Main Menu

সিলেটে মাদ্রাসা শিক্ষক খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত নয়ন গ্রেপ্তার

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ছুরিকাঘাতে মাওলানা জুবায়ের আহমদ (৪৮) নামে এক মাদরাসা শিক্ষক খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত শ্যালকপুত্র (ভাতিজা) নয়নকে আটক করেছে জালালাবাদ থানা পুলিশ।

বুধবার (১৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১ টায় আখালিয়া এলাকা থেকে শ্যালকপুত্র (ভাতিজা) নয়ন আহমদকে গ্রেফতার করা হয়।

আটক আল মাহমুদ নয়ন (১৭) আখালিয়া বড়গুল এলাকার জামায়াত নেতা মোহাম্মদ আল আমিনের ছেলে বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার। নয়ন আখালিয়া আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও শিবির কর্মী বলেও দাবি করেন ভিকটিমের পরিবার।

এরআগে বুধবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আখালিয়া বড়গুল এলাকায় মাওলানা জুবায়ের আহমদকে (৪৮) উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে নয়ন।

নিহত মাওলানা জুবায়ের আহমদ বড়গুল এলাকার মৃত মদরিস আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় স্থানীয় ডা. তানজিনা আহমদ মাদরাসার সুপার।

নিহত মাওলানা জুবায়েরের চাচাতো ভাই আব্দুস সালাম বলেন, জুবায়েরের দুই ছেলে ফাহিম আহমদ ও সাইম আহমদ। সাইমের সহপাঠি নয়ন। মঙ্গলবার সাইমকে বাসা থেকে বের করে আনতে যায় নয়ন। সে সময় জুবায়ের তাকে বলেন, আমার ছেলের সামনে পরীক্ষা, তুই ডাকাডাকি করছিস কেনো। এ কারণে নয়ন তর্ক করে চলে যায়। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানায় পুলিশও।

নিহতের বড় ছেলে ফাহিম আহমদ ‘তার মায়ের এবং প্রত্যক্ষদর্শী কিশোর জিহাদের বরাত দিয়ে বলেন, ‘বুধবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে মাদরাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন তার বাবা। যাওয়ার পথে বৃষ্টিতে রাস্তায় জমে থাকা কাদাপানি পা দিয়ে ছুঁড়ে জুবায়ের আহমদের পরনের পাঞ্জাবি নষ্ট করে দেয় নয়ন।

নয়নের সাথে ছিল তার চাচাতো ভাই জাহিদ। তখন মাওলানা জুবায়ের বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। এক পর্যায়ে তার মাকে ফোন দিয়ে বলেন, আল আমিন ভাইয়ের ছেলে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করছে। মা তাকে সান্তনা দিয়ে বলেন, আমি তার বাবার কাছে বিচার দিচ্ছি, তুমি মাদরাসায় যাও। বাকবিতণ্ডার পর তার বাবা মাদরাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হতেই পেছন থেকে মাথায় ছুরিআঘাত করে নয়ন। এরপর উপর্যুপরি পিঠে ১০/১২টি ছুরিকাঘাত করে, তিনি পড়ে গেলে বুকের দুই পাশে ছুরিকাঘাত করে এবং পেট কেটে ফেলে। তাতে নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে আসে। হত্যার পর নয়ন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় খুনের ঘটনার সময় নয়নের সঙ্গে ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী ছিল কিশোর জাহিদ।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, ঘটনার দিনগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে আখালিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে নয়নকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় রাতে নিহতের বড় ছেলে ফাহিম আহমদ বাদি হয়ে একমাত্র নয়নের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ২/৩ জনকে আসামি করে থানায় মামলা (নং-১১(৮)২৫) দায়ের করেছেন। আটককৃত নয়নকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

ওসি জানান, ‘নয়ন নিহত জুবায়ের আহমদের স্ত্রীর বড়ভাই আল আমিনের ছেলে। সে এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত ছিল। শাসন করায় ক্ষিপ্ত হয়ে নয়ন ছুরিকাঘাত করে তাকে খুন করেছে।’

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘জুবায়ের হত্যার ঘটনায় বুধবার রাতেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। নিহত জুবায়ের আহমদের ছেলে বাদি হয়ে নয়নকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে নয়নকে বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হয়। আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।’

প্রসঙ্গত, বখাটেপনা করার জন্য মাওলানা জুবায়ের আহমদ বিভিন্ন সময় শাসন করেন নয়নকে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সে বুধবার সকালে মাদরাসায় যাওয়ার পথে ছুরিকাঘাত করে খুন করে।

 

 

 

Share





Related News

Comments are Closed