মধ্যনগরে ধর্ষণ মামলায় পরকীয়া প্রেমিক গ্রেফতার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশিকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের লক্ষিপুর গ্রামের ওমান প্রবাসী মৃত সুরুজ আলীর স্ত্রী বিধবা শমলা আক্তার (৪৮) এবং একই গ্রামের যুবক মোঃ সোহেল হোসেন (২৫) এর মধ্যে গত ৫ বছর ধরে পরকীয়া সম্পর্ক চলছিল, অবশেষে পরকীয়া প্রেমিকার ধর্ষণ মামলায় প্রেমিক সোহেলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৯ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ৩ টার দিকে মধ্যনগর থানা পুলিশের অভিযানে তাহিরপুর উপজেলার কলাগাঁও থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে।
জানা যায়, গত ৯ জুন মঙ্গলবার দিনগত রাতে ধর্ষণের ঘটনার বিষয়ে, ধর্ষিতা বিধবা শমলা আক্তার অভিযোগে প্রকাশ করেছে যে, ঘটনার দিন ভোর রাতে তার ঘরে সোহেল হোসেন প্রবেশ করে এবং তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে।
কিন্তু রহস্যজনক বিষয় হল অভিযুক্ত সোহেল হোসেন ধর্ষণের পরেও রাত প্রভাত হয়ে সকাল হলেও ঐ ঘরেই শুয়ে ঘুমাচ্ছিল।
পরে সকাল বেলায় ধর্ষিতার সহোদর বোন ঘরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দিয়ে সোহেলকে আটকে রাখে। পরে আশপাশে খবর দিলে লোকজন জড়ো হতে থাকে এবং এলাকার মাতব্বরগন ঘটনাস্থলে আসেন।
এসময় উপস্থিত মাতব্বরগন বিষয়টি মিমাংসা কারার জন্য আলোচনায় বসেন। এই সুযোগে অভিযুক্ত সোহেল হোসেন জানালা ভেঙে পালিয়ে যায়। এরপর মিমাংসা না-হওয়ায় গত ১২ জুন রোববার ধর্ষিতা বিধবা শমলা আক্তার বাদী হয়ে মোঃ সোহেল হোসেনের বিরুদ্ধে মধ্যনগর থানায় মামলা দায়ের করেন।
এছাড়া আরও জানা যায়, সুরুজ আলী দেশের বাইরে ওমান থাকাকালীন তার স্ত্রী শমলা আক্তার একই গ্রামের মোঃ আলী হোসেনের ছেলে মোঃ সোহেল হোসেন এর সাথে গত ৫ বছর আগে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে।
আড়াই বছর আগে ওমান প্রবাসী সুরুজ আলী দেশের বাড়িতে আসলে তার স্ত্রী শমলা ঐ সোহেলের সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত থাকার বিষয়টি জানতে পারেন। এবং তার স্ত্রীকে পরকীয়ার কেলেংকারি থেকে ফিরিয়ে আনতে অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ্য হয়ে অবশেষে দুই বছর আগে বিষপানে আত্মহত্যা করেন শমলার স্বামী সুরুজ আলী।
তখন ঐ আত্মহত্যার বিষয়ে আদালতে মামলাও হয়েছিল, তারপরও দুইজনের পরকীয়া করা থামেনি। পরকীয়া প্রেম চলছে তো চলছেই তাদেরকে বাঁধাগ্রস্ত করতে পারেনি মামলা এবং সমাজের লোকজন।
এবিষয়ে অভিযোগকারী বিধবা নারী শমলা আক্তার এর সাথে কথা বললে, তিনি গণমাধ্যমকে জানান, সোহেলকে বিয়ে করার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু তাকে ছেড়ে সোহেল পালানোর কারনে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
তাছাড়া সোহেল পলাতক থাকা অবস্থায় এলাকার মাতব্বরগণ বিষয়টি আপোষ মিমাংসা কারার চেষ্টা অব্যাহত ছিলো, পরিশেষে দুই পক্ষেরই আপোষের সম্মতি ছিলো।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মধ্যনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিবুর রহমান বলেন এসআই বিকাশ সরকার সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায়, তাহিরপুর উপজেলার কলাগাঁও থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে, এবং ধর্ষক সোহেলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
Related News
সুনামগঞ্জ হাসপাতালে চালু হচ্ছে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের কিডনি রোগীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চালু হচ্ছেRead More
সুনামগঞ্জে মেয়ের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে খুন হলেন মা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চিনাকান্দি গ্রামে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে গলা কাটা অবস্থায়Read More



Comments are Closed