Main Menu

স্কুলের রুমে ব্যাংকিং কার্যক্রম, ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনার পরিবেশ

Manual3 Ad Code

মোঃ রিমন চৌধুরী, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ সরকারী নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে বাবড়ীঝাড় দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি রুমে ব্যাংকের কার্যক্রম চালাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যালয়ে ব্যাংক চলছে এ নিয়ে মানুষের মাঝে সমালোচনার ঝড় বইছে।

Manual8 Ad Code

নীলফামারী সদর চাপড়া সরমজানি ইউনিয়নের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক যাদুর হাট শাখার কার্যক্রম চলছে বাবরীঝাড় দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি রুমে। এর আগে ব্যাংকটি ছিল যাদুর হাট বাজারে। কিছু অসাধু কর্মচারী ও কর্মকর্তার জন্য ব্যাংকটি রাতের আঁধারে কাগজপত্র গুছিয়ে নিয়ে চলে যায় প্রায় তিন কিলোমিটার দুরে বাবরীঝাড় দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে।

Manual4 Ad Code

জানা যায়, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক যাদুরহাট শাখায় হাজার হাজার গ্রাহক লেনদেন করেছিলেন সচ্ছতার মধ্যে দিয়ে। কিছু অসাধু মানুষের চক্রান্তে হঠাৎ করে এক রাতেই ব্যাংকটি নিয়ে যান বাবরীঝাড় স্কুলে। বাবরীঝাড় ব্যাংকটি যাওয়ায়, যাদুরহাট এলাকার ব্যবসায়ী, সাধারণ জনগণ, প্রতিবন্ধী সহ হাজার হাজার মানুষ অসুবিধায় ও দুর্ভোগে পড়েছে। ব্যাংকটি ১৯৯৪ সাল থেকে যাদুরহাটে সুনামের সহিত কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলেন ব্যাংকের কার্যক্রম চালাতে গেলে এখন আমাদের ফ্লাট ২য় তলা ভবন লাগবে। সেটি জানার পর ব্যাংকের জন্য যাদুরহাটের স্থানীয় লোকজন মনোরম পরিবেশ ও নিরাপত্তা বেষ্টিত ২য় তলা ফ্লাট নির্মানও করেছেন। কিন্তু নিরাপত্তা বেষ্টিত ফ্লাট রেখে চলে যান বাবড়ীঝাড় দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে।

Manual8 Ad Code

এ বিষয়ে চাপড়া সরমজানি ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ মিয়া বলেন, যাদুরহাট কৃষি ব্যাংকটি সুনামের সহিত ১৯৯৪ সাল থেকে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। হঠাৎ করে কিছু অসাধু কর্মচারী কর্মকর্তারা ব্যাংকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাবরীঝাড়ে নিয়ে যান। যাদুরহাটে ২য় তলা ভবন থাকা সত্বেও, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিভাবে ব্যাংক চলে এটা আজব ব্যাপার। আমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য অনুরোধ করছি।

চাপড়া সরমজানি ইউপির ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য মাহবুর রহমান বলেন, ব্যাংকটি হঠাৎ করে অন্যত্র নিয়ে গেলো, আমরা স্থানীয় লোক কেউ জানি না। যাদুরহাটে ব্যাংকটি ৩৪ বছর ধরে আছে সুনামের সহিত। ব্যাংকের জায়গার জন্য আমরা ২য় তলা ফ্লাট বানিয়েছি তবুও তারা এখান থেকে একটি বিদ্যালয়ে নিয়ে যায়। আমাদের দাবী যাদুর হাটেই ব্যাংক থাকতে হবে।

Manual4 Ad Code

প্রতিবন্ধী শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি ব্যাংকের একজন গ্রাহক। আমার বাড়ি বাজারের পাশে। আমাকে মাসিক কিস্তি ব্যাংকে এসে জমা দিতে হয়। ব্যাংকটি হঠাৎ করে বাবরীঝাড় দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়ে যায়। আমার বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার দুরে বাবরীঝাড় দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়। আমি একজন প্রতিবন্ধী মানুষ কিভাবে এতদুরে গিয়ে কিস্তি দিব। আমি চাই আবার যাদুর হাটে ব্যাংকটি আনা হোক। আর যেখানে পড়াশোনা করা হয় সেখানে ব্যাংকের কার্যক্রম কিভাবে চলতে পারে?

বাবরীঝাড় দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জহির উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত রুম থাকার কারনে আমরা তিন বছরের চুক্তিতে একটি রুম ভাড়া দেই। যার মাসিক ভাড়া ৮ হাজার টাকা এবং বিদ্যুৎ বিল এক হাজার টাকা। সে টাকা বিদ্যালয়ের একাউন্টে জমা হয়।

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক যাদুর হাট শাখার ম্যানেজার মাইদুল ইসলামের কাছে বিদ্যালয়ে ব্যাংকের কার্যক্রমের বিষয় জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যাওয়ার সময় বলেন, আপনারা উদ্ধর্তন কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন।

এ বিষয়ে নীলফামারী রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের জোনাল ম্যানেজার মোঃ জাকির হোসেন বলেন, যাদুরহাটে টিনসেট ঘর হওয়ায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পেয়ে বাবড়ীঝাড়ে আনা হয়েছে। তবে যাদুরহাট শাখা নামেই চলবে। স্কুল কমিটি ভাড়া দিয়েছে বলে সেখানে কার্যক্রম চলছে।

জানতে চাইলে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হাফিজুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে কোন ব্যাংক চলতে পারে না। বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে খোজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code