরিবারের আরও চারজন আহত হয়ে ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। একইদিন ভোলাগঞ্জ পয়েন্টে পর্যটকবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ট্রাক্টরের চাপায় জামালপুরের মোবারক হোসেনের ছেলে জিয়াউল হক প্রাণ হারান এবং আরও পাঁচজন আহত হন।

পরদিন (২ নভেম্বর) কানাইঘাট উপজেলার লামা ঝিংগাবাড়ীতে রংয়ের কাজ করতে গিয়ে নওয়ামাটির নুর মোহাম্মদের ছেলে জসিম রানা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। একই দিনে শাহপরাণ মাজার পুকুর থেকে সুনামগঞ্জের মঙ্গলকাটা এলাকার লাল মিয়ার ছেলে হারুন মিয়ার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন।

Manual7 Ad Code

৪ নভেম্বর হবিগঞ্জের মাধবপুরে করড়া গ্রামের ভাড়া বাসায় স্ত্রী শাপলা আক্তারকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে হাজির হন তার স্বামী দক্ষিণ সুরমার রাজন মিয়া। পুলিশ বালুর স্তুপ থেকে শাপলার লাশ উদ্ধার করে। একই দিন ওসমানীনগরের তাজপুর বাজারে “শ্রী গোবিন্দ জুয়েলার্স”-এর দোকানঘর থেকে হবিগঞ্জের মারকুলির মৃত কানু বণিকের ছেলে উজ্জ্বল বণিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়; প্রাথমিকভাবে তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন মেলেনি।

৫ নভেম্বর সিলেট–তামাবিল সড়কের খাদিমনগরে ট্রাক–সিএনজির সংঘর্ষে উমনপুর গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে মুন্না ও বাহুবল এলাকার তাজুল ইসলাম মারা যান।

Manual8 Ad Code

দু’দিন পর (৭ নভেম্বর) জৈন্তাপুরের পাখিটেকিতে চলন্ত অটোরিকশা থেকে পড়ে কলাগ্রামের আব্দুল সামাদের ছেলে হারুন অর রশিদ নিহত হন। একই দিন নবীগঞ্জের বনগাঁও নতুন জামে মসজিদে জুমার নামাজের সময় ছুরিকাঘাতে নিহত হন স্থানীয় সুনাহর মিয়ার ছেলে ইমরুল মিয়া। পুলিশ জানায়, পূর্বের একটি ঘটনার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

Manual8 Ad Code

পরদিন (৮ নভ্ম্বের) জৈন্তাপুরে আসামপাড়ার মফিজ মিয়ার ছেলে সাইদুল ইসলামকে আম গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়; ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।

৯ নভেম্বর মাধবপুরের সম্পদপুর গ্রামে দুই সন্তানের মা সানজিদা আক্তারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পরিবার দাবি করেছে, এটি পরিকল্পিত হত্যা; বিষয়টি তদন্তাধীন। একইদিন মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মনসুর গ্রামের স্বপন আহমেদ নিজ কক্ষে ফাঁস দেন; পুলিশ জানিয়েছে, তিনি মৃত্যুর আগে মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন।

১১ নভেম্বর সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বেড়া লাগাকে কেন্দ্র করে আঙ্গুর মিয়ার ছেলে শামীম মিয়া হামলার শিকার হয়ে মারা যান। পরদিন (১২ নভেম্বর) দোয়ারাবাজারে পুকুরে ডুবে দুই শিশু—রাহিম ও মোহাম্মদ—মারা যায়, যা এলাকায় গভীর শোক সৃষ্টি করেছে।

Manual1 Ad Code

১৩ নভেম্বর সিলেটের বালুচর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরোধকে কেন্দ্র করে ছাতকের কান্দিগাঁও গ্রামের ফাহিম (২৩) গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরিবার জানায়, তিনি মৃত্যুর আগে হামলাকারীদের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছিলেন। পুলিশ বিষয়টি যাচাই করছে। একই দিন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় একজন নিহত হন। নিহত পল্লব রায়ের বাড়ি সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশায়। এসময় আরো ২ কিশোর আহত হয়। একই দিন সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় নাইট মিনিবার ফুটবল খেলার সময় অসাবধানতাবশত গাছের সাথে মুখমণ্ডলে আঘাত পেয়ে নবম শ্রেণির এক ছাত্রের মৃত্যু হয়। নিহতের নাম ইমন আহমেদ (১৬)। অপরদিকে, ওইদিন কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার হোটেল ওয়ার্ল্ড বিচের ৫০৭ নম্বর কক্ষ থেকে সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার মনিপুর এলাকার মোহাম্মদ মতিউর রহমানের ছেলে ফরহাদ হোসেন সৌরভের (২২) লাশ উদ্ধার করা হয়। মোবাইল ফোনে প্রেমিকার সাথে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

১৫ নভেম্বর সিলেটে নিজ বাসায় এক মেডিকেল কলেজ ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জালালাবাদ থানার করেরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জালালাবাদ রাগিব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অমৃকা রঞ্জন শর্মার মেয়ে প্রিমা শর্মাকে (২২) সকালে নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা।

সর্বশেষ ১৮ নভেম্বর হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় গাছের বাগান থেকে রনি মিয়া (২৭) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত রনি উপজেলার বাঘাসুরা গ্রামের কুতুব মিয়ার ছেলে। নিহতের মা রেজিনা বেগম বলেন, “গতকাল রাতে রনি ঘর থেকে বের হয়। এরপর আর ফিরেনি। সকালে বাড়ির পাশে গাছের বাগানে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পাই।”

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি উত্তর) ও মিডিয়া অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা ইতিমধ্যে প্রতিটি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। এসব ঘটনায় মৃতদেহের ময়নাতদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ বের করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, তদন্তে অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code