Main Menu

বিশ্বনাথে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক, টার্গেট বেকার যুবক!

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের প্রবাসী অধ্যুসিত বিশ্বনাথ উপজেলায় মাদক বিক্রি ও সেবনকারি বাড়াতে মাদক ব্যবসায়ীদের টার্গেট এখন বেকার যুবক! দিন দিন যুব সমাজে বাড়ছে মাদক আক্রান্তের সংখ্যা। সন্ধ্যা হলেই বিভিন্ন এলাকায় যুবকরা দলবদ্ধ হয়ে বেপরোয়া চলাচল করে আর নিরিবিলি স্থানে গিয়ে সেবন করে মরণব্যাধি মাদক। আবার অনেকেই প্রকাশ্যে এবং ঘোপনেও মাদক সেবন ও বিক্রয় করে থাকে। তাদের মাদক সেবনের তালিকায় রয়েছে মদ, গাঁজা, হেরোইন আর ইয়াবা। শুধু যুবকরাই নয়, এমন মরণ নেশার পথ বেচে নিয়েছেন কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্ক ব্যাক্তিরাও। কিশোর ও যুবকদের অনেক মা বাবা তাদের এমন নেশাগ্রস্ত সন্তান নিয়ে রয়েছেন বিপাকে।

উপজেলার সর্বত্র দিন দিন ব্যাপকহারে বৃদ্দি পাচ্ছে মাদক সেবক ও মাদক বিক্রেতার সংখ্যা। এ যেনো মাদক ব্যবসায়ীদের স্বর্গরাজ্য। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবকের সখ্যা বৃদ্দি পাওয়ায় অনেকেই তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পান।

মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের অনুসারী দিয়ে কৌশলে এসব মাদক সেবনকারি ও বিক্রেতা বৃদ্দি করছে। ব্যবসায়ীরা প্রথমে সেবনের জন্য তাদের অনুসারিদের খাওয়ার জন্য ফ্রি মাদক দিয়ে থাকে। আর এসকল অনুসারিরা ফ্রি মাদক পেয়ে কিশোর ও বেকার যুবকদের টার্গেট করে তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে। এভাবেই মাদক ব্যবসায়ীরা কৌশলে তাদের অনুসারীদের দিয়ে বাড়িয়ে নিচ্ছে মাদকের ক্রেতা ও বিক্রেতা। ফলে দিন দিন কিশোর থেকে শুরু করে যুব সমাজে বেড়েই চলেছে মাদক আক্রান্তের সংখ্যা। শুধু তাই নয়, মাদক ব্যবসায়ীরা এসকল কিশোর ও বেকার যুবকদেরকে কৌশলে ফাঁদে ফেলে তাদের দিয়ে করে মাদক পাচার। বিনিময়ে এসকল যুবক ও কিশোররা পায় অর্থ এবং ফ্রি মাদক। সেখান থেকেই শিখে নেয় মাদক সেবন। আর এসকল কিশোর আর যুবকরা যখন মাদক সেবন শিখে নেয় তখন ব্যবসায়ীরা তাদেরকে বাদ দিয়ে নতুন যুবক খোজে নেয়। এসকল যুবকরা যখন বেকার হয়ে পড়ে তখন মাদক খাওয়ার টাকার জন্য বিভিন্ন স্থানে চুরির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে। ফলে উপজেলার সর্বত্র ব্যাপক হারে বেড়েছে চুরি। শুধু তাই নয়, সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেই পৌরসভার নতুন হাবড়া ও পুরাতন হাবড়া বাজারে বসে মাদক সেবনের আসর। সেই আসর গুলোতে মাদক সেবনের পর মাতাল হয়ে পথচারীদের নানা গালমন্দ করে সেবনকারিরা।

এছাড়া পৌরসভার কর্মচারীরাও মাদক সেবনে অংশ নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বর্তমানে এসকল কর্মচারীদের অনেকেই বদলি হয়ে চলে গেছেন বলে সূত্র জানায়।

উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হারে বেড়েছে মাদক ব্যবসা। বেশ কয়েকটি এলাকায় এখন হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মদ, গাঁজা, হেরোইন আর ইয়াবা। বেশ কয়েকটি স্পটে বিক্রি হয় মাদক। তার মধ্যে রয়েছে বিশ্বনাথ নতুনবাজার টিএনটি রোড, বিশ্বনাথ পুরাতন বাজারের গরুহাটা, পুরাতন হাবড়াবাজার, বৈরাগী বাজার, রামপাশা বাজার, আগুগঞ্জ বাজার ও কালিগঞ্জবাজারসহ প্রায় গ্রামেও রয়েছে মাদকের আস্তানা। এসব স্পটে সন্ধ্যা হলেই চেনা অচেনা যুবকরা মোটরসাইকেল দিয়ে বেপরোয়া চলাচল করতে দেখা যায়।

মাদকের স্বর্গরাজ্য পুরাতন হাবড়া বাজারে রয়েছে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আসমান আলী, সুহেল ও কামাল, বৈরাগী বাজার এলাকায় মাদকের চিহ্নিত ব্যবসায়ী ইসলাম আলী, সামছই মিয়া, সুহেল মিয়া, দিলওয়ার, রাজন খান, মঞ্জুর আলী, কালিগঞ্জ বাজারের কয়সর মিয়া, ফটিক মিয়া, আশুগঞ্জ বাজার এলাকার ফয়সল আহমদ, লুৎফুর রহমান ও মাহমদ আলী। তাদের অনেকেই পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর জেল থেকে বেরিয়ে ফের মাদক ব্যবসায় জড়িত হয়। আর এসব মাদক প্রবেশের নিরাপদ সড়ক হচ্ছে লামাকাজী। বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীরা ভোর বেলা সুরমা নদীর অপার থেকে দক্ষিণ পারে নৌকা দিয়ে মাদক বহন করে। সেখান থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা দিয়ে খুচরা ব্যবসায়ীরা এসব মাদক নিয়ে যায় বিশ্বনাথ সহ বিভিন্ন উপজেলা।

জানতে চাইলে বৈরাগী বাজার বনিক সমিতির সভাপতি মনু মিয়া, পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মুহিবুর রহমান বাচ্চু বলেন, এলাকায় যে হারে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারি বেড়েছে ভবিষ্যতে সমাজ টিকিয়ে রাখা অনেক কষ্টের হবে। তাই এলাকার সচেতন লোকজন ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরী বলে তারা মনে করেন।

বিশ্বনাথ থানার ওসি তদন্ত আব্দুল রব বলেন, মাদকের বিষয়ে পুলিশ জিরো টলারেন্সে। আমরা প্রতি সপ্তাহে একেকজন মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করছি। সামনে আরও অভিযান করবেন বলে জানান তিনি।

 

Share





Related News

Comments are Closed