Main Menu

উইমেন্স মডেল কলেজে ‘নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ২০২৩’ সম্পন্ন

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, “প্রকৃতিতে অসংখ্য জীবসত্তার মধ্যে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কেবল মানুষই গ্রহণ করে। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ সৃষ্টির সেরা সত্তায় পরিণত হয়। কিন্তু আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় সমাজের একটা অংশকে কেবল মুখে ক্ষমতায়নের কথা বলে নিজ ঘরে বঞ্চিত রাখা হয়। আর সেই শ্রেণি হলো নারী। আমি নারীকে সমাজের অদৃশ্য শিকল থেকে মুক্ত-স্বাধীন মানুষরূপে দেখতে চাই। এইক্ষেত্রে নগরীর উইমেন্স মডেল কলেজ সিলেটের নারীশিক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমি বিশ্বাস করি, কলেজটি তাদের সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখলে একদিন পুরো দেশের নারীশিক্ষার রুল মডেলে পরিণত হবে।

রোববার (৮ অক্টোবর) সিলেট শহরের পূর্ব শাহী ইদগাস্থ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে উইমেন্স মডেল কলেজ কর্তৃক আয়োজিত নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ২০২৩ এ তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জনাব ড. জায়েদা শারমিন স্বাতী বলেন, “নগরীর উইমেন্স মডেল কলেজ নারীশিক্ষার নিশান হাতে বিগত একদশক ধরে কাজ করছে। মেয়েদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিকাশে তার এই প্রচেষ্টা ও উদ্যম এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে; যেখানে নারীরা সমানতালে দেশ ও সমাজের জন্য ভূমিকা রাখবে এবং মর্যাদার অংশীদার হবে। আমি একজন নারী হিসেবে বোঝতে পারি, আমাদের সমাজের নারীদের বাধাবিপত্তি ও প্রতিকূলতা কতোটুকু; এই অবস্থা থেকে উত্তরণে নারীবান্ধব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। উইমেন্স মডেল কলেজ নারীশিক্ষার অগ্রগতিতে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি মনে করি, স্বপ্নে অবিচল থেকে কাজ করে গেলে একদিন স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হবেই।”

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক উইমেন্স মডেল কলেজের অধ্যক্ষ জনাব আব্দুল ওয়াদুদ তাপাদার তার বক্তব্যে বলেন, “নারীশিক্ষায় পর্যাপ্ত গুরুত্বারোপ না দিলে সভ্যতার বিকাশে অপূর্ণতা থেকে যায়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির এই যুগে নারীদেরকে প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানের উপর গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক। এটা শুধু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের চাওয়াই নয় বরং দেশ ও সমাজের আকুল প্রত্যাশা। এরকম কিছু প্রত্যাশা, কিছু স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টায় কাজ করছে সিলেটের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উইমেন্স মডেল কলেজ। আমি, আমার সকল সহকর্মী ও ইএসডি ফাউন্ডেশনের এই যৌথ প্রয়াস একদিন নারীশিক্ষায় বিপ্লব ঘটাবে ইনশাআল্লাহ। আমি বিশ্বাস করি, আজকের মেয়েরাই গড়বে আগামীর স্বপ্নের বাংলাদেশ।”

উইমেন্স মডেল কলেজের ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক জনাব স্নিগ্ধা চক্রবর্তী এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক  হেলাল হামামের সঞ্চালনায়, ইএসডি ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান মনসুর আহমদ লস্করের সভাপতিত্বে সকাল ১০ ঘটিকায় অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি ছিল দুটি পর্বে বিভক্ত। প্রথম পর্বে আলোচনা সভা, অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান এবং নবীন শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট দিয়ে বরণ; এবং দ্বিতীয় পর্বে ছিলো মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন অত্র কলেজের স্কুল শাখার সহকারী শিক্ষক জনাব মামুনুর রশীদ এবং গীতা পাঠ করেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক জনাব অলোক নন্দন। এরপর পরিবেশন করা হয় জাতীয় সংগীত। আলোচনার সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অত্র কলেজের সিনিয়র প্রভাষক জনাব মৌসুমী আক্তার খানম; এবং কলেজ কো-অর্ডিনেটর ও সিনিয়র প্রভাষক জনাব কাজী মাহবুবুল আলম মঞ্জুর।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন আরটিএম আল-কবির টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা মাজেদ আহমেদ চঞ্চল।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ইএসডি ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান মনসুর আহমদ লস্কর সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রথম পর্বের আনুষ্ঠানিক ইতি টানেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে চলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পরিবেশনায় আকর্ষণীয় সাংস্কৃৃতিক আয়োজন। দ্বিতীয় পর্বের সঞ্চালনায় ছিলো উইমেন্স মডেল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাজিরা আক্তার শাহী এবং দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী উম্মে আফসানা নীলা। একাধিক আবৃত্তি, গান, অভিনয় ও নৃত্যের মাধ্যমে মুখরিত হয়ে উঠেছিলো পুরো আয়োজন।

সবশেষে সবার মঙ্গল ও দীর্ঘায়ু কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন সভাপতি জনাব মনসুর আহমদ লস্কর।

Share





Related News

Comments are Closed