Main Menu

বিয়ানীবাজারে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় থানায় অভিযোগ

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিয়ানীবাজারের একটি গ্রামীণ বাজারে এক কিশোরীকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিশোরীর পরিবার আজ বৃহস্পতিবার বিয়ানীবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এদিকে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযোগ দায়েরের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর মূল বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায় হলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে মোল্লাপুর ইউনিয়নের কালিবাড়িবাজার এলাকায় বসবাস করছেন।

অভিযুক্ত নবদ্বীপ বৈদ্য (৫৫) লাউতা ইউনিয়নের লাউতা গ্রামের বাসিন্দা ও কালিবাড়িবাজারে তার দীর্ঘদিনের পুরোনো টেইলার্সের দোকান রয়েছে। গত শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) উপজেলার লাউতা ও মোল্লাপুর ইউনিয়নের কালিবাড়িবাজারে জুমার নামাজের সময় ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও গত ৫ দিন বিষয়টি প্রকাশ পায়নি। এর মধ্যে স্থানীয় কিছু মহল ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হলে আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি জনসমক্ষে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় কালিবাড়িবাজারে নবদ্বীপ বৈদ্যের টেইলার্সের দোকানে সন্দেহজনক অবস্থায় এক কিশোরী ও দোকানের মালিককে দেখতে পান কিছু যুবক। তারা এ সময় ভিডিও ধারণ করেন। পরে কিশোরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায় তার সাথে খারাপ কিছু হয়েছে। বাজার কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সাময়িকভাবে সমাধান হয়। পরে ক্ষুদ্ধ যুবকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ তুলে সমালোচনা করেন।

সরেজমিনে ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিশোরী ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও প্রাথমিক অবস্থায় পরিবারের কাছে মুখ খুলেনি। তবে ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয়রা গত সোমবার তার পরিবারকে বিষয়টি জানান, এরপর তারা বাজার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

কিশোরীর বাবা জানিয়েছেন, তারা স্থানীয় না হওয়ায় প্রথমে ভয়ে কাউকে বলেননি। তবে স্থানীয়দের সহযোগীতায় দেরীতে হলেও প্রথমে বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে গিয়েছেন। তিনি তার মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার দাবি করেন এবং বিয়ানীবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানান।

ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপার অভিযোগের ব্যাপারে কালিবাড়িবাজার বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্দ্বীপ পাল বলেন, “আমরা শুক্রবার ঘটনার জটলা দেখে বিষয়টি সাময়িকভাবে বড় না হয় সেই চেষ্টা করেছি। ঘটনার সত্য-মিথ্যা আমাদের জানা নেই।”

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত টেইলার্স নবদ্বীপ বৈদ্যের বাড়িতে গেলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। তবে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি অসুস্থ। ঘটনাটি সত্য না মিথ্যা, এ বিষয়ে তারা এখনো অন্ধকার ও ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন।

বিয়ানীবাজার থানার ওসি (তদন্ত) ছবেদ আলী জানান, কিশোরী যৌন নির্যাতনের বিষয়ে আজ লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ভুক্তভোগী কিশোরী থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আমরা এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কার্যক্রম শুরু করেছি।

Share





Related News

Comments are Closed