বিদ্যুৎখাতে ভয়াবহ লুটপাটের মাশুল দিচ্ছে দেশবাসী: খন্দকার মুক্তাদির
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সরকার দুর্নীতির জন্য বিদ্যুৎ খাতকে বেছে নিয়েছে। দুর্নীতি লুটপাটের কারণে বিদ্যুতের ভয়াবহ দুরবস্থা। একদিকে মধ্যবিত্তের ওপর ন্যূনতম দুই হাজার টাকা কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে, অন্যদিকে চার কোটি টাকা পর্যন্ত মোট সম্পদের ওপর কোনো সারচার্জ দিতে হবে না। এ পর্যন্ত ক্যাপাসিটি চার্জের নামে ১ লক্ষ কোটি টাকার উপরে লুট করেছে তারা। বাড়তি বিদ্যুৎ ভর্তুকি কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। আগামী অর্থবছরে বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪০% শতাংশ বেশি। বিদ্যুৎখাতে অতিরিক্ত বরাদ্দের মূল কারণ ক্যাপাসিটি চার্জ ও কুইক রেন্টালের নামে অর্থ লোপাটের আরও সুযোগ করে দেয়া। অথচ সারাদেশে মারাত্মক লোডশেডিং চলছেই। গ্রামে তো বিদ্যুৎ বলতে গেলে থাকেই না। রাজধানীতেই বিদ্যুৎ লোডশেডিং এ সকলের ত্রাহি অবস্থা। অথচ উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ফেরী করে বিক্রি করতে হবে পার্লামেন্টে অহমিকা করেছে সরকার। বিদ্যুৎখাতে সরকারের ভয়াবহ লুটপাটের মাশুল দিচ্ছে দেশবাসী।
বৃহষ্পতিবার (৮ জুন) সকালে অসহনীয় লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক দুর্নীতির প্রতিবাদে বিএনপির কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেট জেলা বিএনপির উদ্যোগে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বাগবাড়ী (নবাবরোড) অফিসের সম্মুখে অবস্থান কর্মসূচি ও বিউবো, প্রধান প্রকৌশলীর বরাবরে স্মারকলিপি প্রদানকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অবস্থান কর্মসূচিতে দেশ পরিচালনায় সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ এই সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করার আহবান জানান বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বিদ্যুৎখাতে সরকার লুটপাট চালাচ্ছে। বিদ্যুতের দাম ইচ্ছামতো বৃদ্ধি করা হয়েছে। জনগণের কাছ থেকে ঠিকই বিদ্যুতের বিল আদায় করে নেওয়া হচ্ছে। অথচ জনগণকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ দিতে পারছে না সরকার। ইতিমধ্যেই পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র কয়লার অভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ছোট ছোট বিদ্যুতের প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার দেশের মানুষের জন্য বিদ্যুৎ দিতে পারে না অথচ তারা জাতীয় সংসদে বড় আকারের বাজেট পেশ করেছেন। দেশের মালিক জনগণ। আমরা জনগণের মালিকানা উদ্ধার করে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যই রাজপথে আন্দোলন করছি।গণতন্ত্রকে উদ্ধারের জন্য রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে যদি জীবন দিতে হয় তবুও জিয়ার সৈনিকরা পিছু হটবে না।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন- সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মামুনুর রশিদ (চাকসু), মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহবায়ক ও কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
অবস্থান কর্মসূচিতে সিলেট জেলা বিএনপি, সিলেট মহানগর বিএনপি, বিভিন্ন উপজেলা, পৌর ও মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী তীব্র গরম উপেক্ষা করে অংশ নেন।
অবস্থান কর্মসূচি শেষে বিএনপির ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, সিলেটের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।
Related News
দক্ষিণ সুরমায় ছুরিকাঘাতে বৃদ্ধকে হত্যা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ছুরিকাঘাতে নূর ইসলাম (৫৫) নামে এক বৃদ্ধকে হত্যা করাRead More
ব্যবসায়ীদের অস্তিত্ব রক্ষায় সিলেটে বাণিজ্য মেলা বন্ধের দাবি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট, তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট (লোডশেডিং) ও ব্যবসায়িক মন্দার মধ্যে সিলেটেRead More



Comments are Closed