Main Menu

সুনামগঞ্জে ফসলি জমি কেটে বালু লুট, লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিরুদ্ধে মামলা

Manual3 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের ধোপাজান নদের তীরে ব্যক্তিমালিকানাধীন ফসলি জমি কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ‘লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রায় পাঁচ কোটি টাকার বালু তুলে বিক্রি করেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন পৌর শহরের দক্ষিণ আরপিননগর এলাকার বাসিন্দা গোলাম হোসেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

Manual3 Ad Code

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. নাজমুল হুদা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, বাদীর পরিবারের ২ একর ৪০ শতক ফসলি জমি ধোপাজান নদের তীরে রতারগাঁও মৌজায় অবস্থিত। জমিটি নিয়ে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা চলমান থাকলেও ‘লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিটি বালু উত্তোলনের অনুমতি নিয়ে জোরপূর্বক জমি কেটে বালু তুলেছে।

Manual6 Ad Code

বাদীর দাবি, ২৭ অক্টোবর রাতে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ড্রেজার দিয়ে বালু তুলছে। বাধা দিলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। তাঁর অভিযোগ, ইতোমধ্যে তাঁর জমি থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার বালু তুলে বিক্রি করা হয়েছে এবং জমির একাংশ নদে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ধোপাজান নদ সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত। ভারতের সীমান্ত থেকে নেমে আসা এই নদে ২০১৮ সাল থেকে ইজারা বন্ধ রয়েছে। অবাধ বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙন ও পরিবেশগত ক্ষতি বাড়তে থাকায় সরকার তখন ইজারা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।

Manual3 Ad Code

তবে ইজারা বন্ধ থাকলেও নদে বারবার অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, চলতি বছরের আগস্টের পর থেকে প্রকাশ্যে বালু লুট চলছে এবং আড়াই মাসে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বালু তুলে নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যেই গত জুলাই মাসে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ‘লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং’কে ধোপাজান নদ থেকে ১ কোটি ২১ লাখ ঘনফুট বিটি বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই বালু সিলেট–ঢাকা মহাসড়কের কাজে ব্যবহার করা হবে। কিন্তু ধোপাজান নদ বিআইডব্লিউটিএর আওতাভুক্ত নয়।

Manual4 Ad Code

পরে জেলা প্রশাসন থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, ধোপাজান নদে বিটি বালু নয়, উন্নতমানের সিলিকা বালু রয়েছে যার উত্তোলন পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিঠিতে অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়মবহির্ভূত বলেও উল্লেখ করা হয়।

এর পর থেকেই লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংগঠন বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করে আসছে। সর্বশেষ বুধবার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একই দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে।

সুনামগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি এ কে এম আবু নাছার বলেন, ধোপাজান নদে বালু লুট এখন প্রকাশ্য গোপন রহস্য। নানা প্রতিবাদ, আবেদন, মানববন্ধনের পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রভাবশালী চক্রের মদদে নদ ও জমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code