Main Menu

অধ্যাপক শাহেদুর রহমানকে এনআইবি’র ডিজি পদে যোগদান করতে না দেয়ায় ক্ষোভ

Manual3 Ad Code

জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাহেদুর রহমানকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির মহাপরিচালক (ডিজি) পদে নিয়োগ দেয়া হলেও তাকে যোগদানে করতে দেয়া হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বায়োটেকনোলজির দুটি সংগঠন এবং ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

জীবপ্রযুক্তিবিদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব বায়োটেকনোলজি গ্র্যাজুয়েট (বিএবিজি), নেটওয়ার্ক অব ইয়ং বায়োটেকনোলজিস্ট অব বাংলাদেশ (এনওয়াইবিবি) এবং ২১ বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

অধ্যাপক শাহেদুর রহমান জাবির বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক। গত ১৫ অক্টোবর (মঙ্গলবার) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের তাকে এ নিয়োগ দেয়া হয়।

এরপর ১৭ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ঢাকার আশুলিয়ায় অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির মহাপরিচালক (ডিজি) এর দায়িত্ব নিতে গেলেও যোগদান করতে পারেননি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তরা বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং অগ্রযাত্রায় একটি বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে বায়োটেকনোলজি তথা জীবপ্রযুক্তি। কিন্তু নীতিনির্ধারক পর্যায়ে বরাবরই এটি ছিল উপেক্ষিত। দেশে ২৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি বিষয়ে পড়ানো হলেও চাকরি ক্ষেত্রে চলছে বৈষম্য ও অদ্ভুত পক্ষপাতিত্ব।

তাদের মতে, দেশে জীবপ্রযুক্তি গবেষণা, কার্যক্রম ও নীতিনির্ধারনের সর্বোচ্চ সংস্থা ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব বায়োটেকনোলজি (এনআইবি)। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানটিতে মহাপরিচালক ও নেতৃত্বের পদে জীবপ্রযুক্তিবিদ নিয়োগ না দেয়ায় গত ২০ বছরে দেশে উল্লেখযোগ্য কোন ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বরাবরই হয়েছে প্রশ্নবিদ্ধ। সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠানে প্রথমবারের মত মহাপরিচালক পদে জীবপ্রযুক্তিবিদ অধ্যাপক শাহেদুর রহমানকে নিয়োগ দেয়ার পরেও তাকে যোগদান করতে দেয়া হচ্ছে না।

Manual3 Ad Code

এর পেছনে জীবপ্রযুক্তিবিদরা ষড়যন্ত্র দেখছেন জানিয়ে বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোকাব্বির হোসেন ও সেখানকার কর্মকর্তাদের দুর্নীতি আড়াল করতেই এই বৈষম্য করা হচ্ছে।

সংবাদ সসম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটিক্যালজি বিভাগ সহযোগী ড. মুস্তাক ইবনে আয়ুব বলেন,ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি এক মাত্র প্রতিষ্ঠান যেখানে জীব প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা হয়।দেশের জীব প্রযুক্তির উন্নীত ও বিকাশে এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা ও গুরুত্ব অপরিসীম তবে দীর্ঘ্য ৩০ বছরে কোন বায়োটেক গ্রেজুয়েট এই প্রতিষ্ঠানের ডিজি হয়নি।ড.শাহেদের ডিজি হওয়ায় আমরা অনেক আশাবাদী ছিলাম।তার নিয়োগের পর যোগদান নিয়ে দীর্ঘ্যসূত্রীতা হয়ে তা আমাদের আশা করেছে।

বক্তব্য রাখেন- অধ্যাপক উম্মে সালমা যোহরা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়; আ.ন.ম তারিকুল ইসলাম, জেনারেল ম্যানেজার, টেকনো ওয়ার্থ এ্যাসোসিয়েটস; অজয় রায়, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি; মো: মাহমুদুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক, বিইউএইচএস; মো: আবদুস সামাদ আজাদ, সিইও, জেনবিট হেলথ ও প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, বিএবিজি; মো: রাজিব শাহরিয়ার, এলামনাই, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও এক্সিকিউটিভ, একমি ল্যাবরেটরিজ; শেখ আশরাফ সিদ্দিকী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এ্যালামনাই।এছাড়া এই সংবাদ সম্মেলনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবপ্রযুক্তি অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড.আব্দুল্লাহ আল মামুন সংহতি জানিয়েছেন।

Manual2 Ad Code

শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ শিক্ষক ও জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,একজন বায়োটেক গ্রেজুয়েটকে ন্যাশনাল ইনিস্টিউটি অব বায়োটেকনোলজির ডিজি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।বায়োটেক গ্রেজুয়েটরা সারা দেশেই বৈষম্যর শিকার।সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত ডিজির যোগদানে কি সমস্যা হচ্ছে তা আমার বোধগম্য না।বায়োটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের বাইরে অন্য কাউকে নতুন করে নিয়োগ দেয়া হলে সারা দেশের বায়োটেকনোলজির শিক্ষক গ্রেজুয়েট এবং অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা বিষয়টি সহজভাবে নিবেনা।বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের নিবেদন থাকবে দ্রুত তম সময়ে তাকে কর্মস্থলে যোগদান করানো হোক।

Manual2 Ad Code

বক্তাগণ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহেদুর রহমানকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির মহাপরিচালক হিসেবে দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

দেশে ২৯ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন জীবপ্রযুক্তি বিষয়ক বিভাগ আছে। সেসব বিভাগ থেকে প্রতিবছর প্রায় একহাজার একশত স্নাতক বের হচ্ছে। তবে তাদের দক্ষ জীব প্রযুক্তিবীদ হিসেবে কাজে লাগানোর কোন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ কোনটিই নেই।

অধ্যাপক শাহেদুর রহমান ২০১১ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে সহকারি অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি বায়ো-রিসোর্সেস টেকনোলজি এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল বায়োটেকনোলজি ল্যাবের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এর আগে তিনি ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের উপ-পরিচালক হিসেবেও নিয়োজিত আছেন।

Manual2 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code