শাল্লার সাবেক ইউএনও, পাউবো কর্মকর্তাসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জে হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে শাল্লার উপজেলার সাবেক উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি সদস্য সচিবসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের কৃষক প্রতাকী রঞ্জন দাস বাদী হয়ে সাবেক ইউএনও এসএম তারেক (বর্তমানে গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক), পাউবো বর্তমান শাখা কর্মকর্তা রিপন আলীসহ ৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি ও সদস্য সচিবসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়েরের আবেদন করেন। মামলায় উপজেলার ভেরামোহনা হাওর, ভান্ডা বিল হাওর ও বরাম হাওরের ৭ টি পিআইসি নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ নির্মাণে কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) নীতিমালা অনুযায়ী বাঁধের নিকটবর্তী জমির মালিক কৃষক ও উপকারভোগীদের সম্পৃক্ত করে পিআইসি গঠন করে কাজ করতে হয়। কিন্তু ৭টি পিআইসির মধ্যে অনেক পিআইসির সভাপতি ও সদস্য সচিব সংশ্লিষ্ট বাঁধের পার্শ্ববর্তী জমির মালিক নয় এমনকি উপকারভোগীও নয়। অজ্ঞাত কারণে ওই ৭ টি পিআইসির বাধের নিকটবর্তী জমির মালিকদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
উপজেলা কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মতামত না নিয়ে যোগসাজশে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে পিআইসিগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে পিআইসি গঠন করে সম্পূর্ণ বাঁধের কাজ না করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মামলার বাদী প্রতাকী রঞ্জন দাস বলেন, হাওরে বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম দুর্নীতির কারণে প্রতিবছর কৃষকের একমাত্র বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যায়। তারপরও প্রশাসন ও পিআইসির লোকজন নীতিমালা বহির্ভূত কাজ করে বাঁধের কাজে অনিয়ম দুর্নীতি করেন। এমনকি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ না করতে পারায় ফসল ঝুঁকিতে থাকে। তাই এসব অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি।
অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে শাল্লা উপজেলার সাবেক ইউএনও এসএম তারেক ও পাউবোর শাল্লা উপজেলার শাখা কর্মকর্তা রিপন আলী বলেছেন, পিআইসি গঠনে কোন অনিয়ম হয়নি। নীতিমালা মেনে জেলা প্রশাসকের পরামর্শে উপজেলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কৃষকদের দিয়েই পিআইসি গঠন করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাড. মল্লিক মঈন উদ্দিন বলেন, আদালত কৃষকের অভিযোগটি আমলে নিয়ে আদেশের জন্য রেখেছেন, পরে আদেশ দিবেন।
Related News
সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা বাবা ও ছেলের মৃত্যু
Manual6 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের মা, বাবা ওRead More
সুনামগঞ্জে হাসপাতালে একদিনে ৮০২ রোগী ভর্তি, ২৪৪ জনই শিশু
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে এক দিনে সর্বোচ্চ ৮০২Read More



Comments are Closed