Main Menu

কমলগঞ্জে জীর্ণ ঘরে চা শ্রমিক সন্তানদের পাঠদান

Manual8 Ad Code

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত সুনছড়া চা-বাগান। এর একটি টিলার ওপর টিনের জীর্ণ ঘর। বাইরে হেলে পড়া বাঁশে ঝুলে আছে জাতীয় পতাকা। ছোট কক্ষে বাঁশের বেড়া দিয়ে দুটি কক্ষ তৈরি হয়েছে। ছোট ছোট খুপরি ঘরে চলছে পাঠদান। জীর্ণ ঘরের মতো শিশুদের পোশাকও জীর্ণ। এটাই সুনছড়া চা-বাগানের স্কুল।

সুনছড়া চা-বাগানটি দেবলছড়া চা-বাগান নামেও পরিচিত। এই বাগানে প্রায় ৩ হাজার মানুষের বাস। কথা বলে জানা গেল, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৪০ সাল। তবে নথিপত্রে উল্লেখ রয়েছে, স্কুলটি ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত। চা-শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁদের সন্তানেরা পড়ালেখা করে বলেই প্রতিষ্ঠার ৮৫ বছর পরও করুণ অবস্থা স্কুলের।

মৌলভীবাজারে ৬৯ টি চা-বাগানে স্কুল আছে। এসব স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার। সরকারের পক্ষ থেকে এসব বেসরকারি স্কুলে শুধু বই দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী থাকলেও নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ, আসবাব, শিক্ষা উপকরণ, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন সুবিধা। বাগান কর্তৃপক্ষ শুধু বিদ্যালয় নামটা বাঁচিয়ে রেখেছে।

Manual5 Ad Code

শিক্ষা দপ্তরের তথ্য সূত্রে জানা যায়, মফস্বল বা এই এলাকার অন্য গ্রামগুলোর তুলনায় চা-বাগানের স্কুলে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি। উপস্থিতির হার তুলনামূলক ভালো।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, আমরা বারবার চা-বাগানের শিক্ষাব্যবস্থার করুণ পরিণতি নিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছি, আন্দোলন করেছি। তবে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
চা-বাগানের স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা বলছেন, তাঁরা এ দেশের নাগরিক অথচ সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষেরা সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আমরা হয়েছি, এখন আমাদের সন্তানেরা বঞ্চিত হচ্ছে। যুগের পর যুগ চলে যাচ্ছে অথচ আমাদের মৌলিক অধিকার পাচ্ছি না।

Manual2 Ad Code

সুনছড়া চা-বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিটুন কুর্মী আক্ষেপ করে বলেন, এই স্কুলে ১৯২ জন শিক্ষার্থী আছে। শিক্ষক মাত্র ৩ জন। একজন চা-শ্রমিক যে পরিমাণ মজুরি পান, একজন শিক্ষক সেই একই পরিমাণ সম্মানী পান। অর্থাৎ প্রতিদিন ১৭৮ টাকা মজুরি নিয়ে শিক্ষকতা করতে হচ্ছে। আবার অনেক শিক্ষকের সম্মানী সারা মাসে ১ হাজার ২০০ টাকা মাত্র। একজন শিক্ষকের এর চেয়ে কষ্ট আর কিছু হতে পারে না।

Manual4 Ad Code

চা-শ্রমিকদের জীবন নিয়ে গবেষণা করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আশরাফুল করিম। তিনি বলেন, চা-বাগানে ১৯৭৭ সালের আইন অনুযায়ী প্রতিটি বাগানে একটি স্কুল থাকার কথা। তবে বাস্তবে তা নেই। আর যে কয়টা বিদ্যালয় আছে, সেখানেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নেই। প্রতিটি চা-বাগানে অন্তত একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা দরকার। চা-শ্রমিকেরাতো স্বাধীন দেশের নাগরিক। তাদের মৌলিক অধিকার শিক্ষা, অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থান কোনোটাই ভালোভাবে পাচ্ছে না। তিনি বলেন, সরকার অবশ্যই শুধু শিক্ষা নয়, তাদের স্বাস্থ্য ও মজুরির দিকে নজর রাখতে হবে। বর্তমান সরকারকে বলা হয় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ফসল। বাগানে যে বৈষম্য শতাধিক বছর ধরে চলে আসছে, এই বৈষম্য দুর করা বর্তমান সরকারের বেশি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু এই সরকার এখন পর্যন্ত চা-বাগানের দিকে নজর দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কমলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, চা বাগানের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বাগান কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করে আসছে। এরপরও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এরকম বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

Manual2 Ad Code

মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সফিউল আলম বলেন, চা-বাগানের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সরকারীকরণ সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে। কেউ যদি লেগে থাকে, তাহলে একসময় হয়ে যাবে। পার্বত্য এলাকায় ২৫০ টির বেশি স্কুল সরকারীকরণ করা হয়েছে। এই রকম চা-বাগানের স্কুলগুলো সরকারি করার সুযোগ আছে।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code